বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা জামালপুরে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু
logo

জামালপুরে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু

জামালপুরে ভুল চিকিৎসা ও দ্বায়িত্বের অবহেলায় নসিয়া আক্তার (৭০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সঠিক চিকিৎসা না দেওয়া ও দ্বায়িত্বের অবহেলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। 

শুক্রবার (১২ সেপ্টম্বর) সকাল ৮ টার দিকে শহরে ডায়াবেটিস জেনারেল হাসাপাতালে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরআগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে পায়ে ফোঁড়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় নসিয়া আক্তার। ওইদিনই তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। নিহত নসিয়া আক্তার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খরমা দিঘলকান্দি এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমানের স্ত্রী।

হাসপাতাল ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, নসিয়া আক্তার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। গত ৯ সেপ্টম্বর বিকালে পায়ের সমস্যা নিয়ে জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে সময় তার শরীরে ডায়াবেটিস ২০ এর ওপরে ছিল। এ অবস্থায় তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করেন ডা. হাসানুল বারী শিশির। অপারেশনের পর কোনো চিকিৎসক তার আর খোজ নেয়নি। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করেন নাই। 

কোনো দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক একদিন একবারের জন্যও রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষন করতে যায়নি। মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছটফট করেন তিনি। পরে দ্বায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও নার্সদের বিষয়টি অবগত করা হলে সবকিছু স্বাভাবিক আছে বলে জানান তাঁরা। এক পর্যায়ে তিনি মারা যায়। মৃত্যুর পরেও কোনো চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতেও আসেনি বলে অভিযোগ জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন।

নিহত নসিয়া আক্তারের মেয়ের জামাই বেলাল জানান, তার শাশুড়ীকে ইচ্ছা করে মেরে ফেলেছে জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের লোকজন। অপারেশনের পর তারা কোনো দ্বায়িত্ব পালন করেননি। দায়সাড়া ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নিহতের মেয়ে রেখা মনি জানান, ডায়াবেটিস টেস্ট করার জন্য তার মাকে ডায়াবেটিস হাসপাতালে নিয়ে আসেন তারা। এরপর কম খরচে পায়ের ফোঁড়া অপারেশন করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার মাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশন শেষে কোনো ডাক্তার আর কোন খোজ নেয়নি।

এ বিষয়ে জেলা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রোগীটা মারা গেছে, মহিলা মানুষ, লাশটা আটকে আছে, তাই আগে দাফন কাফনের জন্য লাশটা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে মানবিক কারনে আগে লাশটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে আগামীকাল ১১ টায় বসার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ডায়াবেটিস হাসপাতালের তিনজন লাইফ মেম্বার ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বুলবুল রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে লাশ পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগামীকাল স্বজনদের নিয়ে আবার বসবেন। আর আমরা ডাক্তাদের দিয়ে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা আগামীকাল প্রতিবেদন দিবেন।

এ বিষয়ে ডা. হাসানুল বারী শিশির বলেন, যে অপারেশন তাতে রোগীর মৃত্যু হওয়ার কোনো কারন নাই। তবে রোগীটি হার্ট অ্যাটাকে মারা যেতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, আগামীকাল কাগজপত্র তলব করবো। কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন