বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কয়েক গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ৪
logo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কয়েক গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পূর্ব শত্রুতা,বিদেশের টাকা পয়সা লেনদেন ও সন্দেহকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে মাফাজুল ইসলাম (৫০) নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাফাজুল। এর আগে মঙ্গলবার উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে নিহত হন আক্তার মিয়া (৪৫) ও হাবিবুর রহমান (৩৫) আর একজনের নাম জানা যায়নি।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের সমর্থক রহিম তালুকদার গ্রুপ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক কাশেম মিয়া গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের আগের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে একপক্ষ শক্তি বাড়ায়

এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘লোক ভাড়া করে’ এনে সংঘর্ষ
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অংশ নেয় এবং বাইরের এলাকা থেকেও লোকজন আনা হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, যদিও বিপুলসংখ্যক লোকের উপস্থিতির কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও এলাকায় অবস্থান নেয় এবং ব্যাপক তল্লাশি ও ধরপাকড় অভিযান চালানো হয়।

নিহতদের মধ্যে আক্তার মিয়া গোয়ালনগর গ্রামের হাছন আলীর ছেলে এবং হাবিবুর রহমান একই গ্রামের হান্নান মিয়ার ছেলে। হাবিবুর রহমান স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন।

এদিকে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত মাফাজুল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সন্দেহ ও বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। গত ১৭ মার্চ দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়, এতে প্রায় ৫০ জন আহত হন।এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, জাল ভোটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া সন্দেহ ও ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বাইরের লোকজন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।

নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম জানান সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।’

খুঁজুন