আজ আমি আপনাদের সামনে একজন প্রতারক ব্যাক্তির কার্যক্রম তুলে ধরতে যাচ্ছি। অভিযুক্ত মোঃ তারেক সরকার (৪০), নরসিংদী সদর, বিগত প্রায় তিন বছর যাবত সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিল। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে একাউন্ট খুলতেন এবং এর মাধ্যমে সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের সাথে স¤পর্ক স্থাপন করে প্রতারণামুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। এতে করে সাধারণ মানুষজন প্রতারিত হয়ে আসছিল এবং একই সাথে বিভিন্ন মহলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছিল।
মূলত মোঃ তারেক সরকার একজন চাকুরীচ্যুত সেনাবাহিনীর সদস্য। তিনি ২০০৬ সালে নিয়ম শৃঙ্খলা বহির্ভুত কাজের অভিযোগে সেনাবাহিনী হতে চাকুরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে তিনি উক্ত তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকুরী নেন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছর চাকুরী করেন। এরই সুবাদে তার কারাগারের বিভিন্ন অপরাধীর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক ও প্রতারণামূলক কাজে প্ররোচিত হতে থাকেন। এরপর বিভাগীয় মামলার কারণে তিনি সেখান থেকেও চাকুরীচ্যুত হন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারী পরিমন্ডলে চাকুরী করার সুবাদে সরকারী কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা এবং বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা গড়ে উঠে। ফলে তিনি তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নানাবিধ প্রতারণামূলক কর্মকান্ড শুরু করেন।
প্রতারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উৎস হতে ভুঁয়া মোবাইল সিম এবং অনলাইনে বিভিন্ন উৎস হতে তথাকথিত ভিআইপি সিম সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ক্রয়কৃত এই সকল সিম ব্যবহার করে তিনি সরকারী ও সামরিক বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম এর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট খুলেন। এরপর তিনি উক্ত একাউন্টগুলো হতে অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে ভুয়া পরিচয়ে সখ্যতা গড়ে তুলেন ও বিভিন্ন লোকের চাকুরীর নিয়োগের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশ করতে থাকেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাকুরী পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে বিশাল অঙ্কের অর্থের লেনদেন করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে গত ৬ বছর ধরে তিনি এ ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত এবং এসব প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
বিভিন্ন মহলে প্রতারণা করায় র্যাবের নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ আসা শুরু করে। উক্ত অভিযোগ সমূহের বিষয়গুলো আমলে নিয়ে র্যাবের একটি চৌকস দল এতদ্বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোঃ তারেক সরকার এর অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং গতকাল ২৪ মে ২০২৬ তারিখ মোঃ তারেক সরকারকে নরসিংদী সদর এর সঙ্গীতা মোড় এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার এর পর তার বাসা তল্লাশী করে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে একটি বাধাই করা ছবি রয়েছে যেখানে তার সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ছবি ফটোশপের মাধ্যমে এডিট করা। এই ছবিটি ব্যবহার তিনি প্রতারণার কাজে প্রভাব বিস্তার খাটাতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উক্ত সকল প্রতারণামুলক কর্মকান্ডে স¤পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়াও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার সহযোগী হিসেবে জনৈক মোঃ পলাশ কবির (৪২) নামে এক ব্যাক্তির যোগসূত্র পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব ও বিজিবির একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা জেলার সায়েদাবাদ এলাকা হতে গতকাল ২৪ মে ২০২৬ তারিখ অভিযান পরিচালনা করে মোঃ পলাশ কবির (৪২)’কে আলামত সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
উক্ত গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক তারেক সরকারসহ ২ জন গ্রেফতার
চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক তারেক সরকারসহ ২ জন গ্রেফতার
আজ আমি আপনাদের সামনে একজন প্রতারক ব্যাক্তির কার্যক্রম তুলে ধরতে যাচ্ছি। অভিযুক্ত মোঃ তারেক সরকার (৪০), নরসিংদী সদর, বিগত প্রায় তিন বছর যাবত সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিল। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে একাউন্ট খুলতেন এবং এর মাধ্যমে সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের সাথে স¤পর্ক স্থাপন করে প্রতারণামুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। এতে করে সাধারণ মানুষজন প্রতারিত হয়ে আসছিল এবং একই সাথে বিভিন্ন মহলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছিল। মূলত মোঃ তারেক সরকার একজন চাকুরীচ্যুত সেনাবাহিনীর সদস্য। তিনি ২০০৬ সালে নিয়ম শৃঙ্খলা বহির্ভুত কাজের অভিযোগে সেনাবাহিনী হতে চাকুরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে তিনি উক্ত তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকুরী নেন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছর চাকুরী করেন। এরই সুবাদে তার কারাগারের বিভিন্ন অপরাধীর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক ও প্রতারণামূলক কাজে প্ররোচিত হতে থাকেন। এরপর বিভাগীয় মামলার কারণে তিনি সেখান থেকেও চাকুরীচ্যুত হন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারী পরিমন্ডলে চাকুরী করার সুবাদে সরকারী কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা এবং বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা
গড়ে উঠে। ফলে তিনি তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নানাবিধ প্রতারণামূলক কর্মকান্ড শুরু করেন। প্রতারণার অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উৎস হতে ভুঁয়া মোবাইল সিম এবং অনলাইনে বিভিন্ন উৎস হতে তথাকথিত ভিআইপি সিম সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ক্রয়কৃত এই সকল সিম ব্যবহার করে তিনি সরকারী ও সামরিক বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম এর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট খুলেন। এরপর তিনি উক্ত একাউন্টগুলো হতে অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে ভুয়া পরিচয়ে সখ্যতা গড়ে তুলেন ও বিভিন্ন লোকের চাকুরীর নিয়োগের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশ করতে থাকেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাকুরী পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে বিশাল অঙ্কের অর্থের লেনদেন করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে গত ৬ বছর ধরে তিনি এ ধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত এবং এসব প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। বিভিন্ন মহলে প্রতারণা করায় র্যাবের নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ আসা শুরু করে। উক্ত অভিযোগ সমূহের বিষয়গুলো আমলে নিয়ে র্যাবের একটি চৌকস দল এতদ্বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। পরবর্তীতে ব্যাপক
অনুসন্ধানের মাধ্যমে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোঃ তারেক সরকার এর অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং গতকাল ২৪ মে ২০২৬ তারিখ মোঃ তারেক সরকারকে নরসিংদী সদর এর সঙ্গীতা মোড় এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার এর পর তার বাসা তল্লাশী করে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে একটি বাধাই করা ছবি রয়েছে যেখানে তার সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ছবি ফটোশপের মাধ্যমে এডিট করা। এই ছবিটি ব্যবহার তিনি প্রতারণার কাজে প্রভাব বিস্তার খাটাতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উক্ত সকল প্রতারণামুলক কর্মকান্ডে স¤পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়াও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার সহযোগী হিসেবে জনৈক মোঃ পলাশ কবির (৪২) নামে এক ব্যাক্তির যোগসূত্র পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব ও বিজিবির একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা জেলার সায়েদাবাদ এলাকা হতে গতকাল ২৪ মে ২০২৬ তারিখ অভিযান পরিচালনা করে মোঃ পলাশ কবির (৪২)’কে আলামত সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উক্ত গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত