English Version

তানোর খাদ্যগুদাম অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১৪, ২০১৮, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ


তানোর প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদরের সরকারী খাদ্যগুদাম অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়ে আকুন্ঠ দূর্নীতিতে নিমজ্জিত বলে অভিযোগ উঠেছে। তানোর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিফুড) নাজমুল হক এবং খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) তারিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এই দুই কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে ছয় মাসের মধ্যে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও প্রচার রয়েছে। এদিকে তাদের অনিয়ম-দূর্নীতির খবর ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে এই দুই খাদ্য কর্মকর্তার অনিয়ম ও দূর্নীতি ইউপি চেয়ারম্যানদের নজরে এলে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রোববার উপজেলা সমন্বয় কমিটিে সভায় তারা বিষয়টি উঙ্খাপন করেন। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ শওকাত আলীর কাছে তদন্তেরও দাবি জানান। এছাড়াও এসব বিষয় স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধূরীকেও অবহিত করা হয়েছে। তানোরের ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, সম্প্রতি ভিজিডি (ভার্নেবল গ্র্যান্ড ফিডিং) চাল সরবরাহের জন্য উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টির জন্য তানোর সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুজ্জামানকে ডিও (ডেলিভারী অর্ডার) দেয়া হয়। এসব ডিও’র বিপরীতে মোট ৫০ মেট্রিক টন ভিজিডি চাল সরবরাহ করেন তিনি। ভিজিডির বিধিমালা অনুযায়ী সিদ্ধ চাল সরবরাহ করার কথা। কিšত্ত বাস্তবে সরবরাহ করা হয়েছে আতপ চাল। সরকার নির্ধারিত সিদ্ধ চালের মূল্য কেজিপ্রতি ৩৯ টাকা আর আতপ চালের কেজি ৩০ টাকা। ফলে প্রতিকেজি চালে ৯ টাকা করে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা নাজমুল হক ও গুদাম কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা পকেটে পুরেছেন বেেল অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
আবার চলতি মৌসুমে বোরো চাল সংগ্রহে অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানের মোট ৪২৩ মেট্রিক টন চাল (ওএমএস) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বোরো চালের সংগ্রহ শুরু হয় জুলাই থেকে শেষ হয় ৩০ নভেম্বর। আর ওএমএস শুরু হয় সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় ১৫ ডিসেম্বর। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ওএমএস চাল বোরো চাল সংগ্রহ হিসাবে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও কিছু আতপ চাল বোরো চালের খামালে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, ওএমএস চাল ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করেন প্রতিকেজি ৩০ টাকা। কিšত্ত তারিকুজ্জামান ডিলারদের কাছে থেকে প্রতিকেজি কিনেছেন ৩১ টাকায়। আর বোরো চাল কেজিপ্রতি সরকার নির্ধারিত ছিল ৩৪ টাকা। এর মধ্যে শ্রমিক, রাইস মিল মালিক ও দাপ্তরিক খরচ বাবদ আরো দেড় টাকা ব্যয় করেন তিনি। ফলে বোরো সংগ্রহে প্রতিকেজি চালে দেড় টাকা করে লাভ করে দুই কর্মকর্তা প্রায় ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চাল সংকটের সময় সরকার তিন লাখ আতপ চাল বিদেশ থেকে আমদানি করেন। এই চালের মধ্যে তানোর খাদ্যগুদামে ১২০ মেট্রিক টন মজুদ করা হয়। আমদানি করা চাল অগ্রাধিকার ভিত্তিত্বে চলতি ওএমএস মৌসুমে সরবরাহ করে সরকার। এসব চাল ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা হয়। পরে সেগুলোই আবার ডিলারদের কাছে থেকে কিনে নেয়া হয়। এর পর তা বোরো চালের খামালে ঢুকিয়ে সংগ্রহ দেখানো হয়। এর মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই দুই কর্মকর্তা। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংগ্রহ শুরুর আগেই আমণ চাল নিজগুদামসহ ব্যবসায়ীদের কাছে সংরক্ষন করে রেখেছেন। এই গুদামে চলতি আমণ মৌসুমে ৪২২ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের নির্দেশনা থাকলেও পরে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৯২২ মেট্রিক টন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন নতুন ধানের ও বাকিটা পুরানো হাইব্রিড এবং অটো রাইস মিলের ছাটাই। অটো মিলে বাছাইয়ের উচ্ছিস্ট চাল কিনে গুদম ভর্তি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী নতুন ধানের চাল কেনার কথা। বিšত্ত নিয়ম ভেঙ্গে পুরাতন চাল কিনেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এর সঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অথচ ১৫ দিন পর পর গুদাম পরিদর্শনের কথা থাকলেও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তা করছেন না। এমনকি নিয়ম ভেঙ্গে তিনি ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা তারিকুজ্জামানের আবাশিক ভবনে বসবাস করেন নেন আর্থিক সুবিধা বলেও গুদাম চত্ত্বরে প্রচার রয়েছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে তানোর সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) তারিকুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তানোরে যোগদানের পর আমি গুদাম কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়েছি। তাই সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাস্তবে এসবের কোনো ভিত্তি নাই। তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবকিছু মনিটরিং করে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই। এব্যাপারে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিফুড) নাজমুল হক বলেন,তিনি কোনো অনিয়ম-দূর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তার গুদামে পুরাতন চাল কেনা হয়েছে কি না তা দেখার দায়িত্ব খাদ্যবিভাগের টেকনিক্যাল টিমের।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT