English Version
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, বুধবার | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

রাঙামটিতে মানবিক বিপর্যয়

প্রকাশিতঃ জুন ১৭, ২০১৭, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ


 

গত মঙ্গলবারের পাহাড়ধসের পর রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে সরবরাহব্যবস্থা। বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, নেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ। চাহিদামতো মিলছে না ভোগ্যপণ্য। দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। চাপের মুখে দরিদ্র মানুষ। অবস্থাপন্নরাও সংকটে। পুরো রাঙামাটিতে এখন পানি, খাবার, মোমবাতি, দিয়াশলাই ও কেরোসিনের জন্য হাহাকার। বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে রাঙামাটিতে।
মঙ্গলবারের পাহাড়ধসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাঙামাটি। পাহাড়ধসের ঘটনায় শুক্রবার পর্যন্ত পাঁচ জেলায় ১৫৩ জনের প্রাণ গেছে। শুধু রাঙামাটি জেলায়ই মৃতের সংখ্যা ১০৮। ছয় লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার শহর বিদ্যুত্হীন ছিল তিন দিন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ এলেও শুক্রবার সারা দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও চালু করা সম্ভব হয়নি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। জ্বালানিসংকটের কারণে শহরে যানবাহন চলাচলও সীমিত। বাইরে থেকে কোনো যানবাহন রাঙামাটি শহরে আসতে পারছে না। কবে নাগাদ রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক চালু করা যাবে, তা বলা কঠিন। রাঙামাটি সদরের ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে এরই মধ্যে অনেক দুর্গত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো সংস্কারসহ ১৯টি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশনার শীর্ষে রয়েছে রাঙামাটি। চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকার সঙ্গে রাঙামাটির যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে অবিলম্বে রাঙামাটির মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রথমেই সরবরাহব্যবস্থা নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী সব জেলা ও উপজেলার সঙ্গে রাঙামাটির যোগাযোগব্যবস্থা চালু করে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করতে না পারলে এ দুর্যোগ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে না। আশ্রয়কেন্দ্রে যারা আশ্রয় নিয়েছে, তাদের জন্যও বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। ভূমিধসে আহতদের চিকিৎসায় টাস্কফোর্স গঠন করে ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে।

সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে না পারলে রাঙামাটিতে বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। আশার কথা, সেনাবাহিনীসহ স্থানীয় প্রশাসন এরই মধ্যে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ তত্পরতা শুরু করেছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সমন্বিত চেষ্টায় রাঙামাটিতে আবার প্রাণপ্রবাহ ফিরবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT