আজ বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী। এবারের জন্মজয়ন্তীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে কবির অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। একই সঙ্গে কবির এই স্মরণীয় জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আগামী এক বছরকে নজরুল বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে।
বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য আর মানবতার এক অনন্য নাম কাজী নজরুল ইসলাম। যে কবি কলম দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগুন ঝরিয়েছেন, তিনিই আবার গেয়েছেন ভালোবাসা আর সম্প্রীতির গান।
বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের হৃদস্পন্দন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ সোমবার (২৫ মে) ১২৭তম জন্মজয়ন্তী। শতাব্দীর অনেক বছর পেরিয়েও বৈষম্য আর বিভেদের এ পৃথিবীতে বারবার ফিরে আসে তার উচ্চারণ ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই’।
কখনও বিদ্রোহের আগুন, কখনও ভালোবাসার কোমলতা। এক মানুষ, অথচ যেন হাজার অনুভূতির নাম কাজী নজরুল ইসলাম।
যে কলম অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্র হয়ে উঠেছিল, সেই কলমই আবার লিখেছিল প্রেম, সাম্য আর মানবতার গান। নজরুল শুধু একজন কবি ছিলেন না, ছিলেন সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া এক সাহসী কণ্ঠ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন।
‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই’ তার লেখার এই দর্শন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সন্তানদের নাম রেখেছিলেন কৃষ্ণ মোহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ। তার লেখায় যেমন ছিল কোরআনের বাণী, তেমনি উঠে এসেছে শ্যামা, কালী কিংবা কৃষ্ণভক্তির গানও।
নজরুলের গান, কবিতা আর প্রবন্ধে উঠে এসেছে বঞ্চিত মানুষের কথা। নারীর অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
মানুষে মানুষে বিভেদের দেয়াল ভাঙার স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই মৃত্যুর পরও চেয়েছিলেন মানুষের কাছেই থাকতে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই সমাহিত করা হয় কবিকে। যেখানে প্রতিদিন ধর্ম-বর্ণ ভুলে মানুষ এসে দাঁড়ায় তার কবরে শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ চেয়ারম্যান প্রিয়াংকা গোপ বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এতগুলো জায়গায় কী করে বিচরণ করে! এটা আসলে আমার কাছে রহস্য মনে হয়।’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী বলেন, ‘আমাদের এখন লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। এটার জন্য সম্প্রতি আমরা নজরুল সাহিত্যকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছি। যত বেশি বিদেশি ভাষায় অনুবাদ হবে, তত বেশি নজরুল বিশ্বের হয়ে উঠবে। এটার জন্য নজরুল ইনস্টিটিউট এখন কাজ করছে।’
মাত্র ৪৩ বছরের সাহিত্য জীবনে কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ মিলিয়ে দুই হাজারেরও বেশি গান আর অসংখ্য সাহিত্যকর্ম উপহার দিয়েছেন বাংলা ভাষাকে। ‘বিদ্রোহী’, ‘অগ্নিবীণা’, ‘সাম্যবাদী’, ‘দোলনচাঁপা’—তার প্রতিটি সৃষ্টি যেন সময়কে ছাপিয়ে যাওয়া একেকটি উচ্চারণ।
নজরুল শুধু সাহিত্যিক ছিলেন না, ছিলেন সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক। তাই শুধু স্মৃতিতে নয়, প্রয়োজন নজরুল চর্চার মাধ্যমে তার আদর্শকে ধারণ করা।
জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী আজ
জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী আজ
আজ বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী। এবারের জন্মজয়ন্তীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে কবির অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। একই সঙ্গে কবির এই স্মরণীয় জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আগামী এক বছরকে নজরুল বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে। বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য আর মানবতার এক অনন্য নাম কাজী নজরুল ইসলাম। যে কবি কলম দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগুন ঝরিয়েছেন, তিনিই আবার গেয়েছেন ভালোবাসা আর সম্প্রীতির গান। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের হৃদস্পন্দন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ সোমবার (২৫ মে) ১২৭তম জন্মজয়ন্তী। শতাব্দীর অনেক বছর পেরিয়েও বৈষম্য আর বিভেদের এ পৃথিবীতে বারবার ফিরে আসে তার উচ্চারণ ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই’। কখনও বিদ্রোহের আগুন, কখনও ভালোবাসার কোমলতা। এক মানুষ, অথচ যেন হাজার অনুভূতির নাম কাজী নজরুল ইসলাম। যে
কলম অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্র হয়ে উঠেছিল, সেই কলমই আবার লিখেছিল প্রেম, সাম্য আর মানবতার গান। নজরুল শুধু একজন কবি ছিলেন না, ছিলেন সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া এক সাহসী কণ্ঠ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই’ তার লেখার এই দর্শন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সন্তানদের নাম রেখেছিলেন কৃষ্ণ মোহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ। তার লেখায় যেমন ছিল কোরআনের বাণী, তেমনি উঠে এসেছে শ্যামা, কালী কিংবা কৃষ্ণভক্তির গানও। নজরুলের গান, কবিতা আর প্রবন্ধে উঠে এসেছে বঞ্চিত মানুষের কথা। নারীর অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। মানুষে মানুষে বিভেদের দেয়াল ভাঙার স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই মৃত্যুর পরও চেয়েছিলেন মানুষের কাছেই থাকতে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই সমাহিত করা হয় কবিকে। যেখানে প্রতিদিন ধর্ম-বর্ণ ভুলে মানুষ এসে দাঁড়ায় তার কবরে শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ চেয়ারম্যান
প্রিয়াংকা গোপ বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এতগুলো জায়গায় কী করে বিচরণ করে! এটা আসলে আমার কাছে রহস্য মনে হয়।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী বলেন, ‘আমাদের এখন লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। এটার জন্য সম্প্রতি আমরা নজরুল সাহিত্যকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছি। যত বেশি বিদেশি ভাষায় অনুবাদ হবে, তত বেশি নজরুল বিশ্বের হয়ে উঠবে। এটার জন্য নজরুল ইনস্টিটিউট এখন কাজ করছে।’ মাত্র ৪৩ বছরের সাহিত্য জীবনে কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ মিলিয়ে দুই হাজারেরও বেশি গান আর অসংখ্য সাহিত্যকর্ম উপহার দিয়েছেন বাংলা ভাষাকে। ‘বিদ্রোহী’, ‘অগ্নিবীণা’, ‘সাম্যবাদী’, ‘দোলনচাঁপা’—তার প্রতিটি সৃষ্টি যেন সময়কে ছাপিয়ে যাওয়া একেকটি উচ্চারণ। নজরুল শুধু সাহিত্যিক ছিলেন না, ছিলেন সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক। তাই শুধু স্মৃতিতে নয়, প্রয়োজন নজরুল চর্চার মাধ্যমে তার আদর্শকে ধারণ করা।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত