ইরানকে কঠোর ভাষায় চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, তাদের ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’।
রোববার (১৭ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে অংশ নেওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই বার্তাটি দেন।
সেখানে ট্রাম্প লেখেন, ‘তাদের উচিত পদক্ষেপ নেওয়া, দ্রুত; না হলে তাদের আর কোনো কিছুই থাকবে না। এখন সময়টাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ!’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলমান সংঘাত চিরতরে অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার জবাবে মার্কিন প্রশাসন কোনো ধরনের শক্ত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপস না করার অনমনীয় মনোভাবের কারণে চলমান এই ‘আলোচনায় চরম অচলাবস্থা’ দেখা দিতে পারে।
এর আগে, গত এপ্রিল মাসের শুরুতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগের মুহূর্তেও ট্রাম্প চরম হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে ‘পুরো একটি সভ্যতা’ ধ্বংস হয়ে যাবে। তার সাম্প্রতিক এই কঠোর বার্তাতেও মূলত সেই একই ধ্বংসাত্মক হুমকির সুর পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের উত্থাপিত দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতিটি এখন কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেছেন যে, তেহরানের দেওয়া দাবিগুলো ছিল অত্যন্ত ‘দায়িত্বশীল’ ও ‘উদার’। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের মূল দাবির মধ্যে ছিল সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, যা মূলত লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ যোদ্ধা দল হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলার দিকেই সরাসরি ইঙ্গিত করে।
এর পাশাপাশি ইরানের প্রধান প্রধান বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত কঠোর অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া, ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো সামরিক হামলা না চালানোর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দেওয়া এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করার দাবিও জানায় তেহরান। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিজস্ব সার্বভৌমত্বের বিষয়েও নতুন করে জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ বাহিনী ইরানের ওপর একযোগে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে কূটনৈতিক আলোচনার সুবিধার্থে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি হলেও তা মূলত উভয় পক্ষই মেনে আসছিল। তবে ইরান এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চলাচলের এই আন্তর্জাতিক জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
দ্রুত সময় ফুরিয়ে আসছে ইরানের , ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা
দ্রুত সময় ফুরিয়ে আসছে ইরানের , ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা
ইরানকে কঠোর ভাষায় চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেছেন, তাদের ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’। রোববার (১৭ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে অংশ নেওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই বার্তাটি দেন। সেখানে ট্রাম্প লেখেন, ‘তাদের উচিত পদক্ষেপ নেওয়া, দ্রুত; না হলে তাদের আর কোনো কিছুই থাকবে না। এখন সময়টাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ!’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলমান সংঘাত চিরতরে অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার জবাবে মার্কিন প্রশাসন কোনো ধরনের শক্ত ছাড় দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপস না করার অনমনীয় মনোভাবের কারণে চলমান এই ‘আলোচনায় চরম অচলাবস্থা’ দেখা দিতে
পারে। এর আগে, গত এপ্রিল মাসের শুরুতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগের মুহূর্তেও ট্রাম্প চরম হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে ‘পুরো একটি সভ্যতা’ ধ্বংস হয়ে যাবে। তার সাম্প্রতিক এই কঠোর বার্তাতেও মূলত সেই একই ধ্বংসাত্মক হুমকির সুর পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের উত্থাপিত দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতিটি এখন কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেছেন যে, তেহরানের দেওয়া দাবিগুলো ছিল অত্যন্ত ‘দায়িত্বশীল’ ও ‘উদার’। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের মূল দাবির মধ্যে ছিল সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, যা মূলত লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ যোদ্ধা দল হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলার দিকেই সরাসরি ইঙ্গিত করে। এর পাশাপাশি ইরানের প্রধান প্রধান বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর
আরোপিত কঠোর অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া, ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো সামরিক হামলা না চালানোর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দেওয়া এবং যুদ্ধের কারণে হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করার দাবিও জানায় তেহরান। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিজস্ব সার্বভৌমত্বের বিষয়েও নতুন করে জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ বাহিনী ইরানের ওপর একযোগে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে কূটনৈতিক আলোচনার সুবিধার্থে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি হলেও তা মূলত উভয় পক্ষই মেনে আসছিল। তবে ইরান এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চলাচলের এই আন্তর্জাতিক জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত