English Version
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, বুধবার | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ক্লাবপাড়ায় ‘ক্লাব’ কই

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ


১০ বছর ধরে চলছে বাংলাদেশ পেশাদার ফুটবল লিগ। এখনো যা নামেই পেশাদার। বলতে গেলে ক্লাবগুলোর একটিও পূরণ করেনি পেশাদার ফুটবলের শর্তগুলো। পেশাদার লিগের ১২টি ক্লাবের ভেতর-বাহির নিয়ে নতুন এই ধারাবাহিক

পুরান ঢাকায় রহমতগঞ্জ ক্লাব ভবন l প্রথম আলো

আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ

আরামবাগ ক্লাবের ভেতরে ঢুকলে অস্বস্তি বাড়ে। নানা ধরনের লোকজন তাস খেলছে। মেঝেতে বসে, টেবিলে—কোথাও বাদ নেই। চলে জুয়াও। বাংলাদেশের ক্লাব সংস্কৃতিতে এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে আরামবাগ ক্লাবের চারপাশে খেলার পরিবেশই নেই। মতিঝিলের ব্যস্ত এলাকায় আবাসিক হোটেল, খাবার হোটেল, সেলুন, ফটোস্ট্যাট, রড-সিমেন্ট, লোহা-লক্কড়ের দোকান কত কী!

এসব পেরিয়ে ভবনের দোতলায় গেলে ক্লাবটির খেলোয়াড় লাউঞ্জ পাবেন। তবে এটি খুঁজে পেতে যে কাউকেই গলদঘর্ম হতে হবে। কারণ দোকানপাটের ভিড়ে বোঝার উপায় নেই যে এখানে একদল পেশাদার ফুটবলার থাকেন! খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা আগের চেয়ে যদিও একটু ভালো হয়েছে। খেলোয়াড়দের সব কক্ষেই বসেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র। একটি কক্ষে আটটি ‘দোতলা খাট’। ১৬ জনের একসঙ্গে থাকা। ঠিক ট্রেনের কামরার মতো। ভাড়া বাসা ছেড়ে এখন বিদেশি খেলোয়াড়দেরও ঠিকানা ক্লাবঘর।

কোচদের জন্য একটা কক্ষ আছে। পাশেই টাইলস বসানো অফিসঘরের শোকেসে কিছু ট্রফি ঝলমল করে। তবে নিচতলায় অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরটার যাচ্ছেতাই অবস্থা। খাবারঘরটাও তথৈবচ। ইউরোপের কোনো ফুটবলার এখানে খেয়ে পেটের পীড়ায় পড়বেন নির্ঘাত! যদিও বড় দলের মতোই নাকি আরামবাগের খাবারের মান। এ নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই।

আরামবাগের বড় ঘাটতি অনুশীলন মাঠ, জিম। জিমের অভাবে দলটা জিমই করে না। বিকল্প হিসেবে মাঠে ‘বডি ওয়েট’ করিয়ে নেন কোচ মারুফুল হক। হালকা অনুশীলন করেন বাফুফের টার্ফে। তবে বেশির ভাগ দিন অনুশীলন হয় বুয়েট মাঠে, দৈনিক ৫ হাজার টাকা ভাড়ায়। ওই মাঠে অনুশীলন করে মোহামেডান, চট্টগ্রাম আবাহনীও। আর এতে সমস্যায় পড়েন মারুফুল, ‘আমরা অনুশীলন করার সময় হয়তো অন্য দল এসে দাঁড়িয়ে থাকে। পেশাদার কোচ হিসেবে আমি চাই মাঝেমধ্যে ক্লোজ ডোর ট্রেনিং। কিন্তু বুয়েট মাঠ উন্মুক্ত থাকায় প্রতিপক্ষ চাইলেই ট্রেনিং দেখে কৌশলটা জেনে নিতে পারে। আমাদের দেশে এটা এক বড় সমস্যা।’

একটা পেশাদার ক্লাবে সব খেলোয়াড় মাঠে বা অনুশীলনে যাবে একসঙ্গে। তবে অনেক ক্লাবেরই খেলোয়াড়েরা বিচ্ছিন্নভাবে রিকশায় বা অন্যভাবে অনুশীলন মাঠে যান। অবশ্য বুয়েট মাঠে অনুশীলনে যেতে বাসের ব্যবস্থা করে আরামবাগ। যদিও ক্লাবে দক্ষ ব্যবস্থাপক না থাকায় খেলোয়াড়ের ভিসা করা, ট্রান্সফার, বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ, বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যায় পড়ে আরামবাগ।

‘আইসবাথ’ খুব দরকার। অন্য দলের মতো আরামবাগেও তা নেই। ড্রামে বরফ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেন কোচ। গরম পানি, কিছু ইনডোর গেমসের সুবিধাও দিতে পারেনি এই ক্লাব। খেলোয়াড়দের জন্য সাঁতারেরও ব্যবস্থা করতে পারেনি। ক্লাবটির সভাপতি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ টাকা খরচ করেন অনেক। ম্যাচ জিতলেই তিনি ৫ লাখ টাকা বোনাস দেন। ৩৫ জন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে পান। ড্র করলে ৩ লাখ।

দেশের একমাত্র উয়েফা ‘এ’ সনদধারী কোচ মারুফের সঙ্গে এক মৌসুমে ৩৫ লাখ টাকার চুক্তিটাও বেশ বড়। গত বছর কোচ সাইফুল বারী টিটুর চুক্তিতে ছিল ৩০ লাখ। তার মানে আরামবাগে টাকার প্রবাহ বেড়েছে অনেক। এখন দলটিতে সহকারী কোচ, গোলরক্ষক কোচও আছে নিয়মিত। তবে ফিজিও নেই। চিকিৎসকও সার্বক্ষণিক থাকে না। তবে মারুফ কোচ হয়ে ‘প্লেয়ার্স ট্রেকিং’ জিপিএস (খেলোয়াড়ের পিঠে লাগিয়ে দেখা যায় কোন খেলোয়াড় কত দূর দৌড়াল) চাইলে ১০ লাখ টাকায় ১০টি জিপিএস লন্ডন থেকে এনে দেন ক্লাব সভাপতি। খেলোয়াড়দের কয়েক সেট জার্সি, বুট, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরও দিয়েছেন। এখন মোটামুটি সব অনুশীলনসামগ্রীই হয়েছে আরামবাগের। সভাপতির আশ্বাস, জিমও হয়ে যাবে। এ জন্য নাকি ক্লাবের ওপরতলায় জায়গা করা হচ্ছে।
পেশাদারির পথে যেতে ক্লাবকে লিমিটেড করার চিন্তাভাবনা চলছে। সভাপতির কথা, ‘সরকার ক্লাবের জায়গাটা স্থায়ীভাবে দিলে বড় কিছু করা যেত। তখন পেশাদারির চাহিদাগুলো আমরা পুরোপুরি মেটাতে পারতাম। এখন বাফুফে বা সরকার কেউই ক্লাবকে আর্থিকভাবে সমর্থন দেয় না। একা যা পারছি, করছি।’ দৈনিক নাকি ৩০-৩৫ হাজার টাকা ক্যাম্প খরচ আরামবাগের। ক্লাবের নিজস্ব কিছু দোকানভাড়া, তাস খেলা…এসব থেকে আসা টাকা দিয়ে কিছুই হয় না বলেন কর্মকর্তারা।

তবে প্রিমিয়ারে আরামবাগেরই একটা একাডেমি দল আছে যারা পাইওনিয়ার থেকে তৃতীয় বিভাগে উঠেছে। ফুটবল নিয়ে আরামবাগের ঝিমিয়ে পড়া উৎসাহ এখন বেড়েছে। মহল্লাভিত্তিক এই ক্লাবটির অনেক সমর্থক এখনো মাঠে যায়। হইহল্লা করে। তবে ক্লাব ভবনে বসে গোলরক্ষক কোচ নিজাম মজুমদার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তোলেন, ‘ক্লাব চেষ্টা করছে পেশাদারির পথে যেতে। কিন্তু খেলোয়াড়দের কি পেশাদারি আছে? ক্লাব কোটি কোটি টাকা খরচ করে ২০-৩০ মিনিট খেলার জন্য নয়।’ কথাটার তাৎপর্য অনেক।

আছে

ক্লাব ভবন

প্রধান কোচ

সহকারী কোচ

গোলরক্ষক কোচ

ফিজিও

নেই

অনুশীলন মাঠ

জিম

ট্রেনার

ডাক্তার

বিপণন কর্মকর্তা

ছোটই রয়ে গেল

নয়টি পেশাদার লিগের সাতটিতে খেলে প্রথম চারে আসতে পারেনি কখনো। লিগে অবস্থান যথাক্রমে ষষ্ঠ, নবম, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, ষষ্ঠ। সপ্তম ও অষ্টম লিগে অবনমিত।

পেশাদার লিগে ১৫১ ম্যাচ খেলে ৩৯ জয়, ৪১ ড্র ও হার ৭১। গোল ১৪৬, বিপক্ষে ২২০ গোল।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT