বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
রাজনীতি খুলনার খালিশপুরে প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান
logo

খুলনার খালিশপুরে প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান

খুলনায় বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়।

একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায় বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন খালেদা জিয়া, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।” একটি রাজনৈতিক দল কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছে তা কলঙ্কজনক বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। 

গতকাল সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি দুপুর পৌনে ১টার দিকে খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় গিয়ে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন তারেক রহমান। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে আসেন তারেক রহমান। মঞ্চে উঠলে নেতাকর্মী-সমর্থকেরা করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। 

তারেক রহমান হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহŸান জানান। 

প্রায় ২৭ মিনিটের বক্তব্যে জামায়াতের কড়া সমালোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে কীভাবে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখতে চায়। একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন-তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। 

ওই রাজনৈতিক দলের নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদেরকে কীভাবে অসম্মানিত করেছে। তাদের খারাপ ভাষায় অসম্মানিত করেছে। তিনি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা এদেশের মানুষের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। 

এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক। যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারেন না।

নারীরা সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকেন। ৫০ লাখ নারী গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করেন। ওই নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদের অসম্মানিত করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন করেন: যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে বন্দি করতে চায়, যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অসম্মানজনকভাবে কথা বলে, আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন-নির্বাচনে যদি তারা কোনোভাবে সুযোগ পায়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাহলে তাদের আচরণ কি হতে পারে? কাজেই এরা শুধু নিজের স্বার্থের কথা বোঝে। 

এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে প্রয়োজন সেখানে তারা তাদের মতন করে ধর্মকে ব্যবহার করে।

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রথম স্ত্রী খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ)-কে স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। দলটির একজন নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদের অসম্মান করেছেন। 

অথচ আমাদের মহানবীর স্ত্রী বিবি খাদিজা ছিলেন একজন কর্মমুখী নারী এবং সফল ব্যবসায়ী।’ তাহলে নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।”
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘যে দলের নেতা নারীদের এভাবে কথা বলতে পারে, সেই দলের নেতা যদি সুযোগ পায় তাহলে নারীদের কীভাবে অপমান অপদস্ত করবে তা ভাবা যায় না। 

এর উদাহরণ ১৯৭১ সালে দেখা গিয়েছিল। লাখ লাখ মা বোনকে এই দলের পূর্বসুরীরা অপদস্ত করেছিল। যাদের কাছে মানুষের আত্মসম্মানবোধ নেই তাদের কাছে কখনও দেশ নিরাপদ হতে পারে না।

জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের নিয়ে একথা বলার পরে যখন তীব্র নিন্দা, সমালোচনা শুরু হলো তখন তারা বলছে তাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়েছে। এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারা পরিষ্কারভাবে বলেছেন, আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। 

একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা নির্বাচনের আগে আইডি হ্যাক হওয়ার মিথ্যা কথা এভাবে বলছে, অথচ তাদের আইডি হ্যাক হয়নি। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নির্বাচনের আগে মানুষের সামনে তারা মিথ্যা তথ্য তুলে ধরছে। এদের একটাই পরিচয়, এরা মিথ্যাবাদী। এরা দেশদরদী হতে পারে না। এদের দরদ শুধু নিজেদের লোকেদের জন্য।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন, অথচ তাদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে।

দেশের প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। 

বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তাঁরা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকেন।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্প নগরীতে রূপান্তর করা হবে, নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। 

দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

খুলনা অঞ্চলের শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে মৃত নগরীতে পরিণত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো চালু করা হবে। 

সেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও কর্মসংস্থান এবং আইটি সেক্টরের মাধ্যমে যুবকদেরও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করা হবে। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

এজন্য তিনি সবাইকে পরিশ্রমী হওয়ার পরামর্শ দেন।
তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আজ (সোমবার) বিএনপি ও ধানের শীষের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে। এই সময়ে দলের বহু নেতা-কর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। 

বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী গায়েবি মামলা, অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারপরও বাংলাদেশের মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দলমত নির্বিশেষে রাজপথে নেমে এসে বাংলাদেশের স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিদায় করেছেন। 

আজ সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ সেই অধিকার প্রয়োগ করবেন, যা থেকে এক যুগের বেশি সময় ধরে তাঁদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল।

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই দেশ গড়তে হবে; শুধু একটি শ্রেণিকে নিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মানুষ গত ১৬ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। 

শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেননি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ তাঁদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেননি। কেউ কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁকে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন: সরকার গঠন করলে আমাদের প্রথম দায়িত্ব দেশ পুনর্গঠন করা। দল মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে এটি করতে হবে। শুধু এক ধরনের মানুষ নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করা যায় না। দেশের ২০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ। 

তাদের পেছনে রেখে যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করি দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এজন্যই খালেদা জিয়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন।’
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা ৭১ সালে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছিলেন। আর ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন।” 
প্রত্যেক গৃহিণীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নারীরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাবলম্বী হবে। 

একই সঙ্গে কৃষকদেরও কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে। যাতে করে তারা এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ঋণ এবং সার ও বীজ পেতে পারেন।” তিনি কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফেরও ঘোষণা দেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “শুধু একটি শ্রেণিকে নিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। দল-মত, শ্রেণি- পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। 

বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশ পুনর্গঠনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা হবে, দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, “শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।”
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের তাবৎ মা বোনদেরকে বলব আমি, যারা আপনাদেরকে এভাবে অপমানিত করে, তাদেরকে আপনারা কীভাবে জবাব দেবেন, আজ সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। 

কারও নাম উল্লেখ না করে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা দু’দিন আগে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যে সকল মহিলা, যে সকল মা-বোনেরা কর্মসংস্থানের জন্য যান, আপনাদের সামনে বলতে রীতিমতো লজ্জা হচ্ছে, এমন একটি শব্দ মা-বোনদের জন্য ব্যবহার করেছেন, যা এ দেশের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। 

বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, যে দলটি নির্বাচনের আগে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অসম্মানজনক ভাবে কথা বলে, তাহলে আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আজকে নির্বাচনে যদি তারা কোনো ভাবে সুযোগ পায়, নির্বাচন পরবর্তী সময় তাহলে তাদের আচরণ কী হতে পারে? এরা শুধু নিজের স্বার্থের কথা বোঝে। 

এরা ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। যেখানে প্রয়োজন সেখানে তারা তাদের মতন করে ধর্মকে ব্যবহার করে।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ধানের শীষের ১৪টি আসনের প্রার্থীরা এই জনসভা মঞ্চে ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আমীর এজাজ খান (খুলনা-১) নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা-২) রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩) এস কে আজিজুল বারী (খুলনা-৪) মোহাম্মদ আলি আসগার (খুলনা-৫), এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (খুলনা-৬)। 

হাবিবুল ইসলাম হাবিব (সাতক্ষীরা-১) আব্দুর রউফ (সাতক্ষীরা-২) কাজী আলাউদ্দীন (সাতক্ষীরা-৩) মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা-৪) কপিল কৃষ্ণ মন্ডল (বাগেরহাট-১) শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন (বাগেরহাট-২) শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩) ও সোম নাথ দে (বাগেরহাট-৪)।

মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. এস এম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তৃতা করেন ধানের শীষের খুলনা-৩ আসনে প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল।

 খুলনা-২ আসনে প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনে প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনে প্রার্থী আলী আসগর লবী, খুলনা-১ আসনে প্রার্থী আমির এজাজ খান, খুলনা-৬ আসনে প্রার্থী এস এম মনিরুর হাসান বাপ্পী।

 সাতক্ষীরা-১ আসনে প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-২ আসনে প্রার্থী  মোঃ আব্দুল রউফ, সাতক্ষীরা-৩ আসনে প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-৪ আসনে প্রার্থী মোঃ মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে প্রার্থী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে প্রার্থী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনে প্রার্থী সোমনাথ দে।

এছাড়াও বক্তৃতা করেন বিএনপি’র গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।

খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বেগম হালিমা আলী, নগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, জেলা আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ।

এদিন বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হয়। খুলনায় এটি তারেক রহমানের চতুর্থ সফর। সর্বশেষ ২০০৪ সালে খুলনা এসেছিলেন তিনি।

খুঁজুন