English Version
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, বুধবার | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ক্যান্টিন বয় রনি

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭, ৩:১৬ অপরাহ্ণ


হলের ক্যান্টিনে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ- আলোচনায় মগ্ন। সময়টা ২৫শে মার্চ সন্ধ্যাবেলা। দেশের অবস্থা খুব সুবিধার নয় বলে কেউ কেউ মন্তব্য করছে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কিছুতেই বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাইছে না। তারা মোটেও বাঙালি নেতৃত্ব মেনে নিতে চাচ্ছে না। নানান টালবাহানা শুরু করে দিয়েছে। বুদ্ধিজীবীরা অনেকেই নাকি বলছেন শীঘ্রই খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

ক্যান্টিনে বসে শিক্ষার্থী এসব নিয়েই আলোচনা করছিলেন।

রনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লো। কারণ তার মাসুদ ভাই ২০৯ নম্বর রুমেই থাকে। সে ভেবে পাচ্ছে না কি করবে এখন

ক্যান্টিন ম্যানেজার কিশোর ব়য়সী রনিকে তাড়া দিয়ে বলল, ‘গরম গরম সমুচাগুলো তারাতাড়ি টেবিলে দিয়ে আয়! ‘

ম্যানেজারের কথামতো সে সমুচাগুলি টেবিলে দিয়ে আসলো। ছাত্ররাও তাকে বেশ স্নেহ করে। একজন বলল, ‘রনি দুটো সিঙ্গারা আর প্রত্যেকের জন্য চাও দিস।’
‘ঠিক আছে আলিফ ভাই। এক্ষুনি নিয়ে আসছি।’

আলিফ অপর একজন বন্ধুকে বলল, ‘দেখেছিস মাসুদ, এই ছোট্ট ছেলেটাও টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না।’
‘হুম, পেটের দায়ে কাজ করতে এসেছে।’
‘এখনও ওকে স্কুলে ভর্তি করে দিলে ও স্কুলে যেতে চাইবে। আমি একশো ভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি।’
মাসুদ জিজ্ঞেস করল, ‘এই রনি তোর পরিবারে কে কে আছে?’
কাজ করার ফাঁকে উত্তর দিল, ‘মা আর ছোট বোন।’
‘বাবা নেই? ‘
‘না, গত বছর ক্যান্সারে মারা গেছে।’
আলিফ বলল, ‘দেখেছিস এত অল্প বয়সেই সংসারের গুরুদায়িত্ব এসে চেপেছে ওর কাঁধে!’

গভীর রাত। আলিফ হলে তার কক্ষে বিছানায় শুয়ে আছে। টেবিল ল্যাম্পটা এখনও জ্বলছে। একটা বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেছে নিজের অজান্তেই। হঠাৎ প্রচণ্ড এক শব্দে তার ঘুম ভাঙলো। কিছু বুঝে উঠতে পারলো না সে। আবার শব্দ। এবার আর বুঝতে বাকি রইল না। সশস্ত্র আক্রমণ শুরু হয়েছে। কিন্তু কারা কাকে আক্রমণ করছে?

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT