বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা জয়পুরহাটে বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ১৯ বছর: জানালা দিয়ে ছুড়ে দেওয়ায় বেঁচে গিয়েছিল শিশু সোহানুর
logo

জয়পুরহাটে বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ১৯ বছর: জানালা দিয়ে ছুড়ে দেওয়ায় বেঁচে গিয়েছিল শিশু সোহানুর

২০০৬ সালের ১১ জুলাই—জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার আমুট্ট রেলক্রসিংয়ে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন অন্তত ৪০ জন যাত্রী। আহত হন আরও ৩৮ জন। তবে ওই বিভীষিকাময় ঘটনায় বেঁচে যায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ৮ বছর বয়সী সোহানুর রহমান, যাকে জানালা দিয়ে রেললাইনের পাশে ছুড়ে ফেলেছিলেন তাঁর দাদা আবদুল হামিদ। দাদার সেই আত্মত্যাগই সোহানুরকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে।

আজ সেই দুর্ঘটনার ১৯ বছর পূর্তি।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এখন ২৮ বছর বয়সী সোহানুর বলেন, “আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি। দাদার সঙ্গে জয়পুরহাট যাচ্ছিলাম। হঠাৎ রেলগেটে বাস থেমে যায়, তখন ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার শুরু হয়। দাদা জানালা দিয়ে আমাকে ছুড়ে দেন। জ্ঞান ফেরে হাসপাতালে।”

সোহানুরের দাদা আবদুল হামিদ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

শান্তা গ্রামের বাসিন্দা মো. মোর্শেদ জানান, ওই দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা ও দুই ভাই নিহত হন। তিনি বলেন, “১৯ বছর ধরে আমরা এই শোক বয়ে বেড়াচ্ছি। এখনো কিছু হয়নি স্মৃতিরক্ষায়।”

অরক্ষিত রেলক্রসিং এখন নিরাপদ, নেই স্মৃতিফলক

ঘটনার সময় রেলক্রসিংটি ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। কোনো গেট বা গেটম্যান ছিল না। আক্কেলপুর রেলস্টেশন মাস্টার হাসিবুল আলম বলেন, “দুর্ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ে স্থায়ী গেট ও ২৪ ঘণ্টার গেটম্যান দেওয়া হয়েছে। এখন এটি নিরাপদ।”

তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান স্মৃতিফলক নির্মাণের ঘোষণা দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম বলেন, “দুর্ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে কেউ আবেদন করলে, তা এ বছরই বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।”

দিনটি কেবল নীরব শোকের

জয়পুরহাটের মানুষ প্রতি বছর এই দিনটি স্মরণ করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নেই। নিহতদের স্মরণে স্থানীয়ভাবে শোক পালন হলেও সরকারিভাবে নেই কোনো উদ্যোগ।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন