বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা মাত্র ২৯ কার্যদিবসে বিচার: মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় ঘাতক শাকিলের মৃত্যুদণ্ড
logo

মাত্র ২৯ কার্যদিবসে বিচার: মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় ঘাতক শাকিলের মৃত্যুদণ্ড

দেশে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচারের এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো মেহেরপুরে। গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনাপ্রবাহের মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হলো।

​আজ রবিবার (২৪ মে) দুপুরে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় শোনান। দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল চাঁদপুর গ্রামের আবদাল হকের ছেলে।

যেভাবে দ্রুততম সময়ে এলো এই রায়:
​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন চাঁদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ইছানুল হকের ৯ বছর বয়সী শিশুকন্যা মাঠে তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শাকিল হোসেন তাকে কৌশলে ডেকে একটি পাটখেতে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। শিশুর কান্নাকাটি শুনে মাঠের কৃষকরা এগিয়ে এলে শাকিল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে দুপুরের দিকে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

​ঘটনার পর শিশুর বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

প্রযুক্তির ছোঁয়া ও আইনি প্রক্রিয়া:
​মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালত এক প্রযুক্তিকে কাজে লাগায়। দূরের সাক্ষীদের সশরীরে আদালতে আসার ভোগান্তি এড়াতে ভার্চুয়াল সাক্ষ্যগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দেন।

​সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬, ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

​আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন।

​আদালত সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য: মাত্র ২৯ কার্যদিবসে এই রায় ঘোষণা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও সদিচ্ছা থাকলে যে দ্রুততম সময়ে ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার দেওয়া সম্ভব, এই রায় তারই প্রমাণ।

খুঁজুন