খুলনার দাকোপে মৎস্য ঘেরের মালিকানা কেন্দ্রিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর এবং আসামি ছিনতাইয়ের মতো এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পাঁচ ঘণ্টার মাথায় যৌথ বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনার সূত্রপাত ও মৎস্য ঘেরের বিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাকোপের পানখালী ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বাইরের প্রায় ৪০ বিঘা জমির একটি মাছের ঘের নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপক্ষে রয়েছেন আবদুল্লাহ ফকির ও বাবলু সানা, অন্যপক্ষে মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজী। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৬ মে ঘের দখলের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে ২০ ও ২২ মে দফায় দফায় হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় দাকোপ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে আসামি গ্রেপ্তার ও ছিনতাই
শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে মামলার প্রতিবাদে স্থানীয়রা চালনা উপজেলা সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় খুলনা র্যাব-৬ এর একটি দল মামলার এজাহারভুক্ত দুই প্রধান আসামি মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীকে গ্রেপ্তার করে।
আসামিদের নিয়ে যাওয়ার পথে আচাঁভুয়া বাজার এলাকায় উগ্র জনতা র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন র্যাবের ওপর চড়াও হয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
রাজনৈতিক নেতাদের মিশ্র বক্তব্য ও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন
ঘটনার পরপরই উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তারা দাবি করেন, জমি দখলের প্রতিবাদে হওয়া মিছিল থেকে অন্যায়ভাবে লোক তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর বা আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন।
এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ঘের ব্যবসায়ী বাবলু সানা। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি ও ঘের দখলের পাঁয়তারা করছিল এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ লুট করেছে।
যৌথ বাহিনীর আল্টিমেটাম ও আসামিদের আত্মসমর্পণ
আসামি ছিনতাইয়ের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এলাকায় অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়, পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীও এগিয়ে আসে।
র্যাব-৬ এর কমান্ডার লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান,
"আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম—আইন অনুযায়ী আসামি না নিয়ে আমরা যাব না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা একজোট ছিলাম।"
যৌথ বাহিনীর এমন কঠোর অবস্থান এবং সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়েন আসামিরা। অবশেষে ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় আসামিদের পুনরায় উদ্ধার করে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ খায়রুল বাসার নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধারকৃত আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দাকোপে রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা: র্যাবের গাড়ি ভেঙে আসামি ছিনতাই, ৫ ঘণ্টা পর পুনরায় গ্রেপ্তার
দাকোপে রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা: র্যাবের গাড়ি ভেঙে আসামি ছিনতাই, ৫ ঘণ্টা পর পুনরায় গ্রেপ্তার
খুলনার দাকোপে মৎস্য ঘেরের মালিকানা কেন্দ্রিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর এবং আসামি ছিনতাইয়ের মতো এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পাঁচ ঘণ্টার মাথায় যৌথ বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার সূত্রপাত ও মৎস্য ঘেরের বিরোধস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাকোপের পানখালী ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বাইরের প্রায় ৪০ বিঘা জমির একটি মাছের ঘের নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপক্ষে রয়েছেন আবদুল্লাহ ফকির ও বাবলু সানা, অন্যপক্ষে মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজী। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৬ মে ঘের দখলের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে ২০ ও ২২ মে দফায় দফায় হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় দাকোপ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল থেকে আসামি গ্রেপ্তার ও ছিনতাইশনিবার (২৩ মে)
বেলা ১১টার দিকে মামলার প্রতিবাদে স্থানীয়রা চালনা উপজেলা সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় খুলনা র্যাব-৬ এর একটি দল মামলার এজাহারভুক্ত দুই প্রধান আসামি মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীকে গ্রেপ্তার করে। আসামিদের নিয়ে যাওয়ার পথে আচাঁভুয়া বাজার এলাকায় উগ্র জনতা র্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন র্যাবের ওপর চড়াও হয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রাজনৈতিক নেতাদের মিশ্র বক্তব্য ও পাল্টা সংবাদ সম্মেলনঘটনার পরপরই উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তারা দাবি করেন, জমি দখলের প্রতিবাদে হওয়া মিছিল থেকে অন্যায়ভাবে লোক তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর বা আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেন। এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন ঘের ব্যবসায়ী বাবলু সানা।
তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি ও ঘের দখলের পাঁয়তারা করছিল এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ লুট করেছে। যৌথ বাহিনীর আল্টিমেটাম ও আসামিদের আত্মসমর্পণআসামি ছিনতাইয়ের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এলাকায় অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়, পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীও এগিয়ে আসে। র্যাব-৬ এর কমান্ডার লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান,"আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম—আইন অনুযায়ী আসামি না নিয়ে আমরা যাব না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা একজোট ছিলাম।" যৌথ বাহিনীর এমন কঠোর অবস্থান এবং সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়েন আসামিরা। অবশেষে ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় আসামিদের পুনরায় উদ্ধার করে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ খায়রুল বাসার নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধারকৃত আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত