English Version

মানব পদাবলি আমার পরিপূর্ণ জীবনের আরশি’

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ১২, ২০১৮, ৩:১৩ অপরাহ্ণ


আলতাফ শাহনেওয়াজ: মানব পদাবলি কবিতার বইয়ের জন্য এই বয়সে এসে পুরস্কার পেলেন। কেমন লাগছে?

মোহাম্মদ রফিক: পুরস্কার সেই অর্থে খুব বড় কিছু নয়। তবে নিঃসন্দেহে এটি একটি তৃপ্তির বিষয়। তা ছাড়া এই বয়সে এসে পুরস্কার পেতে কার না ভালো লাগে! বর্ষসেরা নির্বাচিত হওয়া তো একটি ব্যাপার। কেননা, তরুণেরা এখানে থাকেন। এই বয়সে এসে তরুণদের সঙ্গে এক কাতারে থাকতে পারছি—এটি দারুণ বিষয়। আমি বেশ উপভোগ করেছি।

আলতাফ: সমকাল-চেতনার সঙ্গে ইতিহাস ও পুরাতত্ত্বের বন্ধনে মানব পদাবলিতে নতুন বিন্যাসে উঠে এসেছে আবহমান বাংলা, উঠে এসেছে লোকিক বাংলার দুই চরিত্র বেহুলা ও কপিলা। এখানে আছে আপনার আত্মদর্শনও। অনেকটা একটি আখ্যানের ঢংয়ে লিখেছেন বইটি। কেন?

রফিক: আমার মনে হয়, এখনকার এই বিধ্বংসী পৃথিবীতে একটিমাত্র মৌলিক অনুভূতি মানুষকে ধ্বংস থেকে ফেরাতে পারে—সেটি হলো ভালোবাসা, মানুষের প্রতি মানুষের মানবিক প্রেম। এই ধারণা থেকেই আমি একের পর এক কবিতা লিখে গেছি।আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—আমাদের আদি কবিদের ভাবনা। মধ্যযুগের কবিরা সাধারণত কোনো দেবীমূর্তি বা অলৌকিক দেবীর ওপর ভর করে কবিতা লিখতেন, লিখতেন একটিই আখ্যান। মানব পদাবলিতে আমি এই ধারণাকে কাজে লাগিয়েছি। ফলে পুরো বইয়ে খণ্ড খণ্ড কবিতা থাকলেও সেগুলোর গন্তব্য ছিল একটি আখ্যানের দিকে। এই সব বাস্তবতায় এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমার কবিতায় ধরা দিয়েছে লৌকিক বেহুলা বা কপিলা। আর বেহুলা-কপিলা শেষ অব্দি তো মানুষ। মানুষকে আমি এখানে রূপক হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছি। আবহমানকাল ধরে বাংলার মানুষের যে সংবেদনশীল অনুভূতি, তাকে উসকে দিতে চেয়েছি। বলতে চেয়েছি, মানুষ, তুমি অবিনশ্বর নও, তাই তোমার অনুভূতির কাছে ফেরো, তাকাও তোমার ঐতিহ্যের দিকে, নিজেকে জিজ্ঞেস করো, কোথায় আজ দাঁড়িয়ে আছ তুমি।

আলতাফ: গত শতকের ষাট দশকের সতীর্থ অন্যান্য কবির মতো কবিতায় আপনারও প্রধান অবলম্বন স্মৃতি। এই স্মৃতি যেমন আপনার কীর্তিনাশা, কপিলা, গাওদিয়া কাব্যগ্রন্থের ভিত্তিভূমি, তেমনি মানব পদাবলিরও। তাহলে এ কবিতার বইয়ের বিশিষ্টতা তথা স্বাতন্ত্র্য কোথায়?

রফিক: ভালোই বলেছ, স্মৃতি আমাদের কবিতার বড় অনুষঙ্গ। অবশ্যই স্মৃতি আমার কবিতায় নানাভাবে আসে। যদি বলি কেন আসে? উত্তরটি হয়তো এভাবে দেওয়া যাবে, জীবনের প্রধান সম্বলই তো স্মৃতি। ব্যর্থতার স্মৃতি, পাওয়ার স্মৃতি, না পাওয়ার স্মৃতি—সব মিলিয়েই তৈরি হয় জীবনের পটভূমি, কবিতারও। তবে স্মৃতিকাতরতা বলতে যদি শৈশব ধরো, তাহলে আমি বলব, যার শৈশব নেই, অতীত নেই, তার কিছুই নেই।

এবার স্বাতন্ত্র্য প্রসঙ্গে বলি। আদতে কবিতার স্বাতন্ত্র্য তো জোর করে আসে না। কবিতার ভেতর দিয়েই গড়ে ওঠে কবিতার স্বাতন্ত্র্য। মানব পদাবলির কবিতাগুলো যখন লিখেছি, ছিলাম ঘোরগ্রস্ত। মাত্র ১৫ দিনে লেখা হয়েছে কবিতাগুলো। তখন স্বাতন্ত্র্যের কথা সেভাবে চিন্তা করিনি। তবে লেখা শেষ করার আগমুহূর্তে মনে হয়েছে, দীর্ঘ জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত বোধ আমাকে একধরনের বিপন্নতার ভেতরে নিক্ষেপ করেছে। একে কাব্যিক বিপন্নতাও বলা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই কবিতাটি হয়তো আমার নিজের জীবনেরই একরকম আলেখ্য, জীবনালেখ্য হয়ে উঠেছে। আরেকটু বললে বলা যাবে, মানব পদাবলি আমার পরিপূর্ণ জীবনের আরশি। এখানে যেটি বিশদ করে আছে—আগেই বলেছি—সেটি ভালোবাসা। আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসা মানব সত্তার প্রাণ, মানুষ যে পৃথিবীতে আজও টিকে আছ—ভবিষ্যতেও যদি টিকে থাকে—একটি কারণেই টিকে থাকবে তা হলো, ভালোবাসা। বাংলা সাহিত্যের দিকে তাকাও, বৈষ্ণব পদাবলির মূল সুর কী? ভালোবাসা। শ্রীচৈতন্য আমাদের এই অঞ্চলে যে জন্য আদৃত, তা অবশ্যই তাঁর ভালোবাসাবোধের কারণে। লালনের ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়। আবার দেখো, যেসব মহৎ বাঙালি রবীন্দ্রনাথকে পড়েছেন, তাঁরা ভালোবাসার বোধকেই সঞ্চারিত করেছেন মানুষের ভেতরে। মানুষের মধ্যে কিন্তু এটি ছিলই, তবে দুই শ বছরের ইংরেজ শাসন, ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা, বিশেষত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত—এগুলো আমাদের মূল জায়গা, ভালোবাসার জায়গা, পরস্পরের লগ্ন হয়ে থাকার জায়গাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এরপর থেকেই আমাদের মধ্যে যত রকমের ক্লেশ, ঈর্ষা আর ধ্বংসাত্মক বোধ—এসব তৈরি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। ফলে ভালোবাসার কাছে মানুষকে ফিরতেই হবে।

আলতাফ: ছিলেন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক কর্মী। লেখালেখির তাড়না পোক্ত হলো কবে থেকে?

রফিক: আমার লেখালেখির শুরু নবম শ্রেণিতে, আমাদের গ্রাম বৈটপুরে। ওই সময় দেখলাম, আমি যা লিখি, সেগুলো কবিতার মতো হয়ে যায়! তো, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকে জীবনানন্দ দাশ আমাকে দখল করলেন। পড়ালেখার সূত্রে দেশের নানা অঞ্চলে থেকেছি, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মিশেছি। এভাবেই বামপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়লাম। উচ্চমাধ্যমিকের পর যখন রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়েছি, ছাত্র ইউনিয়ন করতাম, আইয়ুব খানের আমলে রাজশাহী কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ছিলাম আমি। সে সময় আমার একদিকে ছিল রাজনীতি, অন্যদিকে সাহিত্য। তখন আবার জেলও খাটছি। রাতভর বই পড়তাম, ভোরে উঠে রাজনীতি করতাম—এই ছিল রুটিন। পরে ষাট দশকের মধ্যভাগে মস্কো ও চীন—এই দুই শিবিরে যে মুহূর্তে পূর্ব বাংলার সমাজতান্ত্রিক কর্মীরা ভাগ হয়ে গেলেন, এই ভাগ আমার ঠিক সহ্য হলো না, আমার বন্ধুবান্ধব দুই শিবিরেই ছিলেন। ফলে একধরনের হতাশা থেকে রাজনীতি ছেড়ে দিলাম। বুঝে ফেললাম, সব রাজনীতিই অমানবিক। তারপর ঠিক করলাম, পুরোপুরি লেখালেখিতে মনোযোগ দেব। তত দিনে আমি ঢাকায় চলে এসেছি। যুক্ত হয়েছি কণ্ঠস্বর ও স্বাক্ষর-এর সঙ্গে।

