নীলফামারী সৈয়দপুরে রেলপথের ১হাজার ৪৪০ মিটার লুপ লাইনের সংস্কার ও পূনঃনিমার্ণ কাজ রেখে পলাতক রয়েছেন যশোর ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ক্যাসেল কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা না করে পালিয়ে যায় ওই ঠিকাদার।
জানা যায় ভারতের সিলিগুড়ি ও বাংলাদেশের পন্য আনা নেয়ার সুবিধার্থে ১হাজার ৪৪০ মিটার রেলপথ সংস্কার করতে ২০২২ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সৈয়দপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের উত্তর পার্শে রেলওয়ের সংকেত ঘর ও দক্ষিণ পার্শে ২ নং রেল ক্রসিং পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪০ মিটার রেলপথ সংস্কার ও পুনঃনিমার্ণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৭ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই প্রতিষ্ঠানের নামে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সে অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী কাজ শেষ করার কথা কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এরপর ৪ দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে কাজ সম্পুর্ণ করে রেলকে হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০ ভাগ কাজ করে বাকী কাজ ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়েছেন ।
রেল কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারতের সিলিগুড়ি থেকে আমদানী করা পাথর ষ্টেশন এলাকায় ওয়াগান থেকে ভেকু দিয়ে পন্যবাহী ট্রাকে লোড করার কারণে সৈয়দপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের পূর্ব পার্শে লুপ লাইনগুলো বেহাল হয়ে যায়। এ কারণে প্রায় সময় মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে যেতো।
রেল কর্তৃপক্ষ ওই লাইনগুলো সংস্কারে বরাদ্দ দেয় ৭ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। ওই কাজটি মেসর্সা ক্যাসেল কন্সট্রাকশন লিমিটেড কে লুপলাইনের রেলপথে রেললাইন বসালেও অনেক স্থানে ক্লিপ লাগায়নি, পাথরও দেওয়া হয়নি অনেক স্থানে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই কন্সট্রাকশনের মালিক নাবিল আহমেদ একজন আওয়ামী লীগের বড় নেতা । ২০২৪ সালে আওয়ামী সরকার পতনের পর বেশ কয়েকমাস কাজ করেছেন তিনি। পরে গ্রেফতার আতঙ্কে অর্থ সংকটের কথা বলে লাপাত্তা হয়েছেন ।
রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী করা মালামাল ওই লুপলাইনে পন্যবাহী বগি দাড় করিয়ে আনলোড করা হতো। এতে প্রতি মাসে আয় হতো প্রায় ৬ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কিন্তু ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী থেকে ওই লুপলাইন ব্যবহার অযোগ্য থাকায় কোনো কাজই আসছে না। তিনি বলেন, লুপলাইন সংস্কার করার ঠিকাদার কাজী নাবিল আহমেদের সাথে লুপলাইনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উর্দ্ধতন উপসহকারি প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। ওই ঠিকাদার কোথায় এবং কাজটি কেন বন্ধ রয়েছে তা তিনি ভালো বলতে পারবেন।
উপসহকারি প্রকৌশলী/ পথ/ কারখানার একটি সূত্র জানায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রসার করতে লুপলাইনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেটির কাজ শেষ না করেই শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করার পর গা ঢাকা দেয় ওই ঠিকাদারও। এরপর ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত উর্দ্ধতন প্রকৌশলী আব্দুল মতিনও ঠাকুরগাঁও বদলি নিয়ে চলে যান। রেল লাইন সংস্কারের বরাদ্দকৃত অর্থ ঠিকাদারের সাথে প্রকৌশলী আব্দুল মতিনও নয়-ছয় করেছেন বলে জানান ওই সূত্রটি।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার নাবিল আহমেদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা চেষ্টা করেও দেখা না পাওয়ায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কথা হয় বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহাকারি প্রকৌশলী আল-আমিনের সাথে তিনি বলেন, আমি ২০২৫ সালের ২৮ জুন এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি আমার আগে সুলতান মৃধা নামের এক প্রকৌশলীও দায়িত্বে ছিলেন। তারা কি করেছেন এবং কেনই বা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি লুপ লাইনের কাজ শেষ না করে লাপাত্তা হয়েছেন তা তারাই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন,
