English Version
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, বুধবার | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

আর কত এই নৃশংসতা

প্রকাশিতঃ জুন ১১, ২০১৭, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ


নৃশংস ঘটনার একেকটি খবর আমাদের বাকরুদ্ধ করে দিয়ে যায়। রাজধানীর উপকণ্ঠে একঘরে তিন শিশু সন্তান ও মায়ের লাশ প্রাপ্তির খবরের নেপথ্যে যে রহস্যই থাকুক—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সমাজ ক্রমেই নৃশংস থেকে নৃশংসতর হচ্ছে।

গতকালই একাধিক প্রতিবেদনে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের খবর এসেছে। মাগুরার শ্রীপুরে পাটক্ষেতে পাওয়া গেছে কিশোরের গলাকাটা লাশ। কেরানীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এক স্কুল ছাত্রকে সেতু থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্পষ্টতই একশ্রেণির মানুষ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ব্যক্তি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, পুলিশ-প্রশাসন, আইনি ব্যবস্থা—কিছুরই তোয়াক্কা তারা করছে না।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, মূল্যবোধের ক্ষয়সহ নানা কারণে খুনখারাবি বেড়ে যাচ্ছে। সমস্যার মূলে যেতে না পারলে সহজে এ থেকে মুক্তি মিলবে না।

১৬ কোটিরও বেশি মানুষের এই দেশে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কলেবর প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ছোট। তার ওপর রয়েছে কোনো কোনো সদস্যের অসততা। অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সফলতা যেমন বড় একটা নেই, অপরাধ সংঘটনের পরও অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা আশানুরূপ থাকে না। ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের বিচ্ছিন্নতাবোধও অপরাধ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। সীমিত সক্ষমতা বা সামর্থ্য নিয়ে পুলিশের পক্ষে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। সমাজের যেসব মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ, বেপরোয়া, তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। দেশের কয়েকটি এলাকা থেকে এমন ইতিবাচক উদ্যোগের খবর আমরা পাই!

যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে সব কটির বিচার হতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কাজ হচ্ছে, সততার সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন। দায়িত্বটি তাদের পালন করতে হবে। চাঞ্চল্যকার অনেক হত্যাকাণ্ডে দায়ী ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড যেমন দেওয়া হচ্ছে, ঝুলেও আছে অনেক মামলা। প্রতিদিনই বাড়ছে মামলার স্তূপ। ক্ষতিগ্রস্তের ন্যায়বিচার লাভ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে বাড়াতে হচ্ছে বিচারিক সক্ষমতাও। ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু সে চেষ্টা তো থাকতে হবে! অনেক হত্যাকাণ্ডের পরই অপরাধীদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় এবং অভিযোগ তোলা হলে পুলিশ বলে আসামিদের তারা খুঁজে পায় না। নিজেদের পেশাগত দায়িত্বের স্বার্থেই শুধু নয়, সামাজিক নিরাপত্তার প্রয়োজনেও পুলিশকে এই নেতিবাচক জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

 

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT