English Version

ইলিশের নৌকায় এক দিন

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭, ৩:২৪ অপরাহ্ণ


খুলনা ও আশপাশের নদীগুলোতে এবার বেশ ভালোই ইলিশ পাওয়া গেছে। ইলিশ ধরা দেখাও এক দারুণ অভিজ্ঞতা। ১৭ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের পশুর নদে ইঞ্জিনচালিত এক জেলে নৌকায় বসে দেখা হলো ইলিশ ধরার পুরো প্রক্রিয়া। সেদিন সেই নৌকায় ধরাও পড়ে কয়েকটি ইলিশ। পশুর নদে ইলিশ শিকারের সেই অভিজ্ঞতা থাকছে এবারের ছুটির দিনের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে
বেশ কিছুদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল, এ বছর খুলনা ও আশপাশের বিভিন্ন নদ-নদীতে বেশ ভালোই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এমন খবরে জেলেদের নৌকায় বসে ইলিশ ধরা দেখার ইচ্ছাটা প্রবল হতে থাকে। ইচ্ছা বাস্তবেও রূপ নিল, যখন একদল শৌখিন ইলিশ শিকারির আমন্ত্রণ এল আমাদের কাছে। ঠিক হলো, ১৭ সেপ্টেম্বর ভোরে আমরা জেলেদের সঙ্গে সুন্দরবনের পশুর নদে ইলিশ ধরা দেখব।
প্রস্তুতি পর্ব

আগের দিন বিকেলে খুলনা থেকে রওনা হলাম। গন্তব্য বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের কলাতলা গ্রাম। খেয়া পার হয়ে যখন মোংলা বাজারে পৌঁছালাম, তখন সুয্যিমামা পাটে যেতে বসেছে। আমাদের গন্তব্য তখন আরও সাত কিলোমিটার। এবড়োখেবড়ো পিচঢালা রাস্তা ধরে চিলাবাজারে যেতে যেতে অন্ধকার বেশ গাঢ় হলো। চিলাবাজার থেকে এবার ইট বিছানো পথ। পথ শেষ হয়েছে একবার পশুর নদের তীরে। রাত আটটার দিকে গন্তব্যে পৌঁছালাম।

রাতের খাবারে টাটকা ইলিশের নানা পদ। ঘুমানোর ব্যবস্থা নদের পারে এক টংঘরে। নদের ওপারে সুন্দরবন। পশুর নদে চলা কার্গো ট্রলার, জাহাজের শব্দ আর তীব্র আলো নীরবতা ভেঙে দিচ্ছিল বারবার।
শুয়ে শুয়ে শৌখিন ইলিশ শিকারি উত্তম রপ্তানের সঙ্গে চলছিল গল্প। তিনি বাগেরহাট পিসি কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। জানালেন, রাত তিনটার দিকে তাঁরা একবার নদে যাবেন মাছ ধরতে। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় ওই সময় আমাদের সঙ্গে নিতে চাইলেন না। ঠিক হলো, ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে যখন নদে ভাটা লাগতে শুরু করবে, তখন বের হব।

ভোররাতে বের হওয়া মাছ ধরার ট্রলারগুলো সকাল ৯টার দিকে ঘাটে ভিড়ল। পশুরে তখন জোয়ারের পানি ঢুকতে শুরু করেছে। একেক জেলে ট্রলার ইলিশ পেয়েছে দুই থেকে ছয়টি পর্যন্ত। দিন চারেক আগে নাকি একেকটি জেলে নৌকায় প্রতিবার ১০-১৫টি করে ইলিশ পড়েছিল। অন্যান্য মাছই বেশি ট্রলারগুলোতে।

জেলেদের ট্রলারগুলো ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল আরও একটি নৌকা। নৌকায় থাকা একজন ওই ইলিশ মাছ কিনছেন। জানা গেল, তাঁর কাছ থেকেই মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে জেলেরা টাকা দাদন নিয়েছেন। এ জন্য যাঁরা টাকা ধার নিয়েছেন, তাঁরা অন্য কারও কাছে ইলিশ বিক্রি করতে পারেন না। অনেক কম দামে ঘাটে বসেই জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ নিয়ে যান দাদনদারেরা। ইলিশ বিক্রির সময় আরও একটি ব্যাপার চোখে পড়ল, দাদনদারের নৌকায় পাল্লা ও বাটখারা থাকে আর মাছ মেপে দেন জেলেরা। ছোট-বড় সব ইলিশ গড়ে একই দামে বিক্রি হয়। সেদিন সর্বোচ্চ এক কেজি ও সর্বনিম্ন আধা কেজি ওজনের ইলিশের গড় দাম ধরা হয়েছিল ৫০০ টাকা।

ইলিশ বিক্রির পর বাড়িতে গিয়ে খাওয়া এবং একটু বিশ্রাম নিয়ে জেলেরা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন জাল মেরামতে। আমাদের অপেক্ষা ভাটা লাগার। বেলা দেড়টার দিকে আমরা প্রস্তুত হলাম নদে নামার। নদের পাড় থেকে নদী পর্যন্ত তখন প্রায় ২০০ মিটার চর জেগেছে। কয়েকজন মিলে কাদা ভেঙে ট্রলার ঠেলে নদে নামানো হলো।

ইলিশের জন্য যাত্রা শুরু

কাদা মাড়িয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে উঠলাম। যখন ঘাট ছাড়ল, তখন ট্রলারে আমরা মোট আটজন। জেলে সুভাষ, ভূপেষ, তারাপদ, উত্তম, উৎপল; সঙ্গে আলোকচিত্রী সাদ্দাম হোসেনসহ প্রথম আলোর আমরা তিনজন। ট্রলারে নেওয়া হলো খাওয়ার পানি ও কিছু শুকনো খাবার। তবে স্থানীয় লোকজন বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে সারা বছর পান করে। যাই হোক, আমরা চললাম মাছ শিকারে।

জাল সমাচার

ইলিশ ধরার জাল বিশেষভাবে তৈরি। স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় গলশা জাল। এই জালের প্রস্থ ১০ থেকে ১২ ফুট। দৈর্ঘ্য যে যাঁর মতো করে নেন। আমাদের ট্রলারের জালটি লম্বায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার ফুট। জালের শুরুর প্রান্তে ওপরের অংশে ৩০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি খালি প্লাস্টিকের ড্রাম এবং নিচের প্রান্তে বাঁধা থাকে কয়েকটি আস্ত ইট। ১৫ ফুট পর পর জালটিকে ভাসিয়ে রাখার জন্য কালো রং করা ফাঁপা বাঁশের অংশ অথবা একই আকারের ফাঁপা প্লাস্টিকের সোলা। এগুলোর ঠিক নিচের অংশে রয়েছে গোলাকার পোড়ামাটির টালি। একেকটির ওজন কেজিখানেক। টালির ভার জালকে নিচের দিকে নিয়ে যায় আর বাঁশ বা সোলা জাল ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ওপর ও নিচের অংশে টান টান থাকায় জাল নদীর পানির মধ্যে আড়াআড়িভাবে থাকে। ট্রলারের একটি অংশে টালিগুলো এক জায়গায় পর পর সাজানো থাকে। অন্য জায়গায় সাজানো থাকে সোলাগুলো। যতগুলো টালি, ঠিক ততগুলো সোলা।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT