মা-বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়নের উত্তর ধুম গ্রামে বাবা তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য মরহুম এস রহমান ও মা পাঞ্জুবের নেছার পাশে তাকে চিরশায়িত করা হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫ টায় নিজের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মিরসরাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। জানাজার আগে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল।
মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান রুহেল বলেন, 'আমার আব্বা মিরসরাই, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জীবদ্দশায় উনার যতটুকু সম্ভব করে গেছেন। উনার আরো অনেক স্বপ্ন ছিল যেগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার তা ভবিষ্যত প্রজন্ম অবশ্যই করবে। উনি একটা কথা বলেছিলেন একদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও থাকবেন না, উনিও থাকবেন না, বাংলাদেশ থাকবে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্ম থাকবে এবং তারা যেন বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে রাখে, আমাদেরও এটাই প্রত্যাশা। উনি বিগত ৫০ বছর গনমানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। উনার থেকে শিক্ষা নেওয়ার যেটি আছে উনি যেমন দেশপ্রেমিক ছিল, মানুষের জন্য কাজ করতো ঠিক একিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।'
মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি চলে গেছেন। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমরা আমার বাবাকে তেমন একটা পাইনি ভাইবোন যারা আছি, উনি উনার জীবনের বেশিরভাগ সময় উৎসর্গ করেছেন দেশের মানুষের জন্য। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।'
মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়নের ধুম গ্রামে। বাবা এস রহমান ষাটের দশকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে চলে আসেন এবং ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স কর্পোরেশন’ নামে একটি কম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করেন।
মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেন। এরপর লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ছয় দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
লাহোর থেকে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মুক্তিযোদ্ধা ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।
১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন মিরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।
আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গত ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় জানাযা এবং বুধবার বিকেল ৫ টায় ঢাকার গুলশান আজাদ মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
মা-বাবার কবরের পাশে চিরশায়িত ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন
মা-বাবার কবরের পাশে চিরশায়িত ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন
মা-বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়নের উত্তর ধুম গ্রামে বাবা তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য মরহুম এস রহমান ও মা পাঞ্জুবের নেছার পাশে তাকে চিরশায়িত করা হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫ টায় নিজের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মিরসরাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। জানাজার আগে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল।মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান রুহেল বলেন, 'আমার আব্বা মিরসরাই, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জীবদ্দশায় উনার যতটুকু সম্ভব করে গেছেন। উনার আরো অনেক স্বপ্ন ছিল যেগুলো বাস্তবায়ন করা দরকার তা ভবিষ্যত প্রজন্ম অবশ্যই করবে। উনি একটা কথা বলেছিলেন একদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও থাকবেন না, উনিও থাকবেন না, বাংলাদেশ থাকবে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্ম থাকবে এবং তারা যেন বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে রাখে, আমাদেরও এটাই প্রত্যাশা। উনি বিগত ৫০ বছর গনমানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। উনার থেকে শিক্ষা নেওয়ার যেটি আছে উনি যেমন দেশপ্রেমিক
ছিল, মানুষের জন্য কাজ করতো ঠিক একিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।'মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি চলে গেছেন। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমরা আমার বাবাকে তেমন একটা পাইনি ভাইবোন যারা আছি, উনি উনার জীবনের বেশিরভাগ সময় উৎসর্গ করেছেন দেশের মানুষের জন্য। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।'মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়নের ধুম গ্রামে। বাবা এস রহমান ষাটের দশকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে চলে আসেন এবং ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স কর্পোরেশন’ নামে একটি কম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করেন।মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেন। এরপর লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ছয় দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।লাহোর থেকে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মুক্তিযোদ্ধা ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন
মিরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গত ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন।প্রসঙ্গত, এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় জানাযা এবং বুধবার বিকেল ৫ টায় ঢাকার গুলশান আজাদ মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত