নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার বিষাক্ত ক্যামিকেলমেশানো কাচা সুপারি উত্তরের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। আর পানের সাথে ওই সুপারি খেয়ে প্রায় লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যঝুকিতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কালো চশমা পড়ে একেবারেই নিশ্চুপ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাইকারি সুপারির আড়ৎ হচ্ছে সৈয়দপুরে। এ আড়তের ব্যাবসায়িরা দেশের দক্ষিনাঞ্চলের বরিশাল,খুলনা,বাগেরহাট,নোয়াখালি,পঞ্চগড়,ও চিলাহাটি হতে কাঁচা সুপারি এনে দুর্গন্ধ যুক্ত পানিতে পচানোর জন্য ভিজিয়ে রাখেন।
প্রায় ২/৪ মাস পর সেগুলো তুলে মেশানো হয় বিষাক্ত ক্যামিকেল। পরে পাশ্ববতি প্রায় ১৬ জেলার ব্যাবসায়িরা এ আড়ৎ হতে সুপারি কিনে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যান। এতে ব্যাপক সুপারি সরবরাহ হয় সৈয়দপুরের এই আড়ত থেকে।
সুপারি ব্যাবসায়িরা জানায়, সৈয়দপুরের আড়তদারদের কাচা সুপারি উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব জেলায় যায়। খুচরা ব্যাবসায়িদের এ সুপারির প্রতি আগ্রহ বেশি হয়, কারন দাম তুলনামুলক কম। আর শুকনা সুপারি বছরে ৩ মাস পাওয়া যায়। ফলে নির্ভর করতে হয় পানিতে পচা সুপারির ওপর।
তাই চাহিদার কারনে পানিতে পচা দুর্গন্ধ দুুর করতে হাইড্রোস মিশানো সুপারি পাঠালে ব্যাবসায়ীরা খুশী হয়। দুর্গন্ধ যুক্ত সুপারিতে হাইড্রোস মেশালে যেমন দুর্গন্ধ থাকে না তেমনি রঙ ও ভালো থাকে। পাশাপাশি সহজে নষ্টও হয়না। নানা কারণে বর্তমান বাজর মুল্য অনুপাতে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার পানিতে পচা বা হাইড্রোজ মিশ্রিত সুপারি এ পাইকারী বাজারে ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।
আর হাইড্রোস মিশ্রিত সুপারি দিয়ে মানবদেহের ক্ষতিকারক জর্দার সাথে পান সেবন করায় নিরবে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ।
সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের পাশে পান দোকানদার মোহাম্মদ আলী ও সাব্বির জানান, শতকরা ৮০জন পান সেবী হাইড্রোস মিশ্রিত কাচা সুপারির সাথে জর্দা খোরদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।ফলে বাধ্য হয়েই ক্যামিকেলমিশ্রিত কাচা সুপারি ও জর্দার সাথে পান বিক্রয় করছি। তবে ক্ষতির কথা না জানলেও এতে হাইড্রোস মিশ্রিতের কথা স্বিকার করেন পান দোকানিরা।
দীর্ঘদিন যাবত বিষাক্ত ক্যামিকেলমিশ্রিত সুপারির এ ব্যাবসা চললেও এ তথ্য জানেন না বলে জানান সৈয়দপুর পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোঃ আকমল হোসেন রাজু। তবে মানবদেহের জন্য এমন ক্ষতিকর সুপারি যারা বাজারজাতে সহায়তা করছে তা তদন্ত করে উর্ধ্বতনদের নিয়ে বন্ধের ব্যাবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাজনৈতিক সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আঃ গফুর সরকার বলেন, সুপারি ও পান এ অঞ্চলের মানুষ বেশি সেবন করেন। সুপারিতে বিষ মিশিয়ে বিক্রি করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে,তাই এটি দ্রুত বন্ধে প্রশাসনকে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি।
এবিষয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মাসুম আল আরেফিন বলেন, হাইড্রোস হচ্ছে একটি বিষাক্ত ক্যামিকেল। এটি কোন ভাবেই প্রানি দেহে সামান্য পরিমান সেবনের অনুমতি নেই। এর ক্ষতিকর প্রভাবে কিডনি ও লিভার নষ্ট সহ শরীরে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা শতভাগ।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, হাইড্রোস মিশ্রিত সুপারি সেবীদের ঠোটের দুই কোনে সাদা ঘা হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এর পর সেখান থেকে ক্যান্সারে রুপ নিতে পারে। দেশ প্রধান অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এসব বন্ধে অচিরেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাইকারি সুপারির আড়ৎ হচ্ছে সৈয়দপুরে। এ আড়তের ব্যাবসায়িরা দেশের দক্ষিনাঞ্চলের বরিশাল,খুলনা,বাগেরহাট,নোয়াখালি,পঞ্চগড়,ও চিলাহাটি হতে কাঁচা সুপারি এনে দুর্গন্ধ যুক্ত পানিতে পচানোর জন্য ভিজিয়ে রাখেন।
