English Version

অব্যাহত বৈশ্বিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১২, ২০১৮, ৩:৩১ অপরাহ্ণ


দ্বিপক্ষীয়ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের চুক্তি সই করেছে। এতে দীর্ঘসূত্রতা হতে পারে জেনেও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই টেকসই উপায়ে এ সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা প্রয়োজন। আর মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তালিকা বিনিময় শেষে প্রত্যাবাসনের কাজে যুক্ত করা হবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি সংস্থার দপ্তরে কয়েক ঘণ্টার ওই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরে চুক্তি সইয়ের পর গত দেড় মাসে দুই দেশের মধ্যে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন পররাষ্ট্রসচিব। এ সময় তিনি চুক্তির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

আলোচনার একপর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের সব দায়িত্ব যেন বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। বাংলাদেশ এই সমস্যার একটি যৌক্তিক সমাধানে যেতে সব ধরনের চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াটা শুধু বাংলাদেশের মানবিক দিক নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছারও বহিঃপ্রকাশ। অতীতের যেকোনো সময়ের সঙ্গে এবারের রোহিঙ্গা–ঢলের কোনো তুলনা হয় না। ফলে এ সমস্যার সমাধান কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। এমন পরিস্থিতিতে এবার সাড়ে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অনেক বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছে। কাজেই এ সমস্যার টেকসই সমাধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাত যাতে দুর্বল না হয়, সেটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিবেচনায় নিতে হবে। মূল বিষয়টি হচ্ছে, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

নিবন্ধনের সমন্বয়

নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের তালিকার সমন্বয় কীভাবে হবে, তা ছিল জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য
সংস্থার বড় আগ্রহের বিষয়। কারণ, পাসপোর্ট ও বহির্গমন বিভাগ এরই মধ্যে নতুন–পুরোনো মিলিয়ে ৯ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করেছে। আবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) রোহিঙ্গাদের পরিবারভিত্তিক নিবন্ধন করেছে। ওই তালিকায় ১ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারের ৭ লাখ ৬১ হাজার রোহিঙ্গার নিবন্ধন হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ওই নিবন্ধন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হয়নি। এ বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তালিকার সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের তালিকা যাচাই করে দেখা হবে। তালিকায় কোনো অসংগতি থাকলে সেটি ঠিক করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর অসংগতি দূর করে চূড়ান্ত তালিকা দেওয়া হবে মিয়ানমারকে।

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা

মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের চুক্তি সইয়ের পর পররাষ্ট্রসচিবদের নেতৃত্বে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) করা হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি মাঠপর্যায়ের চুক্তিও চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসনের কাজে ইউএনএইচসিআরসহ জাতিসংঘের কোনো সংস্থাকে এখনো যুক্ত করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গাদের তালিকা পাঠানোর পর দেশটি ওই তালিকা চূড়ান্ত করে বাংলাদেশকে ফেরত দেবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তালিকা যাচাই–বাছাই শেষে প্রত্যাবাসনের জন্য ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করা হবে। তখন থেকেই প্রত্যাবাসনের কাজটি বাস্তবায়িত হবে জাতিসংঘের মাধ্যমে। এ সময় তালিকা থেকে বাছাই করে রোহিঙ্গাদের অন্তর্বর্তীকালীন শিবিরে সাক্ষাৎকার নেবেন ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা। এরপর রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে পাঠানো হবে রাখাইনে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা

গত বছরের আগস্ট থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসকে বিবেচনায় নিয়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গার জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ৩৪৪ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির পর রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা কী, সেটা গত বুধবারের সভায় জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক সহায়তার কথা সরকার বিবেচনায় নেয়নি। নিজের সাধ্য অনুযায়ী মিয়ানমারের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে রাখাইনে ফেরত পাঠানো। রাখাইনে ফিরে যাওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

নিরাপত্তার ঝুঁকি

আগস্ট থেকে রোহিঙ্গারা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তাদেরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার ঝুঁকির প্রশ্নটি সামনে এসেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাকে অনুরোধ করেছে, মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় অনাহূত কোনো তৎপরতা নজরে এলে তারা যেন দ্রুত তা সরকারকে জানায়। রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেটা প্রতিহত করতে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT