English Version

অসম্ভব মানচিত্র

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ৮, ২০১৭, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ


ব্রিটিশ লাইব্রেরির মানচিত্র বিভাগের প্রধান পিটার বারবারকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মানচিত্র কী? তিনি বলেছিলেন, মানচিত্র হলো বিশাল আকৃতির মিথ্যাচার। যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি এক-অনুপাত-এক স্কেলের মানচিত্র তৈরি করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি মানচিত্র আসলে কোনো না কোনোভাবে সাবজেক্টিভ, মানে ওটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার।

কথা ঠিক। মানচিত্র তৈরি মানেই কিছু জিনিস বেছে নিয়ে কিছু জিনিস ফেলে দেওয়া। কারণ আপনি একটা বর্তুলাকার জিনিসকে একটা সমতল পৃষ্ঠার ওপর সাজিয়ে দেখাচ্ছেন। তা করতে গিয়ে নানান কিছু বিকৃত করতে হচ্ছে আপনাকে।

সেদিক থেকে দেখলে মানচিত্র তৈরির সঙ্গে কবিতা অনুবাদ করার অনেক মিল পাওয়া যাবে। কবিতা অনুবাদ মানেই হলো এক ভাষার তল থেকে অর্থকে অন্য একটি ভাষার তলে স্থাপন করা। তা করতে গিয়ে মানচিত্রের প্রক্ষেপণের মতোই সংকটে পড়েন অনুবাদক। সবকিছু অক্ষত রেখে কবিতাকে কখনোই ভাষান্তর করা যায় না। একটা ভাষার এমন কিছু অন্তর্গত বৈশিষ্ট্য থাকে, যেগুলো ঠিক অনুবাদযোগ্য নয়। তা ছাড়া উপমা-উৎপ্রেক্ষাগুলো ঠিক রাখবেন, নাকি ছন্দ ঠিক রাখবেন—এই ধন্দে পড়তে হয় অনুবাদককে। অনুবাদ কবিতা সে কারণে মূল কবিতার একটা অপভ্রংশ মাত্র।

মানচিত্রও একধরনের বিকৃত রিপ্রেজেন্টেশন।

পৃথিবীর যে মানচিত্রটা এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়, যেটা অফিস-আদালতে টাঙানো থাকে এবং স্কুল-কলেজে পড়ানো হয়, সেটা আসলে পৃথিবীর অনেকগুলো বিকল্প মানচিত্রের একটা। অন্য মানচিত্রগুলোকে হটিয়ে চার শ বছর ধরে এটা এমনভাবে চালু হয়ে গেছে যে পৃথিবীর ভূখণ্ডগুলোর সত্যিকার চেহারা হিসেবে এটাই আমাদের কল্পনায় স্থায়ী আসন গেড়েছে। কার্টোগ্রাফি বা মানচিত্রবিদ্যায় পৃথিবীর এই মানচিত্রটিকে বলে মার্কাটরস প্রজেকশন। বাংলায় বলা যায় মার্কাটরের প্রক্ষেপ। ফ্লেমিশ মানচিত্রবিশারদ জেরারদুস মার্কাটর ১৫৬৯ সালে যখন এই মানচিত্রটি তৈরি করেন তখন এটার মূল লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর অক্ষাংশ আর দ্রাঘিমাংশের রেখাগুলোকে গ্রাফচিত্রের মতো সমকোণে পরস্পরছেদী সরলরেখা হিসেবে তুলে ধরা। মার্কাটর এটি তৈরি করেছিলেন ইউরোপীয় নাবিকদের সমুদ্রযাত্রার সুবিধার কথা চিন্তা করে। আর তা করতে গিয়ে তিনি ভূখণ্ডগুলোর আপেক্ষিক আয়তনকে বিকৃত করেছেন। বাণিজ্য আর উপনিবেশবাদী স্বার্থ চরিতার্থই এই বিকৃতির অভিমুখ ঠিক করে দিয়েছে। উত্তর গোলার্ধের ভূখণ্ডগুলো এখানে বড় করে দেখানো হয়েছে দক্ষিণ গোলার্ধের ভূখণ্ডগুলোর চেয়ে। তা ছাড়া চীন ও ভারতকে ছোট দেখিয়ে ইউরোপকে আরেকটু বড় করে দেখানোর তাগিদের পেছনে ছিল প্রভু মনোভাবের তুষ্টিলাভ। মার্কাটরের এই মানচিত্র এ কারণেই অন্যগুলোকে টেক্কা দিয়েছে।

প্রকাশকঃ
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক:
খন্দকার আমিনুর রহমান

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার, (ভি আই পি) রোড- নয়া পল্টন ,ঢাকা- ১০০০।
ফোন: ০২-৯৩৩১৩৯৪, ৯৩৩১৩৯৫, নিউজ রুমঃ ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
ই-মেইল: khoborprotidin24.com@gmail.com, khoborprotidin24news@gmail.com

.::Developed by::.
Great IT