বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
ক্যাম্পাস জ্বালানি সংকটে যখন আক্রান্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, নিটার অনলাইন-অফলাইনের কোন পথে হাঁটবে
logo

জ্বালানি সংকটে যখন আক্রান্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, নিটার অনলাইন-অফলাইনের কোন পথে হাঁটবে

দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে ঢেউ উঠেছে, তার আঁচ এসে লেগেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলোতেও। সাভারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার) প্রতিষ্ঠানটির হোস্টেলের জেনারেটরটি জ্বালানি তেলের অভাবে এখন কার্যত অচল। দেশ জুড়ে জ্বালানির অভাবে থমকে গেছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, এই অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা — সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন, তিন দিন অফলাইন ক্লাস।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম তেল শেষ হয়ে যাওয়া দেশ হতে পারে বাংলাদেশ। বুধবার (১ এপ্রিল) ইনডিপেনডেন্ট এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বাংলাদেশের মতো আমদানি নির্ভর দেশে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

জ্বালানি সংকট শুধু যানবাহন বা কলকারখানায় সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এখন এই সংকটের বাইরে নয়। নিটারের মতো একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু আলোর জন্য নয়, ল্যাবরেটরি, যন্ত্রপাতি এবং শিক্ষা উপকরণ পরিচালনার জন্যও অপরিহার্য। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইন ক্লাসের যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা অনেকটা দুই দিক থেকেই চাপে পড়া নিটারের জন্য বাস্তবে কার্যকর করা সহজ নয়। নিটারে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ল্যাবরেটরি ও মেশিন অপারেশনের ব্যবহারিক সেশনে, যা স্ক্রিনের মাধ্যমে কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তাঁত, বুনন ও রঞ্জন প্রক্রিয়ার মতো বিষয়গুলো সরাসরি হাতে না ছুঁয়ে শেখা যায় না, ফলে শিক্ষার্থীরা মূল পেশাদার দক্ষতা অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়তে পারেন। জ্বালানি সংকটের জন্য যদি একাডেমিকের জেনারেটর ও বন্ধ রাখতে হয় অফলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগও নিশ্চিত করা যাবে না, ফলে শিক্ষার্থীরা দুই দিক থেকেই বঞ্চিত হবেন। ক্যাম্পাসে থেকেও কার্যকর শিক্ষা না পাওয়ার হতাশা তাঁদের মানসিক চাপ বাড়াবে এবং পড়াশোনায় আগ্রহ কমিয়ে দিবে। সবশেষে, টেক্সটাইল শিল্পে দক্ষ প্রকৌশলীর যে চাহিদা রয়েছে, অনলাইননির্ভর অসম্পূর্ণ শিক্ষা সেই চাহিদা পূরণে নিটারের শিক্ষার্থীদের অযোগ্য করে তুলতে পারে।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়া একজন শিক্ষার্থী জানান, "শুধু নিটার নয় পুরো বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। দ্বিতীয়ত, অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ফলে আমরা বাস্তবিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারব না।"

খুঁজুন