বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
বিশ্ব ‘অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করুন’, নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
logo

‘অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করুন’, নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্র নির্দেশনা দিয়েছে নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে  নিরাপত্তাহীনতার কারণে এমন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এ সতর্কতা জারি করে। খবর এনডিটিভি

এখনই ইরান ত্যাগ করুন উল্লেখ করে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সেই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করছে এবং তা সহিংস রূপ নিতে পারে, যার ফলে গ্রেপ্তার, আহত হওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’

দূতাবাস জানিয়েছে, ইরানজুড়ে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠতে পারে এবং এ প্রেক্ষিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়,বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সড়ক বন্ধ, গণপরিবহন ব্যাহত এবং ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়,ইরান সরকার মোবাইল, ল্যান্ডলাইন এবং জাতীয় ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে।

ভ্রমণ সংক্রান্ত বিঘ্নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়,এয়ারলাইনগুলো ইরান থেকে ও ইরানে ফ্লাইট সীমিত বা বাতিল করছে, এবং বেশ কয়েকটি সংস্থা ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের পরিষেবা স্থগিত রেখেছে।

মার্কিন নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে দূতাবাস পরামর্শ দিয়েছে, স্থলপথে আর্মেনিয়া ও তুরস্ক হয়ে ইরান ত্যাগ করার কথা বিবেচনা করতে।

সতর্কবার্তায় বলা হয়,মার্কিন নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি ইন্টারনেট বিভ্রাটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার পরিকল্পনা করতে হবে এবং যদি নিরাপদ হয়, তবে স্থলপথে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক হয়ে ইরান ত্যাগ করার কথা বিবেচনা করতে হবে।

জোর দিয়ে সতর্কবার্তায় বলা হয়,এখনই ইরান ত্যাগ করুন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভর না করে ইরান ত্যাগের পরিকল্পনা রাখুন।

যারা ইরান ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের জন্য দূতাবাস নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার এবং জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ‘আপনি যদি যেতে না পারেন, তবে নিজের বাসভবন বা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনের মধ্যে একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন। খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মজুত রাখুন,’ বলা হয় মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তায়।

সতর্কবার্তায় বিশেষ করে ‘দ্বৈত নাগরিকদের’ জন্য গুরুতর ঝুঁকির কথা পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে। ‘মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করতে হলে ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না এবং মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের শুধুমাত্র ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে,’ এতে বলা হয়।

আরও বলা হয়,মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার এবং আটক হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। মার্কিন পাসপোর্ট প্রদর্শন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দেখানোই ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে কাউকে আটক করার জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে।

এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এলো, যখন আজারবাইজান প্রদেশ ও মধ্যাঞ্চলীয় শহর আরাকসহ বিভিন্ন প্রদেশে বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ইরানের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে পতাকা নাড়িয়েছে। এসব বিক্ষোভ ও পাল্টা-বিক্ষোভ চলছে চড়া মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনরোষের প্রেক্ষাপটে।

হিউম্যান রাইটস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫৪৪ জন নিহত হয়েছে এবং ১০ হাজার ৬৮১ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে, যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কূটনীতি এখনো প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ।

ইরান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এবং চলমান বিক্ষোভ সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া শেষ হতে পারে কি না—এ বিষয়ে লেভিট বলেন,প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বড় শক্তি হলো, তিনি সবসময় সব বিকল্প খোলা রাখেন, এবং বিমান হামলা কমান্ডার-ইন-চিফের সামনে থাকা বহু বিকল্পের একটি। কূটনীতি সবসময়ই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ।

খুঁজুন