English Version

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিকিৎসা আর ত্রাণ একাকার

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৫, ২০১৭, ১২:২৯ অপরাহ্ণ


ক্যাম্পের নাম জামতলী। কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা যে বড় ক্যাম্পগুলোতে আছে, এটি তার একটি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা। কয়েক
শ শরণার্থী ত্রাণ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। তাদের সারি নিয়ন্ত্রণ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কয়েক গজ দূরে আরেকটি ছাউনিতে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু লাইন ধরে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবার অপেক্ষায়। তবে তারা যে সেবা পাচ্ছে, তাকে স্বাস্থ্যসেবা বলা যাবে না।
টেবিলের ওপর ২০-২৫ ধরনের ওষুধ। ছয়টি চেয়ারে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারী বসে আছেন। টেবিলের সামনে এলেন একজন। একজন দোভাষীর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সহকারী নাম আর বয়স জানতে চাইলেন। নাম সৈয়দ আলম, বয়স ৩৫। সৈয়দ আলম বললেন, তাঁর পেটে জ্বালাপোড়া। চিকিৎসক দুই ধরনের বড়ি আর খাওয়ার স্যালাইন (ওআরএস) দিলেন। ঠিক পাশে একইভাবে লাইনের সামনে আসা শরণার্থীর হাতে দেওয়া হচ্ছে চাল, ডাল, তেল, লবণ আর চিনির একটি বস্তা। শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ আর চিকিৎসায় কোনো পার্থক্য নেই।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জামতলীর এই শরণার্থী ক্যাম্পে মানুষ আছে ৫০ হাজার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শরণার্থীদের জন্য ১২টি ক্যাম্পে ১২টি অস্থায়ী মেডিকেল সেন্টার করেছে। একটি টেবিলে চিকিৎসাসেবা, অন্য টেবিলে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়া হয়।
এ রকম চারটি মেডিকেল ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে, শরীরের তাপ মাপার জন্য কোথাও থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয় না। দেখা যায়নি স্টেথিস্কোপের ব্যবহার। ডায়রিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয় যথাযথ পরীক্ষা না করে।
এসব ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ আসা বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা কারও নেই। সে কারণে কিছু ভুলত্রুটি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত তা শোধরানোর চেষ্টাও হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার জেলার একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিৎসা আর ত্রাণ এক বিষয় না। চাল-ডাল দেওয়া আর ওষুধ দেওয়া এক বিষয় না। কিন্তু এক করে ফেলা হয়েছে।’

স্বাস্থ্যসেবায় সমন্বয় নেই
কক্সবাজার থেকে ‘মেরিন ড্রাইভ’ দিয়ে টেকনাফে যাওয়ার পথে হাতের বাঁ পাশে শাপলাপুর গ্রাম। গ্রামের একটি ক্যাম্পে আড়াই হাজার রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি হিসাবে ১৬ হাজার রোহিঙ্গা ‘বাহারছড়া’ নামের এই ক্যাম্পে আছে। এদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ইতালিভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাইগ্র্যান্ট অফসোর এইড স্টেশন (এমওএএস) ছোট একটি হাসপাতাল গতকাল শনিবার বিকেলে চালু করেছে।
এমওএএসের প্রেসিডেন্ট রেজিনা ক্যাটর্যাামবোন প্রথম আলোকে বলেন, শরণার্থীদের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁদের আছে। গত তিন-চার বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এশিয়া-আফ্রিকার বহু মানুষ ইউরোপে যাওয়ার পথে বিপদে পড়েছিল। এসব শরণার্থী উদ্ধারে বড় ভূমিকা ছিল এমওএএসের।
এখানে দেশি-বিদেশি নয়জন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স, তিনজন স্বাস্থ্য সহকারী, একজন মিডওয়াইফ কাজ করবেন। সব মিলিয়ে এই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন ৫০ জন।
তিনটি পৃথক দোচালা ঘরে হাসপাতালটি চলবে। একটিতে রোগীরা এসে বসবে। একটিতে রোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে। অন্যটিতে প্রসূতি বা অন্য জরুরি রোগীর থাকার ব্যবস্থা। এখানে মোট শয্যা আটটি। একটি আধুনিক অস্ত্রোপচার টেবিলও আছে। শরণার্থীদের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করলেও হাসপাতাল তৈরি করে সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা এই চিকিৎসা দলের নেই। বাংলাদেশেই প্রথম।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জনের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, এমওএএসকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প করার জন্য। তবে দেশি-বিদেশি কতটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে, তার সঠিক তথ্য এখনো তাদের কাছে নেই। তারা আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে আইওএমের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এ পর্যন্ত ছয়টি বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে বলে তাঁদের জানা আছে। তালিকার মধ্যে এমওএএস নেই। আর দেশি সংস্থার সঠিক তথ্য নেই। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইওএমকে নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তাঁরা শিগগির তৈরি করবেন।
আইওএম বলছে, শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হলে তাতে কমপক্ষে চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এগুলো হচ্ছে সাধারণ রোগব্যাধির প্রাথমিক চিকিৎসা, শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান চেয়ার-টেবিল আর ব্যানার লাগিয়ে শরণার্থীদের চিকিৎসাসেবায় নেমে পড়েছে।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT