বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা খুলনায় মাদকের নতুন কৌশল : ফের সক্রিয় পরানো চক্র
logo

খুলনায় মাদকের নতুন কৌশল : ফের সক্রিয় পরানো চক্র

মীর মোশাররফ হোসেন : খুলনা মহানগরীতে মাদক ব্যবসা থামেনি, বরং সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে এর ধরন, কৌশল ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে ‘ম্যানেজমেন্ট’ বদলালেও মাঠে সক্রিয় রয়েছে একই চক্র এমনটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে।

গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ছাড়া এ ব্যবসা টিকে থাকা কঠিন। ক্ষমতায় থাকা দলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই একই গোষ্ঠী বছরের পর বছর মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানে মাদক সরবরাহের পদ্ধতিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে আসা বড় চালান শহরের বাইরে মজুদ রাখা হয়। পরে ছোট ছোট ভাগে তা নগরীতে এনে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিশোর ও তরুণদের, যাদের অনেকেই পরে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের তথ্যমতে, খুলনায় এমন গ্যাং সদস্যের সংখ্যা দুই শতাধিক। শহরকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ করছে চক্রগুলো, যার ফলে এলাকা দখল নিয়ে সংঘর্ষও বাড়ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, রূপসা সেতু এলাকা বড় চালান হাতবদলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মাদক পরিবহনে আলাদা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা নাগরিক ও শিক্ষার্থীদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নতুন করে মাদক বাহক ও ভোক্তা—দুই-ই তৈরি হচ্ছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাদক দমনে নিয়োজিত বাহিনীর কিছু সদস্যও এই কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন। সম্প্রতি ইয়াবার চালান আনার সময় এক পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাশাপাশি উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ কম দেখানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, মাদকের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক ব্যবসার এই পরিবর্তিত রূপ দমনে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও কঠোর নজরদারি।

খুঁজুন