১৯৭০ সালে বের হলো আমার প্রথম কবিতার বই বৈশাখী পূর্ণিমা। তবে তুমি বৈশাখী পূর্ণিমা আর ধুলোর সংসারে এই মাটি—আমার প্রথম ও দ্বিতীয় বইটি যদি পড়ো, দেখবে একদম আলাদা। এই যে আলাদা হলাম, এটি ঘটল ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের কারণে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ আমার ভেতরে আত্মবিশ্বাস এনে দেয়, যা আগে ছিল না। তখন মনে হয়েছিল, আমার মাটি-জল-হাওয়া আমি খুঁজে পেয়েছি। এখান থেকেই নতুনভাবে আমার অভিযাত্রার শুরু। এরপর কীর্তিনাশা থেকে তো ঘুরতে শুরু করল মোড়।

আলতাফ: মানব পদাবলিতে আপনি বলেছেন ভালোবাসার কথা। একজন কবি তাঁর জীবনের ব্যক্তিগত প্রেমকে কীভাবে লেখায় রূপান্তরিত করেন; আপনার ক্ষেত্রে বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে?

রফিক: মানুষের সবচেয়ে বড় মৌলিক অনুভূতি হলো ভালোবাসা। তুমি যাকে ভালোবাসছ, সে যে একটি নির্দিষ্ট পাত্রের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে, অনেক ক্ষেত্রে এমন না-ও হতে পারে। আর কবির ভালোবাসা তো ওই নির্দিষ্ট পাত্র থেকে বের হয়ই, বেরিয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হয়। এভাবেই ঘটে রূপান্তরের খেলা।

এ জীবনে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেম হয়েছে আমার। যখন হতাশায় ভুগেছি, ব্যর্থতাবোধে মুষড়ে পড়েছি, তাঁরা তখন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। বলেছেন, ভেঙে পড়ো না, তুমি পারবে। এই পারাটিই কিন্তু মূল ব্যাপার। আমি সব সময় ভালোবাসাকে উপভোগ করেছি, ভেগে যাইনি। তাই যাঁদের সঙ্গে প্রেম ছিল, তাঁরা সবাই এখনো আমার ভালো বন্ধু।

আলতাফ: আপনি প্রায়ই বলেন, ব্রিটিশ উপনিবেশে শেষ হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘকাল উপনিবেশিত থাকায় আমাদের মনোজগতে যে উপনিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটি শেষ হয়নি। এ কথা মনে রেখে এবার আপনার একটি বৈপরীত্যের কথা বলি: পাশ্চাত্যের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কবিতায় আজীবন দেশীয় উপকরণ খুঁজলেন আপনি, অনুসন্ধান করলেন লুপ্ত বাংলার মুখ, কিন্তু লেখার আঙ্গিক হিসেবে বেছে নিলেন পাশ্চাত্যের ফর্মকেই…

রফিক: হ্যাঁ, এটি আমি পারিনি, এটি আমি তোমাদের জন্য রেখে গেলাম। পৃথিবীর সবগুলো সাহিত্য যদি বিবেচনা করি ইতালি, জার্মান, স্প্যানিশ—তাদের কবিতার বড় ভিত্তি হলো লোকসংস্কৃতি; কিন্তু আমি যখন শুরু করেছিলাম, সে সময় এই বোধ আমার মধ্যে আসেনি। বোধটি এসেছে এমন একসময়ে, যখন আমার একটি পরিচয় তৈরি হয়ে গেছে। সে সময় আর আমার পক্ষে ওখান থেকে ফেরা সম্ভব হয়নি। তবে তোমাদের বলি, বাঙালির নিজস্ব নন্দনতত্ত্বের কাছে কবিতাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, বাউল—বাঙালি নন্দনতত্ত্বের এই প্রকরণগুলো আমি পদাবলির মধ্যে—বিশেষত দুটি গাথাকাব্য ও মানব পদাবলির মধ্যে—যতটা আত্তীকৃত করতে পেরেছি, কবিতায় ততটা পারিনি। তাই ভাবি, আমি হয়তো একটি সিঁড়ি রচনা করে গেলাম, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা আসবে, তারা এই সিঁড়িকে প্রসারিত করে তুলবে।

আলতাফ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে দীর্ঘকাল শিক্ষকতার পর আপনি এখন ঢাকাবাসী। জীবনের এই পর্বটি কেমন লাগছে?

রফিক: সারা জীবনই তো আমার নানা স্থানে ভ্রমণে ভ্রমণে কাটল। তবে জাহাঙ্গীরনগর আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এখানে আমি নিরবচ্ছিন্ন কবির জীবনযাপন করতে পেরেছি। চাকরি থেকে অবসর নিয়ে পাকাপাকিভাবে ঢাকায় আসার পর কিছুদিন কিছু লিখতে পারিনি। প্রচণ্ড বিষণ্নতায় ভুগছিলাম। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলাম, সুস্থ হলাম। এরপর হঠাৎই একদিন মনে হলো, এভাবে আর চলতে পারে না। আমাকে তো প্রমাণ করতে হবে, আমি টিকে আছি, বেঁচে আছি। এ সময় এক রাতে আমাকে যেন আক্রমণ করল বেহুলা। সকালে উঠে কাউকে কিছু না বলে, না ভেবে বসে পড়লাম খাতাকলম নিয়ে। ১৫ দিনে দুটো বই লিখে শেষ করেছি। কবিতাগুলো কীভাবে কীভাবে যেন আমার কাছে এসেছিল। তারপর থেকে লিখছি। এখন মন্দ লাগছে না সময়টি।

আলতাফ: ফেসবুকে বেশ সক্রিয় আপনি। এই সময়ের কবিরা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হরহামেশায় তাঁদের কবিতা প্রকাশ করছেন। এই যে প্রকাশ মাধ্যমের পরিবর্তন, আপনার কাছে এটি কেমন লাগে?

রফিক: খারাপ না, আমার কাছে ভালোই লাগে। হোক না, হতে হতে একটি জিনিস দাঁড়াবে। কোনো কিছুর সম্ভাবনা প্রথমেই উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এখন অনেকে কবিতা লিখছেন, নিজের ফেসবুক বা অন্তর্জালের অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করছেন, এটি ভালো ব্যাপার। সবাই লিখুক। এর মধ্য যাঁর সংগ্রাম করার শক্তি থাকবে, তিনি টিকে থাকবেন। আমি মনে করি, কবিকে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হয়। তুমি যদি সংগ্রাম করে টিকতে পারো, কবিতা হবে, না হলে হবে না।

একটা কথা বলি, জীবনানন্দ বলেছেন না, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।’ আমি কিন্তু এর উল্টো ধারণায় বিশ্বাসী। আমি মনে করি, বাংলাদেশের প্রত্যেকেই কবি, প্রত্যেকের ভেতরেই কবিত্বের সম্ভাবনা আছে। তবে সমাজ, রাজনীতি, রাষ্ট্র—এই তিনে মিলে মানুষের ভেতরের কবিত্বকে ধ্বংস করে দেয়। কবি বা কবিত্ব অর্থ কী? কবিত্ব হলো স্বাধীনতা। কবিতা মানে মুক্তির চেতনা, বিদ্রোহ, মানুষে মানুষে সম্মিলন। এই চেতনাকে সমাজের অন্য সবাই ধ্বংস করতে চায়। আর যখন মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির চেতনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তার ভেতরের কবিত্বও মরে যায়; সে সময় সে একরকম ভাগাড়ে পরিণত হয়।এরপর এই মানুষগুলো যেমন কবিতাবিমুখ হয়ে ওঠে, একইভাবে কবিতাও তাদের ছেড়ে যায়। খেয়াল করলে দেখবে, এরা কবিতা পড়ে না। কারণ, কবিতা মানুষের ভেতরে উত্তাপ তৈরি করে, কবিতা পড়লে উত্তেজনা জাগে। তুমি প্রথমে জিজ্ঞেস করছিলে না, প্রথম আলো বর্ষসেরা পুরস্কার পেয়ে আমার কেমন অনুভূতি হয়েছে? আমার মনে হয়েছে, এখনো আমি ভাগাড়ের সামগ্রীতে পরিণত হইনি, স্পন্দনসহ বেঁচে আছি।

আলতাফ: আপনি কবিতা লিখছেন প্রায় ছয় দশক ধরে। দেখেছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং স্বাধীন বাংলাদেশের দীর্ঘ সেনা শাসন; আবার বিশ্বব্যাপী সাম্যবাদের উত্থান-পতন—এও আপনার দেখা। এই যে বিচিত্র তরঙ্গের ভেতর দিয়ে জীবন পার করলেন, কবিতা লিখলেন, পেছন ফিরে দেখলে এখন কী মনে হয়?

রফিক: আমার একটি মহাকবিতার বই বের হচ্ছে এবারের বইমেলায়, এই স্বপ্ন এই ভোর প্রভাতের আলো নামে। ওখানে আমি ধরতে চেয়েছি আমার জীবনের বৈচিত্র্যময় তরঙ্গগুলো। পৃথিবীতে আমি যে মানসিক একটি অভিযান করে গেলাম, এর একটি আলেখ্য—আমার জীবনযাত্রার মানসিক প্রতিরূপ পাওয়া যাবে এই বইয়ে। ডিভাইন কমেডিতে দান্তে লিখেছিলেন ‘ইনফার্নো’। এটি তাঁর মানসিক অভিযাত্রারই কাহিনি। তিনি ব্যবহার করেছিলেন রূপক। আর এই বইয়ে আমি ব্যবহার করেছি চিত্রকল্প

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT