English Version

ভয়াবহ জনদুর্ভোগ

প্রকাশিতঃ জুন ২০, ২০১৭, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ | শেষ আপডেটঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭্‌, ১১:০৬ অপরাহ্ণ


 

রাজধানী গতকাল এক দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। বৃষ্টির পানি আর মানুষের নাকের পানি-চোখের পানি একাকার হয়ে গিয়েছিল। রাস্তায় মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর অন্তহীন খোঁড়াখুঁড়ি চলছে তো চলছেই। তার মধ্যে নামে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও বুক সমান পানি জমে। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে যায়। ভয়াবহ যানজটে থমকে গিয়েছিল গোটা নগরী। অফিসগামী ও স্কুল-কলেজগামীরা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যারা ঘর থেকে বেরিয়েছিল, তারা এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে গতকাল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয় তাদের। কিংবা বুক সমান পানির মধ্যেই হেঁটে যেতে হয়। অনেকে গর্তে পড়ে আঘাতও পেয়েছেন। এটাই কি রাজধানীবাসীর নিয়তি?

মালিবাগ, মগবাজার এলাকার মানুষ কিংবা সেসব রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রীরা ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে কয়েক বছর ধরেই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সেখানে গেলে ঠিকাদার বা তাদের লোকজনের স্বেচ্ছাচারিতার নমুনা দেখে অবাক হতে হয়। নির্মাণসামগ্রী, আবর্জনা, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত গাড়ি রাস্তার ওপর যত্রতত্র রেখে দেওয়া হয়। রাস্তায় বড় বড় গর্ত থাকায় যানবাহন  কাত-চিত্ হয়ে কোনো রকমে চলাচল করে। মানুষের দুর্দশাকে তারা থোড়াই কেয়ার করে। অথচ নিয়ম হচ্ছে, নিচের রাস্তা চলাচলের উপযোগী রেখে কাজ করতে হবে। কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে কয়েক মাস ধরে চলছে রাস্তা কেটে পাইপ স্থাপনের কাজ। রাস্তাঘাট বা ড্রেন উন্নয়নের এসব কাজ নাগরিকদের প্রয়োজনেই করতে হবে। কিন্তু সেখানে কিছু পরিকল্পনা তো থাকতে হবে। কর্তাব্যক্তিরা কি জানেন না, বর্ষার আগে ড্রেনের কাজ শেষ না হলে জনজীবন ভয়ংকরভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে? কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত প্রায় পুরোটাই কাটা হয়েছে। অংশবিশেষ কেটে কাজ শেষ করে এবং রাস্তা ঠিক করে দিয়ে কি আরেকটি অংশের কাজ ধরা যেত না? এখন মানুষের জীবন কি থেমে থাকবে? একই অবস্থা মিরপুর ১০ নং সেকশন গোলচক্কর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রাস্তাসহ নগরীর আরো অনেক রাস্তারই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, মানুষের এমন দুর্ভোগ উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিদেরও কি সামান্য বিচলিত করে না? এমন হলে এই উন্নয়ন মানুষের সন্তুষ্টির কারণ না হয়ে শুধু ক্ষোভেরই কারণ হবে।

সামনে ঈদুল ফিতর। বছরের সবচেয়ে বড় এই উৎসবে ধনী-গরিব সবাই চেষ্টা করে ছেলেমেয়েদের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে। বিশেষ করে যারা দূর-দূরান্তে বাড়িঘরে যাবে, তাদের কেনাকাটার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় এটি। অথচ জলাবদ্ধতার কারণে তারা ঘর থেকেই বেরোতে পারছে না। কেউ বা বের হয়ে রাস্তায় নাকানি-চুবানি খেয়ে কেনাকাটা না করেই ঘরে ফিরেছে। অনেককে হয়তো কেনাকাটা না করেই বাড়ি ফিরতে হবে। কেন?

বর্ষাকাল মাত্র শুরু হয়েছে। আরো দু-তিন মাস মাঝেমধ্যেই এমন বর্ষণ হবে। সেসব বর্ষণের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা থেকে নাগরিকদের রক্ষায় যা করার দ্রুত করুন। সাধারণ মানুষের দুঃখ, দুর্দশা ও দুর্ভোগ নিয়ে ভাবুন।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT