বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের পাঠ পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচন আর নয় চৌদ্দর, আর নয় আঠারোর, আর নয় চব্বিশের। এই নির্বাচন-২০২৬ এর। এই নির্বাচন ১৪ শত শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন। এই নির্বাচন আমাদের ৩৪ হাজার ছেলে-মেয়েদের অভুত্থানের নির্বাচন। এই নির্বাচন আয়না ঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের পরের নির্বাচন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখা আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচন জামায়েত সহ সকল তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর, শহীদ পরিবার গুলোর হাহাকারের অবসরের নির্বাচন। এই নির্বাচন অতীতের ৫৪ বছরের যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে সেই বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন। নির্বাচনে কয়টা ভোট? 'দুইটি'। প্রথম ভোট 'হ্যাঁ' ইনশাল্লাহ। 'হ্যাঁ' জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। হ্যাঁ পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হয়ে যাবে। আমরা কি বাংলাদেশকে জিতাবো না পরাজিত করব? হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। যারা আবার আমাদের গলায় গোলামের জিঞ্জির পড়াতে চায় তারাই শুধু না ভোটের কথা বলতে পারে। অনেকে আছে হ্যাঁও বলে না, নাও বলে না। কিছু দল তারা হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে স্বস্তির সাথে কিছু বলতে চায় না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই। আমরা যেভাবে ১৮কোটি মানুষের সামনে গিয়ে সব জায়গায় সবার উপস্থিতে সংস্কারে হ্যাঁ ভোট। প্রথম ভোটে হ্যাঁ ভোট। আপনারা হ্যাঁ, না, একটা ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে, লুকিয়ে লুকিয়ে বলেন কেন? যদি না বলেন তাহলে বলে দেন আমরা সংস্কার চাই না। নতুন বাংলাদেশ চাই না। পুরানা ব্যবস্থা চাই। ফ্যাসিবাদ আবার চাই। আর যদি হ্যাঁ বলেন, তাও বলে দেন। আমরা ১৮কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন চাই। দ্বিতীয় ভোটটি ইনশাআল্লাহ আমরা দিব ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে আগামীর যে বাংলাদেশ দায়ের হবে সেই প্রতীকের পক্ষে।
তিনি বলেন, এখানে পাঁচটি আসনের পাঁচটিতেই দাঁড়িপাল্লার পক্ষ হয়ে ইনশাআল্লাহ ১১দলের প্রার্থীরা লড়াই করবেন। তারা লড়াই করবে নিজেকে নেতা বানানোর জন্য-তাই না? তারা লড়াই করবে জনগণের সেবক হওয়ার জন্য। আমরা আপনাদের স্বাক্ষী রেখে পরিষ্কার করে বলছি আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা অবশ্যই বিজয় চাই ১৮কোটি মানুষের। ১৮কোটি মানুষের বিজয় হলেই জামায়াতের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। ২৪এর তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী তাদের নেতৃত্বে সারা দেশবাসী যে জন্য সংগ্রাম করেছে। ঐ সংগ্রামে ঐ দাবি বাস্তবায়নে ঐ সরকার বাস্তবায়নই হচ্ছে আমাদের অঙ্গিকার।
তিনি আরও বলেন, তারা চেয়েছিল বৈষম্যহীন একটি সমাজ। তারা চেয়েছিল হাতে হাতে তাজ। তারা চেয়েছিল ন্যায় বিচার। তারা চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। তারা চেয়েছিল চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ। তারা চেয়েছিল মোগল বাহিনী, হাতুড় বাহিনীর করব রচনা। সেই দিন পুরুষরাও যুদ্ধ করেছে। নারীরাও যুদ্ধ করেছে। যুদ্ধে আগুন জ্বলে উঠেছে। যেদিন আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত তুলেছিল সন্ত্রাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ১৫ জুলাই রাতের বেলা সেই দিন আগুন জ্বলে উঠে ছিল। সেই আগুনেই স্বৈরাচার খার খার হয়ে গিয়েছে। ১৬ তারিখ ছয়জন সিংহ পুরুষ আমাদের অহংকার। তারা গুলির সামনে দাঁড়িয়ে বুক পেতে দিয়েছিল। আবু সাঈদ বলে ছিল, আমাকে আমার অধিকার দেন। না হয় একটা গুলি দেন। ডানা মেলে বলেছিল। বুকের ভিতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি, গুলি কর। গুলি বুকে নিয়েছে, পালিয়ে যায় নি। আমাদের কাঁদে শহীদের লাশ রেখে গেছে। হাতের তালুতে রেখে গেছে তাজা রক্ত। আমরা রক্তের সাথে বেইমানি করতে পারবো না।
জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আইনজীবী আব্দুল আওয়ালের সঞ্চালনায় নির্বাচনী পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি প্রার্থী ড. ছামিউল হক ফারুকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)'র জিএস এস এম ফরহাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, জামালপুর-১ দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী আইনজীবী মাওলানা নাজমুল হক সাইদী, জামালপুর-৩ মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা মজিবুর রহমান আজাদী প্রমুখ।
নির্বাচনী পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এই নির্বাচন আয়না ঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের নির্বাচন: ডা. শফিকুর রহমান
এই নির্বাচন আয়না ঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের নির্বাচন: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের পাঠ পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচন আর নয় চৌদ্দর, আর নয় আঠারোর, আর নয় চব্বিশের। এই নির্বাচন-২০২৬ এর। এই নির্বাচন ১৪ শত শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন। এই নির্বাচন আমাদের ৩৪ হাজার ছেলে-মেয়েদের অভুত্থানের নির্বাচন। এই নির্বাচন আয়না ঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের পরের নির্বাচন। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখা আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচন জামায়েত সহ সকল তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর, শহীদ পরিবার গুলোর হাহাকারের অবসরের নির্বাচন। এই নির্বাচন অতীতের ৫৪ বছরের যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে সেই বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন। নির্বাচনে কয়টা ভোট? 'দুইটি'। প্রথম ভোট 'হ্যাঁ' ইনশাল্লাহ। 'হ্যাঁ' জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। হ্যাঁ পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হয়ে যাবে। আমরা কি বাংলাদেশকে জিতাবো না পরাজিত করব? হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। যারা আবার আমাদের গলায় গোলামের জিঞ্জির পড়াতে চায় তারাই শুধু না ভোটের কথা বলতে পারে। অনেকে আছে হ্যাঁও বলে না, নাও বলে না। কিছু দল তারা হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে স্বস্তির সাথে কিছু বলতে চায় না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তাদের কাছে বিনয়ের
সাথে জানতে চাই। আমরা যেভাবে ১৮কোটি মানুষের সামনে গিয়ে সব জায়গায় সবার উপস্থিতে সংস্কারে হ্যাঁ ভোট। প্রথম ভোটে হ্যাঁ ভোট। আপনারা হ্যাঁ, না, একটা ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে, লুকিয়ে লুকিয়ে বলেন কেন? যদি না বলেন তাহলে বলে দেন আমরা সংস্কার চাই না। নতুন বাংলাদেশ চাই না। পুরানা ব্যবস্থা চাই। ফ্যাসিবাদ আবার চাই। আর যদি হ্যাঁ বলেন, তাও বলে দেন। আমরা ১৮কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন চাই। দ্বিতীয় ভোটটি ইনশাআল্লাহ আমরা দিব ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে আগামীর যে বাংলাদেশ দায়ের হবে সেই প্রতীকের পক্ষে। তিনি বলেন, এখানে পাঁচটি আসনের পাঁচটিতেই দাঁড়িপাল্লার পক্ষ হয়ে ইনশাআল্লাহ ১১দলের প্রার্থীরা লড়াই করবেন। তারা লড়াই করবে নিজেকে নেতা বানানোর জন্য-তাই না? তারা লড়াই করবে জনগণের সেবক হওয়ার জন্য। আমরা আপনাদের স্বাক্ষী রেখে পরিষ্কার করে বলছি আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা অবশ্যই বিজয় চাই ১৮কোটি মানুষের। ১৮কোটি মানুষের বিজয় হলেই জামায়াতের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। ২৪এর তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী তাদের নেতৃত্বে সারা দেশবাসী যে জন্য সংগ্রাম করেছে। ঐ সংগ্রামে ঐ দাবি বাস্তবায়নে ঐ সরকার বাস্তবায়নই হচ্ছে আমাদের অঙ্গিকার। তিনি আরও বলেন, তারা চেয়েছিল বৈষম্যহীন একটি সমাজ। তারা চেয়েছিল হাতে হাতে তাজ। তারা চেয়েছিল ন্যায় বিচার। তারা চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। তারা চেয়েছিল চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ। তারা চেয়েছিল মোগল বাহিনী, হাতুড় বাহিনীর
করব রচনা। সেই দিন পুরুষরাও যুদ্ধ করেছে। নারীরাও যুদ্ধ করেছে। যুদ্ধে আগুন জ্বলে উঠেছে। যেদিন আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত তুলেছিল সন্ত্রাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ১৫ জুলাই রাতের বেলা সেই দিন আগুন জ্বলে উঠে ছিল। সেই আগুনেই স্বৈরাচার খার খার হয়ে গিয়েছে। ১৬ তারিখ ছয়জন সিংহ পুরুষ আমাদের অহংকার। তারা গুলির সামনে দাঁড়িয়ে বুক পেতে দিয়েছিল। আবু সাঈদ বলে ছিল, আমাকে আমার অধিকার দেন। না হয় একটা গুলি দেন। ডানা মেলে বলেছিল। বুকের ভিতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি, গুলি কর। গুলি বুকে নিয়েছে, পালিয়ে যায় নি। আমাদের কাঁদে শহীদের লাশ রেখে গেছে। হাতের তালুতে রেখে গেছে তাজা রক্ত। আমরা রক্তের সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আইনজীবী আব্দুল আওয়ালের সঞ্চালনায় নির্বাচনী পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর-২ ইসলামপুর আসনের এমপি প্রার্থী ড. ছামিউল হক ফারুকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)'র জিএস এস এম ফরহাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, জামালপুর-১ দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী আইনজীবী মাওলানা নাজমুল হক সাইদী, জামালপুর-৩ মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা মজিবুর রহমান আজাদী প্রমুখ। নির্বাচনী পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত