বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা আশুলিয়ার তিন সড়কে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন দ্বিগুণ ভাড়ায় বেড়েছে: দুর্ভোগ সাধারণ মানুষের
logo

আশুলিয়ার তিন সড়কে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন দ্বিগুণ ভাড়ায় বেড়েছে: দুর্ভোগ সাধারণ মানুষের

ঈদকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার তিন সড়কে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল।একই সঙ্গে সড়ক ও মহাসড়কে বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ। এই ঘরমুখো মানুষের ও গণপরিবহনের বাড়তি চাপে সৃষ্টি হয়েছে ধীরগতি। গত বুধবার ১৮ মার্চ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক।নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। সড়কগুলোতে হঠাৎ যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া সড়কে প্রয়োজনের চেয়ে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঙ্ক্ষিত বাসের জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। এরই মধ্যে কেউ আবার ৫৫০ টাকা ভাড়ার টিকিট ১ হাজার ৫৫০ টাকায় কিনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।সবকিছু মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপদে এবং স্বস্তিতে বাড়ি ফেরার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটি অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর, ফুলবাড়িয়া, গেন্ডা, পাকিজা, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, সিএন্ডবি, বিশমাইল, নবীনগর, বাইপাইল, জামগড়া ও জিরাবো এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি সড়কেই বিকেলের পর থেকে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।এ ছাড়া সড়কে কাঙ্ক্ষিত বাস যথাসময়ে না পৌঁছানোয় অনেককেই টিকিট হাতে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতে দেখা গেছে।
মহাসড়ক থেকে শাখা সড়ক এমনকি আঞ্চলিক সড়কেও ছড়িয়ে পড়েছে যানজট। দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়া রিজার্ভ বাসগুলো যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে উঠতে গেলে এলাকার সরু সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়।
এসব যানবাহন যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে উঠে আসায় বিকেল থেকেই সাভারের সিএন্ডবি-আশুলিয়া সড়ক, বিশমাইল-জিরাবো সড়কসহ বিভিন্ন শাখা সড়কে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।অন্যদিকে শাখা সড়ক ছাপিয়ে যখন এসব যানবাহন মহাসড়কে উঠে আসছে। সেখানেও একই অবস্থা। একযোগে অতিরিক্ত গাড়ি মহাসড়কে উঠে আসায় বিকেল থেকেই সাভারে রেডিও কলোনি থেকে নবীনগর,পল্লী বিদ্যুৎ থেকে চন্দ্রা এবং বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে আরো ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি না পেয়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। কাঙ্ক্ষিত বাস না পেয়ে অনেকেই ট্রাক ও পিকআপের ওপর ত্রিপল টানিয়ে তার ওপর চেপেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছেন।
একসঙ্গে অধিক যাত্রী এবং গণপরিবহনের বাড়তি চাপে মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি ও যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।
সাভার পরিবহনের যাত্রী শহিদুল ইসলাম বলেন, বিকেল ৫টায় হেমায়েতপুর থেকে রংপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিজার্ভ বাসে উঠেছি। প্রায় দুই ঘণ্টায় আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ আসতে পারছি। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে গাড়ি থেমে থেমে চলার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো যাত্রীদের।
নীলাচল পরিবহনের বাসের চালক সোলায়মান বলেন, সড়কের কিছু কিছু জায়গায় দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। এ ছাড়া পুরো সড়কে যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় যানবাহনগুলো থেমে থেমে চলছে। গতকালের থেকে আজ যাত্রী ও গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে যানজটে দুর্ভোগ বেড়েছে।
রংপুরগামী সাভার পরিবহনের যাত্রী শফিউল আলম বলেন, ‌আমি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে রংপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। তবে আশুলিয়ার বাইপাইল পর্যন্ত আসতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। রাস্তায় যানবাহনের চাপে ধীরগতিতে চলছে আমাদের বাসও। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সেলফি পরিবহন বাসের চালক নঈম বলেন, সড়কের কিছু জায়গায় যানজট সৃষ্টি হওয়ায় থেকে থেমে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। গতকালের থেকে আজ যাত্রী ও গাড়ির চাপ বেড়েছে। তাই যানজট সৃষ্টি হয়েছে।পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত সোমবার থেকে ধাপে ধাপে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্প কারখানাগুলো ছুটি দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। বুধবার একযোগে সব কারখানা ছুটি হওয়ায় দুপুরের পর থেকে সাভারের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করছেন যাত্রীরা।
এ সময় অনেকে টিকিট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। যাঁরা টিকিট পেয়েছেন, তাঁরা বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছু কাউন্টারের সামনে 'সিট খালি নেই' লেখা নোটিশ টাঙানো থাকার পরও যাত্রীরা টিকিটের খোজে কাউন্টারে ভিড় করছে।
পোশাক শ্রমিক সোহেল রানা বলেন, আমি অল্প বেতনে পোশাক কারখানায় কাজ করি। বেতনের অর্ধেক টাকা বোনাস পেয়েছি। বাড়িতে মা, বাবা ও স্ত্রী সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করতে গগ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় যাব। কিন্তু বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে। এত টাকা দিয়ে বাড়িতে যামু আর ঈদ করুম ক্যামনে ভাবতে পারছি না।
এদিকে সাভারের সিএন্ডবি, নবীনগর, পল্লীবিদ্যুৎ এবং বাইপাইল এলাকায় বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে সারিবদ্ধভাবে দূরপাল্লার শতাধিক বাস দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা গেছে। মূলত কৌশলে বেশি ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যেই বিভিন্ন বাস কাউন্টারের লোকজনের যোগসাজশে বাসচালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যে এসব বাস দাঁড় করিয়ে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, বিকেল থেকে যাত্রীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্দিষ্ট কাউন্টারের নির্ধারিত বাসের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।এ সময় বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে দাঁড় করিয়ে রাখা বাসের ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে টিকিট কিনতে বাধ্য করছেন কাউন্টারসহ সংশ্লিষ্ট বাসচালকেরা।
রংপুরের যাত্রী সুলতান কবির বলেন, কয়েকদিন ধরে কাউন্টারে কাউন্টারে ঘুরছি টিকিটের জন্য। সকাল থেকে কাউন্টারের পাশে ফাঁকা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও অসংখ্য যাত্রী গাড়ি না পেয়ে রাস্তায় বসে আছে।কাউন্টার থেকে টিকিট নেই বলে তারা হায়েস মাইক্রোবাস ও দাঁড়িয়ে থাকা লোকাল বাস দেখিয়ে দিচ্ছে। যেখানে আগে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় যেতে পারতাম, এখন ওই লোকাল বাসে রংপুর পর্যন্ত ভাড়া চাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
ঈদে তো বাড়ি যেতেই হবে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের যানজট এবং বিশৃঙ্খলা দূর করতে তিন-চার দিন ধরেই পুলিশের সদস্যরা আমিনবাজার থেকে জিরানী পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন।
দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও গার্মেন্টসগুলো ছুটি হয়ে যাওয়ায় বিকেলের পর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে আমরা মাঠে রয়েছি এবং যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে কাজ করে যাচ্ছি।

খুঁজুন