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব
জানা যায় ভারতের সিলিগুড়ি ও বাংলাদেশের পন্য আনা নেয়ার সুবিধার্থে ১হাজার ৪৪০ মিটার রেলপথ সংস্কার করতে ২০২২ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সৈয়দপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের উত্তর পার্শে রেলওয়ের সংকেত ঘর ও দক্ষিণ পার্শে ২ নং রেল ক্রসিং পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪০ মিটার রেলপথ সংস্কার ও পুনঃনিমার্ণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৭ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই প্রতিষ্ঠানের নামে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সে অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী কাজ শেষ করার কথা কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এরপর ৪ দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে কাজ সম্পুর্ণ করে রেলকে হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০ ভাগ কাজ করে বাকী কাজ ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়েছেন ।
রেল কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারতের সিলিগুড়ি থেকে আমদানী করা পাথর ষ্টেশন এলাকায় ওয়াগান থেকে ভেকু দিয়ে পন্যবাহী ট্রাকে লোড করার কারণে সৈয়দপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের পূর্ব পার্শে লুপ লাইনগুলো বেহাল হয়ে যায়। এ কারণে প্রায় সময় মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে যেতো।
রেল কর্তৃপক্ষ ওই লাইনগুলো সংস্কারে বরাদ্দ দেয় ৭ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। ওই কাজটি মেসর্সা ক্যাসেল কন্সট্রাকশন লিমিটেড কে লুপলাইনের রেলপথে রেললাইন বসালেও অনেক স্থানে ক্লিপ লাগায়নি, পাথরও দেওয়া হয়নি অনেক স্থানে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই কন্সট্রাকশনের মালিক নাবিল আহমেদ একজন আওয়ামী লীগের বড় নেতা । ২০২৪ সালে আওয়ামী সরকার পতনের পর বেশ কয়েকমাস কাজ করেছেন তিনি। পরে গ্রেফতার আতঙ্কে অর্থ সংকটের কথা বলে লাপাত্তা হয়েছেন ।
রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী করা মালামাল ওই লুপলাইনে পন্যবাহী বগি দাড় করিয়ে আনলোড করা হতো। এতে প্রতি মাসে আয় হতো প্রায় ৬ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কিন্তু ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী থেকে ওই লুপলাইন ব্যবহার অযোগ্য থাকায় কোনো কাজই আসছে না। তিনি বলেন, লুপলাইন সংস্কার করার ঠিকাদার কাজী নাবিল আহমেদের সাথে লুপলাইনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উর্দ্ধতন উপসহকারি প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। ওই ঠিকাদার কোথায় এবং কাজটি কেন বন্ধ রয়েছে তা তিনি ভালো বলতে পারবেন।
উপসহকারি প্রকৌশলী/ পথ/ কারখানার একটি সূত্র জানায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রসার করতে লুপলাইনটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সেটির কাজ শেষ না করেই শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করার পর গা ঢাকা দেয় ওই ঠিকাদারও। এরপর ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত উর্দ্ধতন প্রকৌশলী আব্দুল মতিনও ঠাকুরগাঁও বদলি নিয়ে চলে যান। রেল লাইন সংস্কারের বরাদ্দকৃত অর্থ ঠিকাদারের সাথে প্রকৌশলী আব্দুল মতিনও নয়-ছয় করেছেন বলে জানান ওই সূত্রটি।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার নাবিল আহমেদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা চেষ্টা করেও দেখা না পাওয়ায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কথা হয় বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহাকারি প্রকৌশলী আল-আমিনের সাথে তিনি বলেন, আমি ২০২৫ সালের ২৮ জুন এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি আমার আগে সুলতান মৃধা নামের এক প্রকৌশলীও দায়িত্বে ছিলেন। তারা কি করেছেন এবং কেনই বা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি লুপ লাইনের কাজ শেষ না করে লাপাত্তা হয়েছেন তা তারাই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন,
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব