English Version

শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর স্মৃতির মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৩১, ২০১৭, ৬:০৮ অপরাহ্ণ


ইতিহাসের কলঙ্কিত আজ সেই দিন ৩১ অক্টোবর, ১৯৮৪ সালে যে দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী দুজন শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন। শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর এক বিশিষ্ট পরিবারে। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরার ছাত্র জীবন কেটেছে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী, পুণে ও বোম্বাই-এর পিউপিল্স ওন স্কুল, ব্রিস্টলের ব্যাডমিন্টন স্কুল, স্যুইজারল্যান্ডের বেকস্-এ ইকোলে নোভেল, জেনেভার ইকোলে ইন্টারন্যাশনাল, এবং অক্সফোড্রের সামারভিল কলেজে। তাঁর উজ্জ্বল শিক্ষা জীবনের সুবাদে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছে। তাঁকে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রিতে সম্মানিত করেছে বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ই। মহাত্মা গান্ধী তাকে খুবই স্নেহ করতেন কিশোরী বয়সেই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাজনীতিতে সক্রিয় হন ইন্দিরা। ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে ইন্দিরা বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন ১৯৪২ সালের ২৬ মার্চ আর তাঁকে কারাবন্দী করা হয় ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ১৯৪৭ সালে মহাত্মা গান্ধীর নির্দেশে তিনি দিল্লির দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে কাজ করেছিলেন। ১৯৫৫ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির জাতীয় সংহতি পরিষদের সভানেত্রীর পদও তিনি অলঙ্কৃত করেছিলেন। ১৯৫৬ সালে তিনি নিযুক্ত হন সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে। নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির মহিলা শাখার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ সালে তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সংসদীয় পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৯ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি আবারও কংগ্রেস সভানেত্রী হন ১৯৭৮ সালে। কেন্দ্রীয় সরকারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে তিনি কাজ করেন ১৯৬৪-৬৬ পর্যন্ত। এরপর ১৯৬৬-র জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭-এর মার্চ পর্যন্ত একটানা তিনি ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পরে, ১৯৮০ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন। শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী শৈশবে ‘বাল চড়কা সঙ্ঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে, ১৯৩০ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় কংগ্রেসকে সাহায্য করার জন্য ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘বানর সেনা’। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী যুক্ত ছিলেন, কমলা নেহরু মেমোরিয়াল হসপিটাল, গান্ধী স্মারক নিধি এবং কস্তুরবা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। স্বরাজ ভবন ট্রাস্টের তিনি ছিলেন সভানেত্রী। তিনি যুক্ত ছিলেন বাল সহযোগ, বাল ভবন পর্ষদ এবং চিলড্রেন্স ন্যাশনাল মিউজিয়ামের সঙ্গে।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গেও তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। ১৯৬০ -৬৪ সাল পর্যন্ত ইউনেস্কো-র ভারতীয় প্রতিনিধি দলেও তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন প্রশাসনিক পর্ষদের একজন সদস্য হিসেবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদেরও তিনি ছিলেন একজন সদস্য (১৯৬২)। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কোর্টের তিনি ছিলেন একজন সদস্য। দক্ষিণ ভারত হিন্দি প্রচার সভা, নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরী সোসাইটি সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি, জাতীয় সংহতি পরিষদ, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, এবং জওহরলাল নেহরু স্মারক তহবিলের সঙ্গেও তিনি বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন। বহু সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে এছাড়াও এলাহাবাদে কমলা নেহরু বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাও করেছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সালে দুই সন্তানের মা শ্রীমতি গান্ধী রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হন। এই পদে তিনি ছিলেন ১৯৬৭ -র ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ লোকসভার তিনি ছিলেন একজন সদস্য। প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রীসভায় মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পর ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বচিত হন।
আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ৪ এপ্রিল ১৯৭১ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারি বাসভবনে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন বিএসএফের প্রধান রুস্তমজি। শুরুতেই তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে ভারতের সহযোগিতা চান। এই বৈঠকেই তাঁকে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানি বাহিনী আটক করেছে। তখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার খবরটি গোপন রেখেছিল। এরপর তাজউদ্দীন আহমদ ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার বৈদ্যনাথতলায় আনুষ্ঠানিক শপথ নেয়। দীর্ঘ নয় মাস বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সফল করতে অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যে বিদেশি রাষ্ট্রনেতা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তিনি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী। তিনি প্রথমে সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে না জড়িয়ে বাংলাদেশে দখলদার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন ও শরণার্থী সমস্যাটি বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে ইউরোপ ও আমেরিকায় ঝটিকা সফর করেন। শক্তিশালী আমেরিকা ও চীন ছিল তখন পাকিস্তানের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ইন্দিরা গান্ধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আমি ওয়াশিংটনের আবহাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে আসিনি। এসেছি সাড়ে সাত কোটি মানুষের ন্যায়সংগত সংগ্রাম এবং এক কোটি শরণার্থীর দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে।’
পাকিস্তান আত্মরক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে ৩ ডিসেম্বর ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এর পূর্বে অক্টোবর-নভেম্বর মাসজুড়ে ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন রণক্ষেত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে লেখা চিঠিতে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই, যুদ্ধে এবং জীবন উৎসর্গে এই সহযাত্রা মহৎ আদর্শের প্রতি এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।’ এটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রথম স্বীকৃতি। দ্বিতীয় স্বীকৃতি দেয় ভুটান। ১৬ ডিসেম্বর দখলদার বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল নিয়াজি ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেন। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্বাসন কাজেও ইন্দিরা গান্ধীর সরকার সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন দুঃসময়ের বন্ধু। ১৯৭১ সালে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং পাকিস্তানে জেলে আটক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির লক্ষ্যে বিশ্ব জনমত তৈরির জন্যে সারা বিশ্ব সফর করেছিলেন। শ্রীমতী ইন্দিরার মতো মহিয়সী নারীকে যারা অবমূলল্যায়ন করতে বিচলিত হন না তারা ভাবেন না যে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের সঙ্গে, বিজয়ের গৌরবের সঙ্গে ভারত ও তার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অনন্য অবদান জড়িত। ইন্দিরা গান্ধীর মতো মহিয়সী নারীর বিচক্ষণ পদক্ষেপ ও অবদান ব্যতীত আমরা স্বাধীনতা সহজে লাভ করতে পারতাম না। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তাদান কালে ভারতের সেনাবাহিনীর ৩৬৩০ জন নিহত এবং ৯৮৫৬ জন আহত এবং ২৩০ জন নিখোঁজ হয়েছিলো।
মুক্তিবাণী’ পত্রিকায় বঙ্গবিবেক আবুল ফজল ইন্দিরা গান্ধী সম্পর্কে লিখেছিলেন, আমাদের স্বাধীনতার জন্য আমরা বাংলাদেশের বাইরের কারো কাছে যদি এককভাবে ঋণী হয়ে থাকি, তাহলে তিনি হচ্ছেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। মাত্র ‘ন’ মাসে আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি তার প্রধান কারণ ভারতের সহায়তা ও সশস্ত্র হস্তক্ষেপ। সে হস্তক্ষেপ মানে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। ইতিহাসের এই দুঃসাহসী, দূরদর্শিনী ও অসামান্যা নারীর সার্বিক সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ না হলে আমাদের স্বাধীনতা যে শুধু বিলম্ব হতো তা নয়, বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-দুর্গতিরও সীমা থাকতো না। পৃথিবীর প্রথম সারির সেনাবাহিনীর বিরুধ্যে মাত্র নয় মাসে বেসামরিক জনগণের যুদ্ধ করে জয়লাভ অসম্ভব ব্যপার। কিছু আন্তর্জাতিক ঘটনা, ব্যক্তিবর্গের ভুমিকায় আমরা এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলাম। যে কয়জন বিদেশি বন্ধু ভুমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর ভুমিকা সবচেয়ে বেশি এবং গুরুত্বপুর্ণ। ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পাশে না থাকলে দেশ স্বাধীন হলেও হয়তো অনেক বছর লেগে যেত। হয়তো শহীদের সংখ্যা কোটির বেশি হত। সেই মূহুর্তে দেশে আত্মগোপন করে সুনিপুন ভাবে যুদ্ধ পরিচালনা যখন অসম্ভব তখন ভারত আমাদের জাতীয় নেতাদের আশ্রয় না দিলে পাকিস্থানি হানাদারদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করা কঠিন হত। মুক্তিযুদ্ধাদের আশ্রয়, খাদ্য, প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘণ করেও শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী মুক্তিযদ্ধাদের হাতে তুলে দেয় অস্ত্র। শরণার্থীদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য চিকিৎসার সাহায্য না পেলে অনাহারে, বিনাচিকিৎসায় অনেক লোক মারা যেত। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে প্রহসনের বিচারে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদন্ড ঘোষনা হয়। ইন্দিরা গান্ধী এই রায় বাতিলের জন্য পৃথিবীর প্রায় সব প্রভাবশালি দেশে সফর করে পাকিস্থান সরকারকে চাপে মুখে রায় স্থগিত রাখতে বাধ্য করা হয়। ইন্দিরা গান্ধীর কারনেই আমরা মিত্র হিসাবে যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো না দিলে আজ হয়ত আমরা ফিলিস্তিনের মত ধুকে ধুকে মরতাম। বিএস এফ, র’ বিশেষ ভূমিকায় মুজিব নগর সরকার, মুক্তিবাহিনী, মুজিব বাহিনী গঠন করা সহজ হয়।
রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বেড়ে উঠা প্রথম সারির কংগ্রেসী নেতা দাদা মতিলাল নেহরুর নাতি ইন্দিরা গান্ধী ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার রাজনৈতিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ব্রিটিশ বিরোধী হওয়ার কারনে বাবা এবং তাঁর দাদা কারাবন্দি দেখতে হয় তার বয়স যখন মাত্র চার বছর। ১৯৩৬ সালে ইন্দিরার মা কমলা নেহেরু পরলোক গমন করলে ইন্দিরা হয়ে পড়েন ভীষণভাবে একা। ইন্দিরা গুটিয়ে যান নিজের মধ্যে একা থাকতেন, বেশির ভাগ সময়ই একা কাটাতেন। এ সময় জেলখানা থেকে বাবা লিখে তাকে সাহস যোগাতেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। ১৯৪১ সালে অক্সফোর্ড থেকে ফিরে এসে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী পিতার সাথে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করার সময়ই ইন্দিরার পরিচয় ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে। ১৯৩৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৪২ সালে বিয়ের কিছুদিন পরই কারাবন্দী হয়ে এলাহাবাদে ৮ মাস বন্দী থাকেন। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে সে বছরই ইন্দিরার বাবা জওহরলাল নেহেরু স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। তখন থেকেই ইন্দিরা প্রায় ছায়ার মত বাবার পাশে পাশে থাকতেন। ১৯৫৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন এর পূর্বে ১৯৫০ সাল থেকে অপেশাগত ভাবে বাবা জওহরলাল নেহরুর অফিস সহকারীর কাজ করে আসছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তবে মহাত্মা গান্ধী ইন্দিরার রাজনৈতিক জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ভারতের কংগ্রেস নেত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধীর হাতে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে দেয়া বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা তুলে দেন। ইতিহাসের কলঙ্কিত আজ সেই দিন যে দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী দুজন শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন। ৩১ অক্টোবর, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী এই বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ডের বলি হন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর এই ত্যাগের কথা অকুণ্ঠচিত্তে স্বীকার করার মানসিকতা থাকা উচিত আমাদের। ইতিহাস তাঁকে অমরত্ব দেবে আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অনবদ্য অসাধারণ এবং অনন্য ভূমিকার জন্য। কৃতজ্ঞচিত্তে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত আমাদের। একাত্তরের দেবী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তোমার আত্মা অমরতা লাভ করুক।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT