বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা খুলনায় কর্মরত পুলিশের কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, ভোরে আত্মহত্যা করেন
logo

খুলনায় কর্মরত পুলিশের কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, ভোরে আত্মহত্যা করেন

খুলনায় নিজ নামে ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন সম্রাট বিশ্বাস নামে এক কনস্টেবল। তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি-দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আজ শনিবার ১৮ এপ্রিল ভোরে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে অস্ত্রাগারে দায়িত্বরত অবস্থায় সম্রাট নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন সম্রাট বিশ্বাস গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চর পদ্মবিলা গ্রামের শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে।

বিকেল সাড়ে ০৫টার দিকে খুলনা থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সম্রাটের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশ এলাকার বাসিন্দা এবং অনেক সাধারণ সাধারণ মানুষের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে: দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সম্রাট সবার ছোট। 

বড় বোন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ও ছোট বোন মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। ২০১৮ সালে পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান সম্রাট। চাকরিরত অবস্থায় প্রেমে জড়িয়ে পড়েন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পুঁজা দাশের সঙ্গে। 

ছয় মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে রেজিস্ট্রি করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। সামনের মাসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কথা ছিল তাদের। কয়েকদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল সম্রাট ও তার স্ত্রীর মধ্যে। গতরাতে স্ত্রীর সঙ্গে অনেক রাগারাগি হয় সম্রাটের। মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ ছিলেন তিনি। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যরা। 

সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় বলেন: আমরা খবর পেয়ে খুলনা গিয়ে আমার ভাগ্নের মরদেহ হাসপাতালে পড়ে থাকতে দেখি। গত ৬ মাস আগে আমাদের সে জানায় সাতক্ষীরা পুলিশে চাকরি করে এক মেয়েকে সে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে আমরা আর কিছু না ভেবে দুই পরিবার থেকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে দেই। 

বিয়ের পর থেকে পরিবারে সে এক টাকাও দিত না। সব বউ নিয়ে যেতিনি আরও বলেন, ওর সহকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি প্রতিদিনই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। গতরাতে ফোনে দুজনের মধ্যে রাগারাগি হয়। এরপরই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

সম্রাট বিশ্বাসের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন বলেন, আমার শালাবাবু মা-বাবার সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল না। পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে যা বলতো পরিবার তাই মেনে নিত। ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছে পরিবার তাই মেনে নিয়েছে। 

স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন যাবৎ ওর ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এর কারণেই ও আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া আমরা আর কোনো কারণ খুঁজে পাই না। ওর সহকর্মীরাও বলেছে গতরাতে ওদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। 

আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর বিচার আওতায় আনব খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সম্রাট বিশ্বাস আজ ভোরে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

খুঁজুন