প্রায় ২/৪ মাস পর সেগুলো তুলে মেশানো হয় বিষাক্ত ক্যামিকেল। পরে পাশ্ববতি প্রায় ১৬ জেলার ব্যাবসায়িরা এ আড়ৎ হতে সুপারি কিনে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যান। এতে ব্যাপক সুপারি সরবরাহ হয় সৈয়দপুরের এই আড়ত থেকে।
সুপারি ব্যাবসায়িরা জানায়, সৈয়দপুরের আড়তদারদের কাচা সুপারি উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব জেলায় যায়। খুচরা ব্যাবসায়িদের এ সুপারির প্রতি আগ্রহ বেশি হয়, কারন দাম তুলনামুলক কম। আর শুকনা সুপারি বছরে ৩ মাস পাওয়া যায়। ফলে নির্ভর করতে হয় পানিতে পচা সুপারির ওপর।
তাই চাহিদার কারনে পানিতে পচা দুর্গন্ধ দুুর করতে হাইড্রোস মিশানো সুপারি পাঠালে ব্যাবসায়ীরা খুশী হয়। দুর্গন্ধ যুক্ত সুপারিতে হাইড্রোস মেশালে যেমন দুর্গন্ধ থাকে না তেমনি রঙ ও ভালো থাকে। পাশাপাশি সহজে নষ্টও হয়না। নানা কারণে বর্তমান বাজর মুল্য অনুপাতে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার পানিতে পচা বা হাইড্রোজ মিশ্রিত সুপারি এ পাইকারী বাজারে ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।
আর হাইড্রোস মিশ্রিত সুপারি দিয়ে মানবদেহের ক্ষতিকারক জর্দার সাথে পান সেবন করায় নিরবে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ।
সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের পাশে পান দোকানদার মোহাম্মদ আলী ও সাব্বির জানান, শতকরা ৮০জন পান সেবী হাইড্রোস মিশ্রিত কাচা সুপারির সাথে জর্দা খোরদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।ফলে বাধ্য হয়েই ক্যামিকেলমিশ্রিত কাচা সুপারি ও জর্দার সাথে পান বিক্রয় করছি। তবে ক্ষতির কথা না জানলেও এতে হাইড্রোস মিশ্রিতের কথা স্বিকার করেন পান দোকানিরা।
দীর্ঘদিন যাবত বিষাক্ত ক্যামিকেলমিশ্রিত সুপারির এ ব্যাবসা চললেও এ তথ্য জানেন না বলে জানান সৈয়দপুর পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোঃ আকমল হোসেন রাজু। তবে মানবদেহের জন্য এমন ক্ষতিকর সুপারি যারা বাজারজাতে সহায়তা করছে তা তদন্ত করে উর্ধ্বতনদের নিয়ে বন্ধের ব্যাবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাজনৈতিক সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আঃ গফুর সরকার বলেন, সুপারি ও পান এ অঞ্চলের মানুষ বেশি সেবন করেন। সুপারিতে বিষ মিশিয়ে বিক্রি করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে,তাই এটি দ্রুত বন্ধে প্রশাসনকে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি।
এবিষয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মাসুম আল আরেফিন বলেন, হাইড্রোস হচ্ছে একটি বিষাক্ত ক্যামিকেল। এটি কোন ভাবেই প্রানি দেহে সামান্য পরিমান সেবনের অনুমতি নেই। এর ক্ষতিকর প্রভাবে কিডনি ও লিভার নষ্ট সহ শরীরে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা শতভাগ।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, হাইড্রোস মিশ্রিত সুপারি সেবীদের ঠোটের দুই কোনে সাদা ঘা হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এর পর সেখান থেকে ক্যান্সারে রুপ নিতে পারে। দেশ প্রধান অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এসব বন্ধে অচিরেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব