বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চারটি আবাসিক হলের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে রিকশার অবৈধ গ্যারেজ স্থাপন করে রাখা হয়েছে। এসব অবৈধ গ্যারেজের জন্য শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তাছাড়া গ্যারেজের আড়ালে অনেকেই মাদক সেবন করে যেটি আবাসিক হলের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নষ্ট করছে। বিশেষ করে ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পরে চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে।
শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে কয়েকবার অবৈধ স্থাপনা সরানোর চেষ্টা করলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের পক্ষে এটি সরানো সম্ভব হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলে তারা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সহযোগিতায় উচ্ছ্বেদ অভিযান চালায় কিন্তু কিছুদিন পর এই গ্যারেজ আবার দৃশ্যমান হয়। শিক্ষার্থীদের দাবী উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল সংলগ্ন ফুটপাথে অবৈধ ভাতের হোটেল দেয় স্থানীয়রা। এ নিয়ে বুটেক্স ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবী জানায়। বুটেক্সের সিকিউরিটি সেকশন হোটেলটি উচ্ছ্বেদ করতে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি ঢাকা পলিটেকনিকের একজন রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে বসানো হয়েছে এবং তার নির্দেশ ছাড়া এই হোটেল সরানো হবে না।
পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে জানতে চাইলে জি.এম.এ.জি ওসমানী হলের ছাত্র প্রতিনিধি সৌমিক সাহা জানান, কিছুদিন আগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এবং হাতিরঝিল থানা থেকে কিছু পুলিশ এসে আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন এবং রিকশার মহাজনদের মৌখিকভাবে জায়গা খালি করতে বলেন কিন্তু চোখে পড়ার মত কোন পদক্ষেপ তারা গ্রহন করেন নি।
বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলের ৪৯ তম ব্যাচের আবাসিক শিক্ষার্থী নওরিন আমিন বলেন, সন্ধ্যার পরে রিক্সার গ্যারেজের সামনে দিয়ে হাটতে অনিরাপদ বোধ হয়। বেশ কয়েকবার বাজে শব্দ ও ইভটিজিং এর স্বীকার হয়েছি। অন্ধকার জায়গায় রিক্সার স্তুপের কারণে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ আরো ভয়ানক কিছু হতে পারে। সবমিলিয়ে মেয়েদের হলের সামনে এই রিক্সার গ্যারেজ অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
শহীদ আজিজ হলের শিক্ষার্থী নুজহাত ইসলাম নির্জন জানান, হলের ঠিক সামনেই কোন ধরনের কোন অবৈধ স্থাপনা না থাকলেও রাস্তার মাথায় এই ধরনের অনেক রিকশা এবং ভ্যানের গ্যারেজ আছে যা যাতায়াতের পথে অসুবিধে সৃষ্টি করে।
এই নিয়ে সিকিউরিটি সেকশনের এসিস্ট্যান্ট টেকনিকাল অফিসার ও সিকিউরিটি ইন্সপেকটর বাবুল আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শুধু হল নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশেও এই ধরনের গ্যারেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে। আমরা কয়েকবার চেষ্টা করার পর যখন দেখি এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে তখন আমরা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নিকট হস্তান্তর করি। তারাই বর্তমানে এটি নিয়ে কাজ করছেন।
গ্যারেজ উচ্ছ্বেদ এর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানে শুধু পুলিশি সম্পৃক্ততা থাকলেই হবে না সিটি কর্পোরেশনকেও যৌথভাবে কাজ করতে হবে। মাননীয় উপাচার্য এই বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তিনি ব্যাপারটি পর্যবেক্ষনে রেখেছেন এবং খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে।
পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে কাজ সম্পাদন করছে কিনা এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমি এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন সহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা বলেছে কেবল ক্যাম্পাস এবং হলই নয় বরং তারা পুরো তেজগাঁও এলাকার সমস্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন। তবে এখানে রাজনৈতিক কিছু ব্যাপার থাকার কারণে তাদের কিছুটা সময় লাগবে।
তেজগাঁও থানার ওসি আসলাম উদ্দীনের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন জয়েন করেছি। আমার কাছে এ ধরণের কোন আবেদন আসে নি। ওই রাস্তাগুলো (বুটেক্সের হলের সামনের রাস্তাগুলো) সিটি কর্পোরেশনের অধীনে। তাই উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের কাছে নির্দেশ আসলে আমরা ব্যবস্থা নিব। তাছাড়া উচ্ছেদ অভিযান একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আইনগতভাবে এ ব্যাপারে আগাতে হবে। আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারব না।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব
শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে কয়েকবার অবৈধ স্থাপনা সরানোর চেষ্টা করলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের পক্ষে এটি সরানো সম্ভব হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলে তারা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সহযোগিতায় উচ্ছ্বেদ অভিযান চালায় কিন্তু কিছুদিন পর এই গ্যারেজ আবার দৃশ্যমান হয়। শিক্ষার্থীদের দাবী উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়াল সংলগ্ন ফুটপাথে অবৈধ ভাতের হোটেল দেয় স্থানীয়রা। এ নিয়ে বুটেক্স ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবী জানায়। বুটেক্সের সিকিউরিটি সেকশন হোটেলটি উচ্ছ্বেদ করতে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি ঢাকা পলিটেকনিকের একজন রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে বসানো হয়েছে এবং তার নির্দেশ ছাড়া এই হোটেল সরানো হবে না।
পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে জানতে চাইলে জি.এম.এ.জি ওসমানী হলের ছাত্র প্রতিনিধি সৌমিক সাহা জানান, কিছুদিন আগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এবং হাতিরঝিল থানা থেকে কিছু পুলিশ এসে আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন এবং রিকশার মহাজনদের মৌখিকভাবে জায়গা খালি করতে বলেন কিন্তু চোখে পড়ার মত কোন পদক্ষেপ তারা গ্রহন করেন নি।
বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলের ৪৯ তম ব্যাচের আবাসিক শিক্ষার্থী নওরিন আমিন বলেন, সন্ধ্যার পরে রিক্সার গ্যারেজের সামনে দিয়ে হাটতে অনিরাপদ বোধ হয়। বেশ কয়েকবার বাজে শব্দ ও ইভটিজিং এর স্বীকার হয়েছি। অন্ধকার জায়গায় রিক্সার স্তুপের কারণে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ আরো ভয়ানক কিছু হতে পারে। সবমিলিয়ে মেয়েদের হলের সামনে এই রিক্সার গ্যারেজ অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
শহীদ আজিজ হলের শিক্ষার্থী নুজহাত ইসলাম নির্জন জানান, হলের ঠিক সামনেই কোন ধরনের কোন অবৈধ স্থাপনা না থাকলেও রাস্তার মাথায় এই ধরনের অনেক রিকশা এবং ভ্যানের গ্যারেজ আছে যা যাতায়াতের পথে অসুবিধে সৃষ্টি করে।
এই নিয়ে সিকিউরিটি সেকশনের এসিস্ট্যান্ট টেকনিকাল অফিসার ও সিকিউরিটি ইন্সপেকটর বাবুল আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শুধু হল নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশেও এই ধরনের গ্যারেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে। আমরা কয়েকবার চেষ্টা করার পর যখন দেখি এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে তখন আমরা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নিকট হস্তান্তর করি। তারাই বর্তমানে এটি নিয়ে কাজ করছেন।
গ্যারেজ উচ্ছ্বেদ এর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানে শুধু পুলিশি সম্পৃক্ততা থাকলেই হবে না সিটি কর্পোরেশনকেও যৌথভাবে কাজ করতে হবে। মাননীয় উপাচার্য এই বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তিনি ব্যাপারটি পর্যবেক্ষনে রেখেছেন এবং খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে।
পুলিশ এবং সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে কাজ সম্পাদন করছে কিনা এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমি এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন সহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা বলেছে কেবল ক্যাম্পাস এবং হলই নয় বরং তারা পুরো তেজগাঁও এলাকার সমস্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন। তবে এখানে রাজনৈতিক কিছু ব্যাপার থাকার কারণে তাদের কিছুটা সময় লাগবে।
তেজগাঁও থানার ওসি আসলাম উদ্দীনের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন জয়েন করেছি। আমার কাছে এ ধরণের কোন আবেদন আসে নি। ওই রাস্তাগুলো (বুটেক্সের হলের সামনের রাস্তাগুলো) সিটি কর্পোরেশনের অধীনে। তাই উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের কাছে নির্দেশ আসলে আমরা ব্যবস্থা নিব। তাছাড়া উচ্ছেদ অভিযান একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আইনগতভাবে এ ব্যাপারে আগাতে হবে। আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারব না।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব