English Version

নীরব ঘাতক শব্দদূষণ

প্রকাশিতঃ জুন ২১, ২০১৭, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শেষ আপডেটঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭্‌, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ


 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে বধিরতার হার বাড়ছে এবং ১৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো পর্যায়ে শ্রুতিক্ষীণতায় ভুগছে। আবার এই রোগীদের অধিকাংশই শিশু, যাদের কাঁধে সমাজ এগিয়ে নেওয়ার ভার।

সংস্থাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে  শ্রুতিক্ষীণতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে। বাংলাদেশে নানাভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, এর মধ্যে শব্দদূষণও আছে। ঢাকা নগরীতে শব্দদূষণের মাত্রা এখন রীতিমতো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে।   রাজধানীর বিভিন্ন স্থানকে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক বা শিল্প এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও কেউ মানছে না। আইন ও বিধিবিধান প্রয়োগ না হওয়ার কারণে মানুষ যানবাহন ও ভবন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারকালে বেপরোয়াভাবে শব্দদূষণ ঘটাচ্ছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে। আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, ৬৫ ডেসিবলের ওপরের শব্দ হৃদরোগ, ৯০ ডেসিবলের ওপরে শব্দ আলসার ও ১২০ ডেসিবলের বেশি শব্দ স্থায়ীভাবে বধির করে দিতে পারে। অথচ রাজধানী ঢাকায় ১৩০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ তৈরি হচ্ছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে উঠে এসেছে। গত সোমবার প্রকাশিত এ জরিপে শব্দদূষণের জন্য দায়ী করা হয়েছে যানবাহনকে। এর মধ্যে প্রাইভেট কার বেশি শব্দদূষণ ঘটাচ্ছে, এর পরই আছে মোটরসাইকেল ও বাস। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগই উচ্চশিক্ষিত বা শিক্ষিত। চালক হর্ন বাজিয়ে যখন পথচারী, ছাত্রছাত্রী বা হাসপাতালের রোগীর ক্ষতি করেন, কতজন গাড়ির মালিক চালককে সতর্ক করেন? হর্ন বাজিয়ে চালকরা যখন কান ঝালাপালা করতে থাকেন, ট্রাফিক পুলিশও কি বাধা দেন?

ইদানীং হাসপাতালগুলোতে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের কাছে রোগীর আধিক্য দেখা যায়। এর মূল কারণ শব্দদূষণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক, কান ও গলা বিভাগের ২০১৩ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে এক-তৃতীয়াংশ লোক কোনো না কোনো শ্রুতিক্ষীণতায় ভুগছে এবং ৯.৬ শতাংশ শ্রুতিপ্রতিবন্ধী। দেশে ১৫ বছর বয়সের নিচের জনসংখ্যার মধ্যে শ্রুতিপ্রতিবন্ধীর হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় ২.৫ শতাংশ বেশি। শব্দদূষণ গর্ভের শিশুকেও পঙ্গু, প্রতিবন্ধী ও অপুষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে।

দেশে পরিবেশদূষণ রোধে বিভিন্ন মহল সোচ্চার হলেও শব্দদূষণ নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা নেই। শব্দদূষণের বিপদের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ যেমন অসচেতন, কর্তৃপক্ষও তেমনি নির্বিকার। মেগাসিটি ঢাকার জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষকে এসংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থাগুলো যথার্থভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিধি লঙ্ঘনের শাস্তির প্রচলন নিয়মিত হলে মানুষও সচেতন হয়ে উঠবে।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT