বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
জাতীয় ৮০০ কোটি ইউরো পাচার, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক
logo
সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদন

৮০০ কোটি ইউরো পাচার, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক

এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) এবং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন সাইপ্রাসের একটি সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে. ব্যাংক জালিয়াতি ও ৮০০ কোটি ইউরো অর্থ পাচারের অভিযোগে। চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ জারি করেছে সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সাইপ্রাস মেইল। গত ১৯ মে সাইপ্রাসের অর্থপাচারবিরোধী ইউনিট মোকাস (মোকাস)-এর আবেদনের পর এস আলম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্পত্তি জব্দের আদেশ আসে। বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার আওতায় এই অনুরোধ পাঠানো হয়।

তবে সাইফুল আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি। জব্দ করা সম্পত্তিটি সাইপ্রাসের পারেক্লিসিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি দুইতলা বাড়ি।

সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানি ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনা নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচার।

এই সম্পত্তি জব্দের আদেশের একদিন পর এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার বেশি) প্রদানের দায়ে সাইফুল আলম এবং তার ১০জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন বাংলাদেশের আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৬ মিলিয়ন ইউরো ঋণ নেওয়া হলেও সেই অর্থে ১৩৪টি বাস কেনা হয়নি।

তদন্তের পরিধি কেবল এই একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো অনুরোধে বলা হয়েছে, সাইফুল আলমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যার একটি বড় অংশ পরে খেলাপি হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই ঋণের অর্থ বিভিন্ন দেশের জটিল প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরোর (৮০০ কোটি ইউরো) বেশি অর্থ পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই পাচার করা অর্থের একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশের সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সূত্র:সাইপ্রাস মেইল

খুঁজুন