English Version

চরবাসী শুধু আশ্রয়কেন্দ্র চান

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৭, ২০১৭, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ


চর গঙ্গামতী ও কাউয়ার চর। বঙ্গোপসাগর ঘেঁষে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পাশাপাশি দুটি জনপদ। জেলার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম আঘাত আসে এখানেই। সিডরে সেখানে মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি সর্বস্ব খুইয়েছিলেন বাসিন্দারা। তবে ১০ বছর পরও কোনো আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। চরবাসী দুর্যোগের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বাস করছেন।

জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রাম দুটি জন্য একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা আমরা করেছি। সেভাবে সরকারি পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। দেশি-বিদেশি কোনো সংস্থাকে যুক্ত করে কাজটি আমরা দ্রুতই করতে পারব বলে মনে করছি।’

চর গঙ্গামতী ও কাউয়ার চর গ্রামে অন্তত ১০ হাজার মানুষের বাস। এখানে অবস্থাসম্পন্ন পরিবার যেমন রয়েছে, তেমনি আছে ছোট ছোট খুপরিঘরে রাত কাটানো অনেক পরিবার। এদের কেউ চিংড়িপোনা ধরে, কেউ মাছ ধরার ট্রলার বা নৌকায় কাজ করে জীবিকা চালায়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস হলে এখানকার বাসিন্দারাই সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে ঘূর্ণিঝড় সিডর থেকে বাঁচতে সাত মাসের শিশু বায়েজিদকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন কাউয়ার চরের বাসিন্দামনির সিকদার। পথে স্রোতের টানে দুজনই ডুবে যান। কোল থেকে ছিটকে যায় বায়েজিদ। পরদিন বায়েজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। মনির বলেন, ‘যহন ঝড়-বইন্যার খবর পাই, যহন সাগরের পানির চাপ বাড়ে, তহন ভয়ে কইলজ্যাডায় চাপ দেয়। সিডরের কতা মোনে ওডলেই মোনডা খারাপ অইয়া যায়।’

সিডরে কাউয়ার চরের আরও দুজন এবং পাশের চর গঙ্গামতীর ছয়জন নারী-পুরুষের মৃত্যু হয়েছিল। কাউয়ার চরের অন্তত ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; গঙ্গামতীতে এ সংখ্যা ছিল ৩৫০। পাশাপাশি ৪০০ গরু-ছাগল ও ২ হাজারের মতো হাঁস-মুরগি মারা যায়। এককথায় সর্বস্ব খোয়ান বাসিন্দারা। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে পড়ায়চর গঙ্গামতী ও কাউয়ার চরের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন স্থানীয় ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল।

দুর্যোগকালে আশ্রয় নেওয়ার জায়গা না থাকায় চরবাসী ক্ষুব্ধ। কাউয়ার চরের জেলেপল্লির আবদুর রশিদ বলেন, ‘আমরা আশ্রয়কেন্দ্রের লাইগ্যা মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে বহু দেনদরবার করছি। মোগো তো যাওয়ার কোনো জায়গা নাই। পানিতে ভাসলে আর ঝড়ে উড়াইয়া নেলেও এইহানেই থাকতে অইবে।’ চর গঙ্গামতীর গোলবানু বেগম বলেন, ‘সিডরে আমাগো সবকিছু ভাসাইয়া লইয়া গ্যাছে। এই চরেই আবার মাথা গোঁজবার ঠাঁই বানাইছি। আমরা কিচ্ছু চাই না। বাঁচার লাইগ্যা আশ্রয়কেন্দ্র চাই।’

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিডরে কলাপাড়ায় ১০৪ জন মারা যান। এর মধ্যে ৯ জন এই দুটি চরের বাসিন্দা। তাঁদের অধিকাংশই বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে বাস করতেন।বিপৎসংকেত পেয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। তবে আশ্রয়কেন্দ্র অধিক দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় যাওয়ার পথে বানে ভেসে যান।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মো. সামসুজ্জোহা বলেন, শুধু কাউয়ার চর বা চর গঙ্গামতী নয়, সাগরতীরে হওয়ায় পুরো কলাপাড়া উপজেলাই ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল ঝুঁকির মুখে থাকে। বর্তমানে উপজেলায় সব মিলিয়ে বড়জোর ৮০-৯০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে। অর্থাৎ উপজেলার বাকি দুই লক্ষাধিক মানুষ দুর্যোগের সময় অরক্ষিত থেকে যাবে। সে হিসাবে আরও অনেক আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা প্রয়োজন।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে পর্যাপ্ত ‘মাটির কিল্লা’ বানাতে হবে। চর গঙ্গামতী ও কাউয়ার চরের বাসিন্দাদের দুর্যোগকালীন নিরাপত্তায় মাটির কিল্লা করতে পাঁচ একর জায়গা চিহ্নিত করা রয়েছে। ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া বিদ্যমান মাটির কিল্লাগুলোর সংস্কার দরকার। সেখানে মাটি ভরাট ও বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। এসব করা গেলেই কেবল দুর্যোগকালীন জীবনের ঝুঁকি কমে আসবে।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT