বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিক পালন হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু চাঁদাপুর লঞ্চঘাটে চাঁদা না দেয়ায় দুই যাত্রীর ওপরে হামলা, থানায় জিডি বিদ্যুতের দাম বাড়ল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল বাজেট তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে: অর্থমন্ত্রী আসামি সোহেল-স্বপ্না নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যা বললেন "প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে"
সারাবাংলা ৪৯ হাজার টাকার চাকরি :  ২০ কোটি টাকার সম্পদ! অনুসন্ধানে দুদক
logo

৪৯ হাজার টাকার চাকরি :  ২০ কোটি টাকার সম্পদ! অনুসন্ধানে দুদক

মাসিক বেতন মাত্র ৪৯ হাজার টাকা। চাকরি করেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি ইনচার্জ হিসেবে। অথচ সেই সীমিত আয়ের চাকরিতেই গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদের সাম্রাজ্য! এমন বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দশম গ্রেডের কর্মচারী সুব্রত কুমার দাস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্রে দেখা গেছে, সুব্রত দম্পতির নামে-বেনামে গড়া মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পদ এবং সুব্রতর নিজের নামেও রয়েছে অন্তত ৫ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। অথচ আয়কর নথিতে এসব সম্পদের বড় অংশের কোনো উল্লেখ নেই।

জানা গেছে, প্রয়াত সুকুমার দাশের ছেলে সুব্রত কুমার দাসের গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ১১নং হাসানপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামে। তবে তিনি আয়কর ফাইল করেছেন সাতক্ষীরায় এবং তার স্ত্রীর আয়কর ফাইল যশোরে। আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুব্রত কুমার দাস দাবি করেন, এসব সম্পদের মালিক আমার ভাই। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে ভাইয়ের সম্পত্তি কেন তার নিজের নামে? এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে তার স্ত্রীর বিষয়ে। আয়কর নথিতে পেশা উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসায়ী হিসেবে। কিন্তু স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মূলত একজন গৃহিণী। কোনো দৃশ্যমান ব্যবসা বা আয়ের উৎস না থাকলেও কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন সেই প্রশ্নেরও জবাব মেলেনি। এ বিষয়ে সুব্রত বলেন, বাসায় গিয়ে স্ত্রীর কাছে জেনে বলতে হবে।

এদিকে সুব্রত দম্পতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি তাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিস্তর অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন জয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পেছনে সম্প্রতি স্থানীয় এক সাংবাদিকের কাছ থেকে প্রতি কাঠা ২০ লাখ টাকা দরে ১০ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন সুব্রত দম্পতি। যার বাজারমূল্য ২ কোটি টাকারও বেশি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই জমির নামজারির আবেদন করেছেন সুব্রতর স্ত্রী। সেই আবেদনের কপিও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। অথচ সুব্রত দাবি করেছেন, সাতক্ষীরায় আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই। প্রশ্ন হলো তাহলে স্ত্রীর নামে নামজারির আবেদন কেন?

শুধু সাতক্ষীরা নয়, যশোরের বাইরেও রয়েছে সুব্রত দম্পতির বিপুল সম্পদ। নথিপত্রে দেখা যায়, কেশবপুরের হাসানপুর ইউনিয়নে নিজের ও স্ত্রীর নামে পাঁচটি জমি কিনেছেন তিনি। কাবিলপুর মৌজায় প্রাইমারি স্কুলের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১৪৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করেছেন পাঁচতলার ফাউন্ডেশনের দুই তলা ভবন। জমি ও ভবনের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়াও ঢাকায় জমিসহ একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন সুব্রত। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর এসব সম্পত্তি ছাড়াও ব্যাংকে রয়েছে সুব্রতর প্রায় কোটি টাকা। অনুসন্ধানে খোঁজ মিলেছে তার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের তথ্য। সুব্রতর স্ত্রীর নামে অ্যাকাউন্ট রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে। এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংকে আছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ২১ লাখ এবং অগ্রণী ব্যাংকে রয়েছে ৪ লাখ টাকা। এসব সম্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সুব্রত বলেন, আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে তা আসলে আমার ভাইয়ের। আমার ভাই ভুলক্রমে আমার নামে অনলাইন ডকুমেন্ট করে রেখেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর উপ-পরিচালক মামুনুর রশিদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টা ইতিমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন মাত্র ৪৯ হাজার টাকা বেতনের একজন কর্মচারীর পরিবারের নামে কীভাবে গড়ে উঠলো ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়? আর যদি সত্যিই সব সম্পত্তি ভাইয়ের হয়, তাহলে কেন তা নিজের ও স্ত্রীর নামে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আরও বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুঁজুন