English Version
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, বুধবার | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

নওগাঁর মান্দায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭, ৫:৫০ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার বালুমহাল (উজান অংশ):- নিয়ে তেলেসমাতি কারবার চলছে। কামাল হোসেন নামে একব্যক্তি ১৪২২ বাংলা সনের জন্য একবার ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে। অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার কামাল হোসেন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে দখলে রেখেছে বালুমহালটি। দ্বিতীয় দফায় করা রিটের মেয়াদ গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হলেও বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

এতে করে সরকার এ বালুমহাল থেকে রাজস্ব হারিয়েছে অন্তত ৩ কোটি টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মান্দার আত্রাই নদীর উজান অংশের বালুমহাল ১৪২২ সনে ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ৫২৩ টাকায় (ভ্যাট ও আয়কর ছাড়া) ইজারা গ্রহণ করেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরী এলাকার কামাল হোসেন। ইজারামূল্য পরিশোধ করলেও ভ্যাট-আয়কর না দিয়েই তিনি ওই বছরের ১ বৈশাখ (১৪ এপ্রিল ২০১৫) থেকে বালু উত্তোলন শুরু করেন। বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেই তিনি ২০১৫ সালের ৫ ও ১০ মে বালুমহাল বুঝে নেওয়ার জন্য মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বালুমহালটি আনুষ্ঠানিক ভাবে বুঝে দেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনারের দপ্তর থেকে ইজারাদার কামাল হোসেনকে পত্র দেওয়া হয়। এরপরও বালুমহালটি বুঝে না নিয়ে ইজারাদার কামাল হোসেন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কালক্ষেপন করেন।

তিনি ১৪২২ সনের ১ বৈশাখ থেকে বালু উত্তোলন ও নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে বিক্রি করছেন মর্মে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে সহকারী কমিশনারের দপ্তর থেকে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। এদিকে সু-চতুর ইজারাদার কামাল হোসেন ইজারা প্রাপ্তির ৯ মাস পর ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বালুমহাল বুঝে নেওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এক বছর সময় বাড়িয়ে দেয়। এ মেয়াদ শেষ হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাত দেখিয়ে উচ্চ আদালতে আবারো রিট দায়ের করা হয়। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত চলতি বছরের ৯ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৬ মাস সময় বাড়িয়ে দেয়। এরপরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন ইজারাদার কামাল হোসেন।

এদিকে ২রিট আবেদনের ফাঁকে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই তিন মাস ধরে ২০-২২ টি ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি অব্যাহত রাখেন। স্থানীয় বালু ব্যবসায়িদের দাবি, মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর উজান অংশের বালুমহাল ১৪২২ সনে একবার ইজারা নিয়ে ইজারাদার কামাল হোসেন আড়াই বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। এতে করে সরকার দেড় বছরে অন্তত ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এদিকে রিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখার কথা এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন ইজারাদারের শেয়ারপার্টনার আলহাজ্ব মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্তে আবারো রিট পিটিশন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ওইসব বালু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নাম মাত্র রিটের ম্যধ্যমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে দায় সারানো চিঠি দিয়ে তাদের কর্তব্য সম্পন্ন করছেন। তারা আরও জানান প্রশাসন ইচ্ছা করলেই রিটের তেলেস মাতি বন্ধ করে বৈধ ভাবে বালু মহল লিজ দিয়ে সরকারের হারানো কোটি কোটি টাকার রাজস্ব রক্ষা করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ বলেন, বালুমহাল দখলে রেখে বালু উত্তোলন ও বিক্রি অব্যাহত রাখার পরও কামাল হোসেন উচ্চ আদালতে দু’দফা রিট আবেদন করে ইজারার মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। উচ্চ আদালতের আদেশের কারণে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

 

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT