খুলনার খুলনা নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ লবণচরা রায়পাড়া কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় আলোচিত চার বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল মাওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি তোতা মিয়াকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার গোসাইরগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু জান্নাতুল মাওয়া খুলনার লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শাহ জালাল (৩৮) ও আফরোজা আক্তার রুমির মেয়ে। গ্রেফতারকৃত তোতা মিয়া (৫০) ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার পুটিয়াখালী গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী ব্যাপারীর ছেলে এবং তিনি পরিবারের দূরসম্পর্কের আত্মীয় মামা।
ঘটনার দিন গত ২৩ মার্চ শাহ জালালের শ্যালকের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে তোতা মিয়া লবণচরার সাচিবুনিয়া সুইচগেট এলাকায় শাহ জালালের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন।দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে তিনি শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় শিশুকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন।
পরে তোতা মিয়ার মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তিনি জানান, শিশুকে নিয়ে সুইচগেট এলাকায় আছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিবার তাকে খুঁজে পায়নি এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় শাহ জালালের পরিবার লবণচরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ২৪ মার্চ রাত ১টা ৩০ মিনিটে তোতা মিয়া ইমোতে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানায়, “ভিকটিম জান্নাতুল মাওয়ার মৃতদেহ হরিণটানা গেটের বাম পাশে পাবি।
পরে পুলিশ হরিণটানা গেটের বিপরীত পাশে মহাসড়ক থেকে প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে একটি খেজুর বাগান থেকে শিশুটির মরদেহ, তার ব্যবহৃত জুতা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর শাহ জালাল বাদী হয়ে তোতা মিয়াকে প্রধান আসামি করে লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২, তারিখ ২৫ মার্চ ২০২৬, ধারা-৩০২ পেনাল কোড)। মামলাটি পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিট তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং খুলনা জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন (পিপিএম-সেবা)-এর নেতৃত্বে একটি দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তোতা মিয়া হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। জানা গেছে, তিনি ১৯৯৭ সালে প্রথম স্ত্রীকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় ১৯ বছর কারাভোগ করে ২০২০ সালে মুক্তি পান।
পরে ২০২৩ সালে তিনি ময়না বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি ওই স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করলে ক্ষোভ থেকে ভিকটিমের পরিবারকে দায়ী করে প্রতিশোধ নিতে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দিও দিয়েছেন।মামলার তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই খুলনা জেলার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন এবং তদন্ত করছেন এসআই মোঃ হাবিবুর রহমান।
খুলনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ বছরের শিশু হত্যার মূল আসামি তোতা মিয়া কে গ্রেফতার করলো পিবিআই
খুলনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ বছরের শিশু হত্যার মূল আসামি তোতা মিয়া কে গ্রেফতার করলো পিবিআই
খুলনার খুলনা নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ লবণচরা রায়পাড়া কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় আলোচিত চার বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল মাওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি তোতা মিয়াকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার গোসাইরগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু জান্নাতুল মাওয়া খুলনার লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শাহ জালাল (৩৮) ও আফরোজা আক্তার রুমির মেয়ে। গ্রেফতারকৃত তোতা মিয়া (৫০) ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার পুটিয়াখালী গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী ব্যাপারীর ছেলে এবং তিনি পরিবারের দূরসম্পর্কের আত্মীয় মামা। ঘটনার দিন গত ২৩ মার্চ শাহ জালালের শ্যালকের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে তোতা মিয়া লবণচরার সাচিবুনিয়া সুইচগেট এলাকায় শাহ জালালের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন।দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে তিনি শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় শিশুকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের
সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। পরে তোতা মিয়ার মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তিনি জানান, শিশুকে নিয়ে সুইচগেট এলাকায় আছেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিবার তাকে খুঁজে পায়নি এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শাহ জালালের পরিবার লবণচরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ২৪ মার্চ রাত ১টা ৩০ মিনিটে তোতা মিয়া ইমোতে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানায়, “ভিকটিম জান্নাতুল মাওয়ার মৃতদেহ হরিণটানা গেটের বাম পাশে পাবি। পরে পুলিশ হরিণটানা গেটের বিপরীত পাশে মহাসড়ক থেকে প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে একটি খেজুর বাগান থেকে শিশুটির মরদেহ, তার ব্যবহৃত জুতা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর শাহ জালাল বাদী হয়ে তোতা মিয়াকে প্রধান আসামি করে লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২, তারিখ ২৫ মার্চ ২০২৬, ধারা-৩০২ পেনাল কোড)। মামলাটি পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিট তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে। পিবিআইয়ের
অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং খুলনা জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন (পিপিএম-সেবা)-এর নেতৃত্বে একটি দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তোতা মিয়া হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। জানা গেছে, তিনি ১৯৯৭ সালে প্রথম স্ত্রীকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় ১৯ বছর কারাভোগ করে ২০২০ সালে মুক্তি পান। পরে ২০২৩ সালে তিনি ময়না বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি ওই স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করলে ক্ষোভ থেকে ভিকটিমের পরিবারকে দায়ী করে প্রতিশোধ নিতে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিবিআই জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দিও দিয়েছেন।মামলার তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই খুলনা জেলার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন এবং তদন্ত করছেন এসআই মোঃ হাবিবুর রহমান।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত