খুলনাসহ জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্রেতারা তেল নিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় এবং ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার ২৫ মার্চ বিকেলে খুলনা নগরীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পাম্পে ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার কিছু পাম্পে সীমিত আকারে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে যে পাম্প গুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে বাইপাস সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পাম্পগুলোতে চাপ বেশি। মেসার্স মারিয়া ফিলিং স্টেশন-এ গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মোটরসাইকেল চালক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে পুলিশী পাহারায় তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে অবস্থিত কেসিসি পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে একই চিত্র দেখা গেছে। তেল নিতে আসা কতিপয় গ্রাহক জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিনি বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। বুধবার সকালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে অল্প পরিমাণ তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে মেঘনা ফিলিং স্টেশনে আসা অনেক বাইক চালাক বলেন, আমি গত দুইদিন অনেক পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে ফেরত গিয়েছি। আজকে প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছি তেল নেওয়ার জন্য। তেল নিয়ে জটিলতা দূর না করলে এই সমস্যা কাটবে না। একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে রোদের কারণে সাধারণ মানুষের কষ্টও হচ্ছে।
বিশ্বরোডে মারিয়া ফিলিং স্টেশনে আসা কয়েকজন ক্রেতারা বলেন, দূরের পথে যাবো এজন্য প্রাইভেটকারে ২৫ লিটার তেল নিয়েছি। আবার সামনে কোনো পাম্প থেকে নিতে হবে।
ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, তেল নিতে গিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। তেল টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারলেও সময় তো টাকা দিয়ে ক্রয় করা যায় না।
অপেক্ষারত মোটরসাইকেল চালকরা বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে আরও ১৫ জন রয়েছে। ঈদের ছুটিতে অনেক পাম্প বন্ধ ছিল। তেল নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আজকে বুধবার ২৫ মার্চ শেষ পর্যন্ত তেল নিতে পারবো কি না সন্দেহ আছে।
মেঘনা ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল ডিপো থেকে পাচ্ছি না। তেল যতক্ষণ আছে ততক্ষণ ক্রেতাদের চাহিদা মাফিক দেবো।
তিনি আরও বলেন, সকাল ১০টা থেকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তেল বিক্রয় করছি। তবে তেল বিক্রয় করতে গিয়ে কোনো জটিলাতায় পড়তে হয়নি।
মারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, প্রতিদিন ৯ হাজার লিটার তেল দিচ্ছে ডিপো থেকে। তার মধ্যে পেট্রোল ৩ হাজার, অকটেন ৩ হাজার আর ডিজেল ৩ হাজার লিটার রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বিক্রি হলে পাম্প বন্ধ করে দেবো। আবার তেল আসলে তেল বিক্রি শুরু করবো।
তিনি আরও বলেন, আগে তো চাহিদা অনুযায়ী তেল পেতাম। বিক্রির ওপরে চাহিদা নির্ভর করে। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে বিরূপ ধারণা ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়াতে সাময়িক একটু ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।
তবে পাম্প মালিকরা বলছেন।
প্রকৃত অর্থে বড় কোনো সংকট নেই; বরং আতঙ্ক থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করছেন।
খুলনা জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির কতিপয় নেতারা জানান, খুলনা মহানগরীসহ জেলায় প্রায় ২৯টি পাম্প রয়েছে। সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম থাকায় এই চাপ তৈরি হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে স্পষ্ট তথ্যের অভাব ও গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে ঝুঁকছেন, যা বাজারে সাময়িক সংকট সৃষ্টি করছে।
সব মিলিয়ে, ঈদকে সামনে রেখে যানবাহনের চাপ ও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে খুলনায় জ্বালানি তেল নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনাসহ জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে জ্বালানি তেল কিনতে পাম্পে উপচে পড়া ভীড় ও দীর্ঘ লাইন
খুলনাসহ জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে জ্বালানি তেল কিনতে পাম্পে উপচে পড়া ভীড় ও দীর্ঘ লাইন
খুলনাসহ জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্রেতারা তেল নিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় এবং ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার ২৫ মার্চ বিকেলে খুলনা নগরীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পাম্পে ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার কিছু পাম্পে সীমিত আকারে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে যে পাম্প গুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাইপাস সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পাম্পগুলোতে চাপ বেশি। মেসার্স মারিয়া ফিলিং স্টেশন-এ গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মোটরসাইকেল চালক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে পুলিশী পাহারায় তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে অবস্থিত কেসিসি পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে একই চিত্র দেখা গেছে। তেল নিতে আসা কতিপয় গ্রাহক জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিনি বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। বুধবার সকালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে অল্প পরিমাণ তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে মেঘনা ফিলিং স্টেশনে আসা অনেক বাইক চালাক বলেন, আমি গত দুইদিন অনেক পাম্পে গিয়ে তেল
না পেয়ে ফেরত গিয়েছি। আজকে প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছি তেল নেওয়ার জন্য। তেল নিয়ে জটিলতা দূর না করলে এই সমস্যা কাটবে না। একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে রোদের কারণে সাধারণ মানুষের কষ্টও হচ্ছে। বিশ্বরোডে মারিয়া ফিলিং স্টেশনে আসা কয়েকজন ক্রেতারা বলেন, দূরের পথে যাবো এজন্য প্রাইভেটকারে ২৫ লিটার তেল নিয়েছি। আবার সামনে কোনো পাম্প থেকে নিতে হবে। ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, তেল নিতে গিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। তেল টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারলেও সময় তো টাকা দিয়ে ক্রয় করা যায় না। অপেক্ষারত মোটরসাইকেল চালকরা বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে আরও ১৫ জন রয়েছে। ঈদের ছুটিতে অনেক পাম্প বন্ধ ছিল। তেল নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আজকে বুধবার ২৫ মার্চ শেষ পর্যন্ত তেল নিতে পারবো কি না সন্দেহ আছে। মেঘনা ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল ডিপো থেকে পাচ্ছি না। তেল যতক্ষণ আছে ততক্ষণ ক্রেতাদের চাহিদা মাফিক দেবো। তিনি আরও বলেন, সকাল ১০টা থেকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তেল বিক্রয় করছি। তবে তেল বিক্রয় করতে গিয়ে কোনো জটিলাতায় পড়তে হয়নি। মারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, প্রতিদিন ৯ হাজার লিটার তেল দিচ্ছে ডিপো থেকে। তার মধ্যে পেট্রোল ৩ হাজার, অকটেন ৩ হাজার আর ডিজেল ৩ হাজার লিটার রয়েছে। এই পরিমাণ তেল বিক্রি
হলে পাম্প বন্ধ করে দেবো। আবার তেল আসলে তেল বিক্রি শুরু করবো। তিনি আরও বলেন, আগে তো চাহিদা অনুযায়ী তেল পেতাম। বিক্রির ওপরে চাহিদা নির্ভর করে। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে বিরূপ ধারণা ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়াতে সাময়িক একটু ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। তবে পাম্প মালিকরা বলছেন। প্রকৃত অর্থে বড় কোনো সংকট নেই; বরং আতঙ্ক থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করছেন। খুলনা জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির কতিপয় নেতারা জানান, খুলনা মহানগরীসহ জেলায় প্রায় ২৯টি পাম্প রয়েছে। সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম থাকায় এই চাপ তৈরি হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে স্পষ্ট তথ্যের অভাব ও গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে ঝুঁকছেন, যা বাজারে সাময়িক সংকট সৃষ্টি করছে। সব মিলিয়ে, ঈদকে সামনে রেখে যানবাহনের চাপ ও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে খুলনায় জ্বালানি তেল নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত