English Version

বেনাপোল স্থল বন্দরে বেড়েছে আমদানি, কমেছে রাজস্ব আদায়

প্রকাশিতঃ জুন ৫, ২০১৮, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ


আমজাদ হোসেন টিটো (বেনাপোল প্রতিনিধি) – দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আমদানি বাড়লেও রাজস্ব আদায় কমেছে। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের তুলনায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৩ লাখ ৭৬ মেট্রিকটন বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিকটন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১০ মাসে আমদানি হয়েছিল ১০ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিকটন।
এ সময় বেনাপোলে রাজস্ব আদায় কমেছে। প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৩৩৯ কোটি ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে।
কাস্টমস অফিস সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কমে শুল্কমুক্ত পণ্য ও কম শুল্কযুক্ত পণ্য বেশি আমদানি হওয়ায় আমদানির পরিমাণ বাড়লেও রাজস্ব আদায় কমে গেছে।
বেনাপোল কাস্টমসের পরিসংখ্যানে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই মাসে আমদানি হয়েছে এক লাখ ৪ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৬৪ মেট্রিক টন পণ্য, আগস্টে আমদানি হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ১৩৫ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন পণ্য, সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন পণ্য, অক্টোবরে আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন পণ্য, নভেম্বর মাসে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ দশমিক ৮৭ মেট্রিক টন পণ্য, ডিসেম্বরে এক লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন এবং জানুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে এক লাখ ৬২ হাজার ১১৪ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন পণ্য। ফেব্রুয়ারি মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪ মেট্রিক টন পণ্য, মার্চ মাসে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৯ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন পণ্য, এপ্রিলে আমদানি করা হয়েছে এক লাখ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ দশমিক ৯১ মেট্রিক টন পণ্য।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়লেও রাজস্ব আয় কমে গেছে। কম শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হলে রাজস্ব কমবে এটা স্বাভাবিক। কাস্টমসের মূল্য বৃদ্ধি ও বিজিবির হয়রানির কারণে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কমে গেছে। যে কারণে আমদানি বাড়লেও রাজস্ব কমে যাচ্ছে।
আমদানি-রফতানিকারক ইমরান হোসেন জানান, সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরের খুব একটা উন্নয়ন নেই। কাস্টম চলতি বছর থেকে অতিরিক্ত শুল্কহার নির্ধারণ করেছে। যাতে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার পণ্য এনে বন্দরে সময় পেলেও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন। বেনাপোল ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। যে কারণে এখানে রাজস্ব আদায় কমে গেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কমে গেছে। কম শুল্কযুক্ত পণ্য যেমন খাদ্যপণ্য বেশি আসছে। এতে শুল্ক খুবই কম। চালের মাত্র ২ শতাংশ শুল্ক। আর পেঁয়াজে কোনও শুল্ক নেই। যে কারণে আমদানি বাড়লেও রাজস্ব আদায় কমেছে। তবে আগামী মাসগুলোতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করছি।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT