বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে গাংনীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
logo

বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে গাংনীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ভাদ্র মাসের শুরু থেকেই মেহেরপুরের গাংনীতে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানিতে থৈ থৈ করছে। প্রবেশ পথসহ খেলার মাঠগুলো পানিতে টইটম্বুর। এমন কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোর শ্রেনী কক্ষের বারান্দা থেকে পানি শুকিয়ে গেলেও খেলার মাঠ দুই মাসের অধিক সময় ধরে ডুবে আছে ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নিচে। 

অনেক অভিভাবকেরা আছেন জমে থাকা নোংরা পানিতে গেলে রোগবালায় কিংবা দুর্ঘটনার ভয়ে সন্তানকে স্কুল পাঠানো থেকে বিরত থাকছেন। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এসকল প্রতিষ্ঠানে। দির্ঘদিন ধরেই বর্ষার মৌসুম যায়, পুরাতন সভাপতি পরিবর্তন হয়, নতুন সভাপতি আসে। তবে জলাবদ্ধতা নিরষনে নেয়া হয় না স্থায়ী কোন সমাধান। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ আর কষ্ট নিয়েই শ্রেনীকক্ষে যেতে হয়। আর এই জলাবদ্ধতা নিরসনের স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাসহ অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ।

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করেই ক্লাস রুমে যেতে হয়। অনেকে আবার পড়েও যায়। সরকার বিভিন্ন খাতে খরচ করে তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া স্কুলের পাশে থাকা পাবলিক টয়লেটের মল-মূত্র এসে মাঠে জমে থাকা পানির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীদের  অভিযোগ, হাটু পানিতে বই পত্র নিয়ে শ্রেনী কক্ষ পর্য্ন্ত পৌছাতে ভিজে যায় পোশাক। আর পড়ে গেলে বইগুলো ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় ছোট ছোট শিশুদের। অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বামন্দী গ্রামের সেন্টু মিয়া বলেন, একটা সময় ছিলো এই খেলার মাঠটিতে খেলা দেখতে হাজার হাজার মানুষ আসতো। আজ সেখানে জমে আছে কমর পানি। আর এই পানির রং এতটাই কালো যে,তার মধ্য পা দিতেও ভয় লাগে।

বামন্দী পশুহাট পাড়ার বাসিন্দা রিনা খাতুন নামের এক অভিভাবক বলেন, দীর্ঘ সময় ধরেই বামন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আছে। এতে একদিকে যেমন চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে শিক্ষক। অন্যদিকে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় পাঠিয়ে আতঙ্কে সময় পার করি। কারন, স্কুল মাঠের পাশে রয়েছে একটি গভীর গর্ত। আর সেই গর্তসহ পুরো মাঠ পানির নিচে। বাচ্চারা যদি খেলার ছলেও গিয়ে গর্তে পড়ে যায়। তাহলেই সব শেষ। তাই অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর করার জোর দাবি জানায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

বামন্দী নিশিপুর স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সাগর আহমেদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি বামন্দী নিশিপুর স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে জলবদ্ধতা। এটা বামন্দী এলাকার একটি জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠ। কিন্তু দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে কোন খেলায় এখানে হয় না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। পাইপ দিয়ে পানি বাইরে বের করে দিচ্ছে, কিন্তু আমরা চায় স্থায়ী সমাধান। তাছাড়া খেলার মাঠের সাথে গনসৌচাগার যেখান থেকে নোংরা পানি এসে জমছে খেলার মাঠে।

আরেক শিক্ষার্থী বালিয়াঘাট গ্রামের তারেখ বলেন, বামন্দী নিশিপুর স্কুল এন্ড কলেজটি হচ্ছে জেলার সবচেয়ে বানিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজেস্ব মার্কেটে রয়েছে ২"শ ৫০ টি দোকান। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানের মাঠের এই দুর অবস্থা। 

বামন্দী নিশিপুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল সাজেদুর রহমান স্বপন বলেন, আমাদের এখানে দীর্ঘদিন ধরে জলবদ্ধতা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে অনেক পানি জমে যায়। তবে আমরা উদ্যোগ নিয়ে স্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সপ্তাহ খানেক ধরে কিছু পানি কমিয়ে চলাচলের ব্যাবস্থা করেছিলাম। আবার গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তা আগের চেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আসলে এভাবে হয় না। তবে এর একটা স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। আমরা এখন পর্যন্ত সরকারি কোন অনুদান পায়নি। আর জেলা পরিষদ থেকে যে অনুদান দেয়ার কথা রয়েছে সেটাও এখনো হাতে পায়নি। তাছাড়া বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম (অ:দা:) বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এটা নিরসনের জন্য আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ করছি। প্রতিষ্ঠান গুলোর তথ্য সংগ্রহ করছি। জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যাালয় মাঠে জলাবদ্ধতার কথা শুনেছি এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের সাথে কথা বলে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন