বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
ক্যাম্পাস হল জীবনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত উৎসব: বুটেক্সে হল ফেস্ট-২০২৬ উদযাপন
logo

হল জীবনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত উৎসব: বুটেক্সে হল ফেস্ট-২০২৬ উদযাপন

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) আবাসিক হলগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো “হল ফেস্ট-২০২৬”। শুক্রবার (১৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের তিনটি হল—শহীদ আজিজ হল, জি. এম. এ. জি. ওসমানী হল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল এবং মেয়েদের বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে এই বর্ণিল আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিদায়ী ৪৭তম ব্যাচকে সম্মাননা ও স্মরণীয় বিদায় জানাতে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস, আনন্দ ও আবেগ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় অতিথিদের আসন গ্রহণ ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সেখ মো. মমিনুল ইসলাম, আইটিইটি'র অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন, নিট কনসার্ন গ্রুপের পরিচালক এ কে এম মহসিন, আহসান কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিম রেজাসহ আইটিইটি'র ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হল প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।

ফেস্ট উপলক্ষে চার হলে নান্দনিক আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা করা হয়। এছাড়া সপ্তাহব্যাপী হলগুলোতে খেলাধুলার আয়োজন করা হয় যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিলো। বিভিন্ন হলে ফুটবল, শর্টপিচ ক্রিকেট, ক্যারাম, টেবিল টেনিস, দাবা, কার্ড, ই-ফুটবল ও ফিফাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মেয়েদের হলে আয়োজন করা হয় দাবা, লুডুসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এরপর হলের শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং স্মৃতিচারণ করেন। পরে বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল বাহারি খাবারের আয়োজনের প্রতি।

এসময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বুটেক্স ও দেশের টেক্সটাইল খাতের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর বর্তমান অবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের নতুন হল নির্মাণের দাবিও দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।”

তিনি আরও বলেন, ”আমরা আশা রাখি বুটেক্সের শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশের আরও বড় বড় জায়গায় নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে। সকলকে আহ্বান জানায় দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে সকল বুটেক্সিয়ানদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার জন্য।"

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, "আমি হল প্রভোস্টগণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বুটেক্স থেকে সদ্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া দুইজনকে শিগগিরই বড় পরিসরে সংবর্ধনা দেওয়া হবে, যেখানে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত বুটেক্সিয়ানরাও উপস্থিত থাকবেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবি পূরণের বিষয়ে আশ্বস্ত করছি এবং সকল শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।"

আইটিইটি'র অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, "আমরা অতীতে হলে শিক্ষার্থীদের ওপর যে ধরনের টর্চার বা অনিয়ম হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আর পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। আমাদের পেশাজীবী সংগঠন সবসময় সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। অতীতে অবৈধ শিক্ষক নিয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা আর যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমি মাননীয় ভিসি স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"

নিট কনসার্ন গ্রুপের পরিচালক এ. কে. এম. মহসিন আহমেদ বলেন, "আজকের এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে যেন ২৭ বছরের পুরোনো স্মৃতির ভেতরে ফিরে গেছি। শহীদ আজিজ হলে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আজ চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এই হল আমার জীবনের এক গভীর আবেগ, ভালোবাসা আর স্মৃতির জায়গা। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে এবং আইটিইটি'কে সবসময় পাশে পাবে। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাব।"

জি. এম. এ. জি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "প্রতিটি ব্যাচের বিদায়ের সময় আমরা হল ফেস্টের আয়োজন করে থাকি, মূলত তাঁদের সম্মাননা ও বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে। এখান থেকেই তাঁদের জীবনের এক নতুন যাত্রা শুরু হয়। কেউ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করবে, কেউ ব্যাংকিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করবে, আবার কেউ বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে তারা একেবারে নতুন এক বাস্তব জীবনে প্রবেশ করবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বুটেক্স ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।"

শহীদ আজিজ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব বলেন, "বিদায়ী ব্যাচ ও শহীদ আজিজ হলের সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা এখন শিক্ষাজীবন শেষ করে নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবে এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে। শহীদ আজিজ হল বুটেক্সের ঐতিহ্যবাহী প্রথম হল। তাই হলের আধুনিকায়নের জন্য আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পাশাপাশি হলের সকল শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানাই।"


হল ফেস্ট নিয়ে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অন্বেষা পাল বলেন, "হল ফেস্ট নিয়ে যত বলবো ততই কম হবে। প্রতিবার খুব উৎফুল্ল থাকি কিন্তু এইবার মন খুব খারাপ। চলে যেতে হবে এই সুন্দর জায়গা থেকে। পেছনে ফিরে দেখলে অনেক স্মৃতি অনেক সুন্দর মুহুর্ত যেমন আছে তেমন তিক্ত মুহূর্তও রয়েছে। হল ফেস্ট আসলেই সবার সাথে একসাথে কাজ করা রাত করে হলে আল্পনা দেওয়া সব কিছু মনে গেঁথে থাকবে। প্রতিদিনের প্রিয় মুখগুলো কিছুদিন পর দেখতে পারবো না ভাবলেই কেমন চোখে জল আসে।"

শহীদ আজিজ হলের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, "হল ফেস্ট হলের বসবাসরত প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্যে এক অন্যরকম অনুভূতি। এই এক উৎসব হলের সবরকম ব্যাচের ভেদাভেদ ভুলিয়ে নিজেদের মাঝে এক সুস্থ ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে। প্রতিবছরের মতো এবছরেও ৪৭তম ব্যাচের ভাইদের বিদায়বেলাতেও অনেক আড়ম্বরপূর্ণভাবে হল ফেস্ট আয়োজিত হতে দেখে খুবই ভালো লাগছে। পাশাপাশি ভাইদের বিদায়বেলায় নিজেও আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছি। যাদের হাত ধরে এই হলে ওঠা তারা দু-দিন পর এ হল থেকে চলে যাবে, কয়েকদিন পর সেই বিদায়বেলা আমাদেরও আসবে।"

সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আরিফিন নাহিদ বলেন, "বহুল কাঙ্ক্ষিত উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে যখন বাড়ি ছেড়েছিলাম তখনই বুঝতে পেরেছিলাম বাড়িতে আর স্থায়ীভাবে থাকা হবে না। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী যখন হলে সিট পাই তখন থেকেই সহপাঠী এবং সিনিয়র ভাইদের সাথে অন্যরকম সম্পর্ক তৈরি হয়। দেখতে দেখতে হল জীবনের দেড় বছর পার করে ফেললাম। তারপর ল্যাব, সিটি আর অ্যাসাইনমেন্টে জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে প্রাণবন্ত করতে চলে আসলো হল ফেস্ট। সুস্বাদু খাবার -দাবার, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবকিছু মিলিয়ে বছরের অন্যতম আনন্দঘন দিন এই হল ফেস্ট।"

খুঁজুন