পাথরঘাটা, বরগুনা: পাথরঘাটা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ‘পরকীয়া’ অভিযোগ তুলে এক নারী ও এক যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাথরঘাটা আমলি আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখের নির্দেশনায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ মুবিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালতের নির্দেশনা
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ভাইরাল ভিডিওতে এক নারী ও এক পুরুষকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে। নির্যাতনের সময় নারীর তিন মাসের শিশু সন্তানকে তার কোল থেকে আলাদা করে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
প্রাথমিকভাবে শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের উপাদান রয়েছে বলে আদালত মত দেন।
আদালত পাথরঘাটা থানা-র অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ভাইরাল ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।
অভিযুক্তের পক্ষে মানববন্ধন ঘটনার পরদিন বুধবার সকালে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ছগির আলমের সমর্থনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় দুলাল খন্দকার ওই নারীকে এলাকা থেকে উৎখাতের হুমকি দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক আফাং আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক বক্তা দাবি করেন, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা রয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ
নির্যাতনের শিকার নারী সাংবাদিকদের জানান, জমিজমা বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার সন্তানকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে রশি দিয়ে বেঁধে বেদম মারধর করেছে এবং বর্তমানে প্রকাশ্যে এলাকা থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সমাজ উন্নয়নকর্মী গোলাম কিবরিয়া এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কোনো মগের মুল্লুক নয়। কেউ অপরাধ করলে বিচারব্যবস্থা রয়েছে। আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কোনো চেয়ারম্যান বা তার সমর্থকদের কাউকে এলাকা ছাড়া করার অধিকার নেই।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তদন্ত চলছে। ভাইরাল ভিডিওতে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজলাঠিমারা এলাকায় ‘পরকীয়া’র অভিযোগ তুলে এক নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার তিন মাসের শিশু সন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ওই নারীর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে। পাশে শিশু সন্তানের কান্নার শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ছগির আলমকে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ এখন সবার নজরে।
পাথরঘাটায় জমিজমা বিরোধের জেরে ‘পরকীয়া’ অভিযোগে নির্যাতন: আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা, অভিযুক্তের পক্ষে মানববন্ধন
পাথরঘাটায় জমিজমা বিরোধের জেরে ‘পরকীয়া’ অভিযোগে নির্যাতন: আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা, অভিযুক্তের পক্ষে মানববন্ধন
পাথরঘাটা, বরগুনা: পাথরঘাটা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ‘পরকীয়া’ অভিযোগ তুলে এক নারী ও এক যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাথরঘাটা আমলি আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখের নির্দেশনায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ মুবিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আদালতের নির্দেশনাআদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ভাইরাল ভিডিওতে এক নারী ও এক পুরুষকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে। নির্যাতনের সময় নারীর তিন মাসের শিশু সন্তানকে তার কোল থেকে আলাদা করে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। প্রাথমিকভাবে শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের উপাদান রয়েছে বলে আদালত মত দেন। আদালত পাথরঘাটা থানা-র অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ভাইরাল ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে। অভিযুক্তের পক্ষে মানববন্ধন ঘটনার পরদিন বুধবার
সকালে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ছগির আলমের সমর্থনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় দুলাল খন্দকার ওই নারীকে এলাকা থেকে উৎখাতের হুমকি দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক আফাং আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক বক্তা দাবি করেন, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগনির্যাতনের শিকার নারী সাংবাদিকদের জানান, জমিজমা বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার সন্তানকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে রশি দিয়ে বেঁধে বেদম মারধর করেছে এবং বর্তমানে প্রকাশ্যে এলাকা থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়াস্থানীয় সমাজ উন্নয়নকর্মী গোলাম কিবরিয়া এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কোনো মগের মুল্লুক নয়। কেউ অপরাধ করলে বিচারব্যবস্থা রয়েছে। আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কোনো চেয়ারম্যান বা তার সমর্থকদের কাউকে এলাকা ছাড়া করার অধিকার নেই।” পুলিশের বক্তব্যএ বিষয়ে পাথরঘাটা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তদন্ত চলছে। ভাইরাল ভিডিওতে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনার প্রেক্ষাপটগত রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজলাঠিমারা এলাকায় ‘পরকীয়া’র অভিযোগ তুলে এক নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার তিন মাসের শিশু সন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ওই নারীর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে। পাশে শিশু সন্তানের কান্নার শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ছগির আলমকে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে এ ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ এখন সবার নজরে।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত