English Version

রাষ্ট্রায়ত্ত মিলের পাট কেনায় দুর্নীতি হচ্ছে

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৬, ২০১৮, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ


বছরের পর বছর লোকসান গুনছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে পাটকলগুলো শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে পারছে না। বকেয়া মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকেরা। সাত দিন ধরে খুলনার আট পাটকলের উৎপাদন বন্ধ। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের কার্যকরী আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শুভংকর কর্মকার ও শেখ আল-এহসান
হঠাৎ করে পাটকলশ্রমিকেরা কঠোর আন্দোলনে নামলেন কেন? আগেও তো পাটকলগুলোতে বেশ কয়েকবার সাপ্তাহিক

মজুরি বকেয়া পড়েছিল। তখন শ্রমিকেরা এতটা কঠোর হননি।

সোহরাব হোসেন: আগেও বহুবার শ্রমিকের মজুরি বকেয়া পড়েছিল। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে কর্তৃপক্ষ সেগুলো পরিশোধে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মজুরি বকেয়া থাকছে। একটি পাটকলে ১২ সপ্তাহের মজুরি বাকি আছে। কয়েকটিতে আট-নয় সপ্তাহের। শ্রমিকেরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে বর্তমান বাজারে চলতে কষ্ট হয়। তারপর সেই মজুরিও না পেলে বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নামেন শ্রমিকেরা। গত বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) যদি চলতি মজুরি দেওয়া হতো, তাহলে পাটকলগুলো বন্ধ হতো না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন পাটকলের পাটপণ্য বিজেএমসির মাধ্যমে সুদানে রপ্তানি করেছে গোল্ডেন ফাইবার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য গত নভেম্বরে সেই প্রতিষ্ঠানটি বিজেএমসির সঙ্গে চুক্তি করে। তখন বিজেএমসির চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছিলেন, রপ্তানির টাকা পেলেই শ্রমিকদের বকেয়া দেবেন। গত ১১ ডিসেম্বর বিষয়টি নিয়ে পাট শ্রমিক লীগের সঙ্গে চেয়ারম্যানের একটি চুক্তি হয়। তবে সম্প্রতি বিজেএমসি থেকে পাটকলগুলোতে একটি চিঠি আসে। সেখানে নির্দেশনা ছিল, রপ্তানির টাকা এলে যন্ত্রপাতি ও গ্র্যাচুইটির বকেয়া অর্থের ৫০ শতাংশ এবং কাঁচা পাটের বকেয়া ৭০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। সেখানে মজুরি, বেতন ও বকেয়ার কথা বলা ছিল না। সেই চিঠি শ্রমিকদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন আপনারা। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হলে তো মজুরি বাড়বে। তখন কী অবস্থা হবে। এখনই তো পাটকলগুলো মজুরি দিতে পারছে না।

সোহরাব হোসেন: সরকার অনেক খাতে ভর্তুকি দেয়। আমরা পাটকে কৃষিভিত্তিক শিল্প করার দাবি করেছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে পাট দিবসে সেই ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কৃষকেরা যে ভর্তুকি পান, সেটি আমরা পাচ্ছি না। সেটির ব্যবস্থা করতে হবে। মজুরি কমিশন বাস্তবায়িত হলে যে মজুরি বাড়বে, সে জন্য ভর্তুকি দেওয়া হোক। এ ছাড়া কাঁচা পাট ও যন্ত্রপাতির কেনার জন্য পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি অর্থবছরের বাজেটেই বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT