বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
বিশ্ব জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে ফের লাফিয়ে বাড়ছে
logo

জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে ফের লাফিয়ে বাড়ছে

নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ার পর। এর মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রস্তুতি নেওয়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই অবরোধ কার্যকর হলে ইরানের তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে যেতে পারে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ৭.৬০ ডলার বা ৭.৯৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৮.৩১ ডলার বা ৮.৬১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, বাজার এখন মূলত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহও আটকে দিতে পারে।

এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধ শেষ করার কোনো সমাধান না আসা এবং দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম বেশি থাকতে পারে। ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তিনি ইঙ্গিত দেন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়া সব ধরনের সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর অবরোধ কার্যকর করা শুরু হবে।

এএনজেড-এর বিশ্লেষক ব্রায়ান মার্টিন ও ড্যানিয়েল হাইন্স বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু পারস্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রফতানিকেই বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং ইরানের তেল রফতানির সক্ষমতাও কমিয়ে দেবে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বাড়তে পারে।

আইজি-র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, এই অবরোধ কার্যকর হলে ইরানি তেলের প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তেহরানের মিত্র ও ক্রেতারা প্রণালিটি আবার চালু করতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজকে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অচলাবস্থার মধ্যেও শনিবার তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এগুলোই উপসাগর ছাড়ার প্রথম জাহাজ বলে মনে করা হচ্ছে।

এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রণালিতে একটি ইরান-পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো জাহাজ দেখা যায়নি।

এদিকে, ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের কয়েকদিন পর সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে।

খুঁজুন